সৌদি আরবে নিহত হাফেজ মোহাম্মদ উসমান গনির (৪০) পরিচয় পাওয়া গেছে। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে। তার বাবা মৃত নুরুল ইসলাম। ওসমান তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।
দাম্মাম প্রবাসী চট্রগ্রাম জেলার রাউজান থানার সোহরাব হোসেন (মাসুদ) মোবাইল ফোনে জানান, দির্ঘদিন যাবত সৌদিআরবে বৈধভাবে বাস করে আসলেও গত দুই বছর ধরে কফিলের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় কফিল তার কোনো খোঁজ খবর নিতেন না। ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে অবৈধভাবে সৌদিতে বাস করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার প্রথম রমজানের সেহেরি খেয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর হাফেজ মোহাম্মদ উসমান গনি বুকে ব্যথা নিয়ে ছটপট করতে থাকলে পাশে থাকা রুমমেটের ঘুম ভেঙ্গে যায়। রুমমেট কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন প্রবাসী উসমান গনি।
সোহরাব হোসেন মাসুদ আরও জানান, বর্তমানে নিহতের লাশ দাম্মাম চোকবা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং লাশ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। লাশ দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে দূতাবাসের অফিসার ফয়সাল হোসেন জানিয়েছেন। এদিকে উসমানের কপিল উসমানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহতের পাসপোর্ট ফেরত দেয়া সহ সব ধরনের সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আগামীতে ট্যাক্স না দিয়ে কেউ থাকতে পারবে না: অর্থমন্ত্রী
আরেক প্রবাসী নুরুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ দেশে পাঠাতে প্রায় ৮ হাজার রিয়াল দরকার আর এয়ারপোর্টে গেলে সরকার কর্তৃক দাফনের খরচ বাবত ৩৫ হাজার টাকা দিবে বলে জেনেছি। তাই আমরা প্রবাসীরা ৮ হাজার রিয়াল সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছি।
উত্তর মাদার্শার চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন চৌধুরী মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নিহত হাফেজ ওসমান গনিকে সৌদি আরবেই দাফন করার ব্যাপারে পারিবারিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বহু প্রবাসীর মৃত্যু হচ্ছে। মরুভূমির উত্তপ্ত গরম। অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা মানসিক চিন্তায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেফাক/বিএএফ