জিয়ার ফিরে আসা

ছিলেন নিখাঁদ ফাস্ট বোলার। বল হাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার কীর্তি জাতীয় দলের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইনজুরি কেড়ে নিল তার বলের গতি। দুই মৌসুমের জন্য প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছিলেন জিয়াউর রহমান। অবশেষে আবার ফিরলেন। এবার আর ফাস্ট বোলার হিসেবে নয়; এবার ক্রিকেটে ফিরলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। ব্যাটিংটার এমনই উন্নতি হল যে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই কদর তৈরি হয়ে গেল। সেই ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ারের সোনালী সময় পার করে এসে জাতীয় দলে ডাক পেলেন জিয়া। কিন্তু ব্যাটে-বলে কোনোভাবেই নিজেকে প্রমাণ করতে পারছিলেন না। এমনকি এই প্রথম টেস্ট চলা অবস্থায় প্রশ্নই উঠে গিয়েছিল—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিয়ার ভূমিকাটা কী? অবশেষে জিয়া এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন। না, ব্যাট হাতে নয়; সেই পুরোনো রূপে যেন ফিরে গেলেন জিয়াউর রহমান। ক্যারিয়ার শুরুর সেই সময়ের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বলার মতো কাজটা বল হাতেই করলেন। আবার জিয়া দাবি করতে পারেন—তিনি একজন পেস বোলার। অন্তত ৬৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে জয় এনে দেয়ার পর জিয়ার এমন দাবি অমূলক না। আগেই বলা হয়েছে, খুলনার ছেলে জিয়ার শুরুটা নিখাঁদ পেসার হিসেবে। অভিষেকের পর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পরপর দুই মৌসুম বল হাতে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। হ্যাঁ, ব্যাটও করতেন; তবে সেটা আর সব লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মতোই—বড় বড় কিছু ছক্কা মারতে পারতেন! এই ছক্কা মারতে পারা এবং মূলত দারুণ কার্যকর বোলিং করতে পারার জন্য ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ডাক পান জিয়া; যদিও তখন জাতীয় দলের হয়ে খেলা হয়নি। কিন্তু বছর বিশেক বয়সের এই তরুণ তখন নিশ্চয়ই দীর্ঘ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু ওই বিশ্বকাপের পরপরই ডান হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে মাঠ থেকে ছিটকে যান জিয়া। অস্ত্রপচার ও দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু চিকিত্সকরা বলে দেন, এ অবস্থায় বোলিং চলবে না। তাহলে? বোলিং করতে না পারা জিয়াকে দলে নেবে কে! এ অবস্থায় জিয়ার ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু জিয়া হার মানার ছেলে নন। ব্যাটিংটা শিখে নিলেন। এবং অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই সে বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেললেন ওল্ড ডিওএইচেসের হয়ে। কালক্রমে জিয়া বোলিংটাও শুরু করলেন। কিন্তু একসময় যে জাতীয় দলে ঢুকেই পড়েছিলেন; সেখানে যেন সবাই ভুলেই গেল জিয়াকে। অবশেষে আবার আলোচনায় এলেন জিয়া; ব্যাটিং দিয়ে। নতুন শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ১৪৩ বলে ১৫২ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৫ ছক্কা মেরে প্রথম শ্রেণীর বিশ্বরেকর্ড (১৬টি) প্রায় ছুঁয়েই ফেললেন। এবার ব্যাটিং অলরাউন্ডার জিয়া ছয় বছর পর আবার জাতীয় দলে এলেন। টি-টোয়েন্টির অভিষেক ম্যাচে মোটামুটি ভালো করলেও ওয়ানডে ও টেস্টের শুরুটা হল শূন্য রান করে; বল হাতেই ছিলেন তথৈবচ। তাহলে কী জিয়া এভাবেই শেষ হয়ে যাবেন? একটা লড়াইয়ের পরিণতি এমন করুণ হবে! না, জিয়া নিশ্চয়ই হাল ছাড়েননি। হারারের অভিষেক টেস্টের শেষ ইনিংসটার জন্য যেন জমিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। অবশেষে বোঝালেন—সেই জিয়া ফুরিয়ে যায়নি!