চালকবিহীন গাড়ির চমক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:৩৬
গত কিছুদিন প্রযুক্তি বিশ্ব তোলপাড় হয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল উদ্ভাবিত চশমা নিয়ে। নানা ধরনের অভিনব সব ফিচার নিয়ে গুগল’র এই চশমা চমকিত করেছে অনেককেই। তবে গুগল’র স্বচালিত গাড়ির কথা ভুলে গেলেও কিন্তু চলবে না। অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে এটি অনেকদিন হলো পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন। আর তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তাগুলোতেও হরদম দেখা মিলছে গুগল’র এই গাড়িগুলোর। বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির রাস্তাগুলোয় রয়েছে এর সরব উপস্থিতি।
সিলিকন ভ্যালিতে এখন চালকবিহীন গুগল গাড়িরই রাজত্ব বলা যায়। প্রতিনিয়তই রাস্তায় ছুটে চলছে গুগল’র গাড়িগুলো। চালক না থাকলেও এসব গাড়িতে অবশ্য দেখা মিলবে মানুষের। তাদের বেশিরভাগই অবশ্য গুগল’র প্রোগ্রামার। গাড়ির মধ্যে বসে বসেই তারা প্রতিনিয়ত এই গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামিংগুলো উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই গুগল’র গাড়ি অর্জন করছে নির্ভরতা।
সারা বিশ্বেই যখন সড়ক দুর্ঘটনা একটি দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে, তখন এর থেকে নিস্তার পেতে গুগল’র এই স্বচালিত গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশাবাদী প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই। যেসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রয়েছে মানুষের প্রভাব, সেসব দুর্ঘটনাকে সহজেই এড়ানো সম্ভব গুগল’র এই গাড়ি ব্যবহার করে। স্বচালিত গাড়ি নিয়ে এর আগে কাজ করেছে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে গুগলই তাতে প্রথম সফলতা পেয়েছে।
গুগল’র এই গাড়ির রয়েছে নানা ধরনের ফিচার। এর মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
সেরা চালক গুগল গাড়ি
গাড়ির চালক হিসেবে যেকোনো মানুষের চাইতে গুগল’র গাড়ি নিজেই অনেক বেশি দক্ষ, এটা স্বীকার করে নিয়েছে প্রযুক্তি বিশ্ব। এই গাড়িতে ব্যবহূত ক্যামেরার কল্যাণে এই গাড়ি তার চারপাশে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে কখন কী ঘটছে, তার সবই জানতে পারে। মানবচালক যেমন ক্লান্ত হয়, গাড়ির ক্ষেত্রে তা কখনই ঘটে না। শুধু তাই নয়, গাড়ি চালানোর সময় ফোন রিসিভ করা কিংবা নেশা করে চালানোর ঘটনা মানুষের ক্ষেত্রে হরদম ঘটলেও তা গুগল’র এই গাড়ির ক্ষেত্রে ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। গাড়ি চালাতে গিয়ে অল্পবয়সীরা অনেক সময়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পাশের গাড়ির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে এবং নির্ধারিত সীমার চাইতে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চালানো হয়। গুগল’র এই গাড়ির কোনোভাবেই এই ধরনের ঘটনায় প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে গাড়ি সর্বদাই চলবে নির্দিষ্ট নিরাপদ গতিতে। এতে করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, এই গাড়িতে ব্যবহূত ক্যামেরাগুলোর সাহায্যে গাড়ি তার চারপাশের মানুষের উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে বলে তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকেই থেমে যায় নিজে থেকেই। ফলে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে না বললেই চলে।
ব্যবহারবান্ধব গাড়ি
স্বচালিত গাড়ির কথা মনে হলেই মনে হতে পারে এর মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের সার্কিট এবং তারের সমারোহ। তবে গুগল গাড়ির ক্ষেত্রে এই কথা একেবারেই প্রযোজ্য নয়। গাড়ি ব্যবহারকারীর জন্য এর ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত স্থান। শুধু তাই নয়, গাড়ি আপনাকে চালাতে হচ্ছে না বলে এর মধ্যে বসে আপনাকে যেসব কাজ করতে হবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক অ্যাকসেসরিজই রয়েছে এতে। আর এই গাড়ির অপারেটিংয়ের ক্ষেত্রে ঠিক একটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং চালানোর মতো সহজ ইন্টারফেসেরই মুখোমুখি আপনাকে হতে হবে।
হাইওয়েতেও সেরা গুগল গাড়ি
সাধারণ রাস্তার মতো হাইওয়েগুলোতেও সমান দক্ষতায় চলতে সক্ষম গুগল’র গাড়িগুলো। বিশেষ করে হাইওয়েতে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় এখানে সে বাড়তি গতিতে চলতে পারে সহজেই। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির রাস্তাগুলোয় এখন তাই এই গুগল গাড়ির রাজত্ব। আবার হাইওয়েগুলোতেও ঘুরে বেড়াচ্ছে গুগল’র এই গাড়ি।
মানুষের জীবনের সাথে ক্রমেই নানাভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে গুগল। প্রযুক্তি জীবনের একটি দিনও গুগল ছাড়া চিন্তা করবে না এখন অনেকেই। কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ছাড়িয়ে বাস্তবজীবনেও তারা প্রবেশ করেছে নানাভাবে। এই গাড়ি তারই এক প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি থেকে ফিরে