ইউক্রেইনে ৬০ দিনের জন্য ‘মার্শাল ল’ বা সামরিক আইন জারি করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো। তবে আদেশটি কার্যকর হওয়ার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে।
প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে সোমবার একথা জানানো হয়েছে। রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ার কের্চ প্রণালীতে ইউক্রেইনের তিনটি জাহাজ জব্দ করার জেরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ সামরিক আইন জারির উদ্যোগ নিলেন।
রাশিয়া ‘বিনা উস্কানিতে পাগলের মতো আচরণ করেছে’ বর্ণনা করে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো সামরিক আইন জারি সংক্রান্ত এ ডিক্রি সই করার কথা জানান। তবে এর অর্থ যুদ্ধ ঘোষণা নয় বলেও জোর দিয়ে বলেছেন তিনি। নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা ইউক্রেইনের নেই বলে জানান পোরোশেঙ্কো।
ববার ক্রিমিয়া উপকূলে ইউক্রেন নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ আটক করেছে রাশিয়া। জাহাজগুলো জব্দ করার আগে সেগুলোর দিকে গুলি ছুড়ে বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় নাবিককে আহত করেছে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী।
২০১৪ সালে ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশ মুখোমুখি অবস্থানে আছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইউক্রেইন তাদের আটক নৌ-জাহাজগুলো ফেরত চেয়েছে এবং নাবিকদের মুক্তি দাবি করেছে। একইসঙ্গে রাশিয়াকে শাস্তি দিতে দেশটির ওপর নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং এরই মধ্যে বহাল থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো আরো কঠোর করার জন্য ইউক্রেইন এর পশ্চিমা মিত্রদেশ-গুলোকে আহ্বান জানিয়েছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সোমবার নেটো জরুরি বৈঠক ডেকেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক ও কানাডা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
ইউক্রেইনে সামরিক আইন জারি হলে সরকার যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ দমনের ক্ষমতা পাবে। গণমাধ্যমকে নজরদারি, নির্বাচন স্থগিত করা এবং নাগরিকদের সামরিক ঘাঁটিতে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে। যদি পার্লামেন্ট মার্শাল ল জারির অনুমতি দেয় তবে ২০১৪ সালে ইউক্রেইন-রাশিয়ার সংঘাতের পর আবার সামরিক আইন জারির ঘটনা ঘটবে।