চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মা মাছরা ডিম ছাড়ছে না। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার গড়দুয়ারা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার ডিম সংগ্রহকারীর অধীর প্রতীক্ষার প্রহরও কাটছে না।
হালদা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুয়েকদিনের মধ্যে বজ্র-বৃষ্টিপাত না হলে হালদায় মা মাছদের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। এই মৌসুমে ডিম ছাড়ার জন্য আগামী জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। সর্বশেষ ডিম ছাড়ার সময়টি হচ্ছে চলতি মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। তাতেও যদি মাছরা অনুকূল পরিবেশ না পায় ডিম ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে জুন মাস পর্যন্ত।
তারপরও মা মাছরা ডিম না ছাড়লে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে হালদা রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, হালদা গবেষণা ল্যাবের প্রধান চবি শিক্ষক প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, মা মাছদের শরীরে ডিমগুলো বিলীন হয়ে যাবে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রতিবছর হালদায় প্রাকৃতিক কার্প জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহকারী ও পোনা উত্পাদনকারীরা।
এদিকে গত ৪ মে রাতে এবং ৫ মে সকালে হালদা নদীতে রুই-কাতল-মৃগেল ও কালিবাউস প্রজাতির বিশাল বিশাল মা মাছরা নমুনা ডিম ছেড়েছিল। ফলে ডিম সংগ্রহকারী ও পোনা উত্পাদনকারীরা তাদের সরঞ্জাম ও ৫/৬শ নৌকা নিয়ে তখন থেকেই ডিম সংগ্রহের জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানায়, চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কোনোই সম্ভাবনা নেই। এই সংবাদেও হালদায় ডিম সংগ্রহের উত্সব নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলো।
হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূল না থাকায় নমুনা ডিম ছাড়া সত্ত্বেও মা মাছদের ব্যাপকভিত্তিক ডিম ছাড়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।