বর্তমান আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:৩৭
প্রযুক্তি বিশ্বে আজ ও গতকালের মধ্যে পার্থক্য যতটুকু, আজ ও আগামীকালের মধ্যকার পার্থক্য তার চাইতে বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। প্রকৃতপক্ষে যে গতিতে প্রযুক্তি বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে, তাতে করে একটা দিনের সাথে পরের দিনের পার্থক্যটা ক্রমেই প্রকোট হয়ে উঠছে।
কম্পিউটারের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে। নব্বইয়ের শুরুতেই দৃশ্যপটে হাজির হয় মোবাইল ফোন। এই দুই প্রযুক্তি সারা বিশ্বে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর পরে চলতি শতকের শুরু থেকেই যুগান্তকারী আরও সব প্রযুক্তি হাজির হতে থাকে। আর তাতে করে জীবন যাপনের পদ্ধতি থেকে শুরু করে সবকিছুই বদলে যায়। এই বদলে যেতে থাকা সময়ের পালে বড় ধরনের হাওয়া জোগায় ইন্টারনেট। পরবর্তীতে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট, মোবাইল ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি প্রভৃতির আগমন বিশ্বের চেহারাটাকেই পাল্টে দিয়েছে। এখন গোটা বিশ্বই ইন্টারনেট নামক এক সুতায় বাঁধা। হাই-এন্ড সব প্রযুক্তির বদৌলতেও ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোও নিজেদের উপস্থিতিকে ক্রমেই সরব করে তুলছে বিশ্ববাসীর সামনে।
বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রযুক্তি
বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়তই হাজির হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। তবে এগুলোর সবগুলোই সমানভাবে নিজের স্থানটিকে শক্তিশালী করে নিতে পারছে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই আঁচ করা যায় ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে। আর গ্রাহকদের নিকট জনপ্রিযতার ভিত্তিতে বর্তমানের সেরা প্রযুক্তিগুলোর ধারণা পাওয়া যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের কিছু প্রযুক্তির কথা তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
ক্লাউড সার্ভিস
সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ক্লাউড সার্ভিস। গত বছর দুয়েক সময়ের মধ্যে ক্লাউড স্টোরেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বেই। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন থেকে শুরু করে ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস প্রদান করছে সকলেই। ক্লাউড স্টোরেজের ব্যবহারকারীও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেম নিয়ে এসেছে গুগল। ক্রোম অপারেটিং সিস্টেমটি এখনও পর্যন্ত সীমাবদ্ধ বাজার নিয়ে অবস্থান করলেও এটি দ্রুত প্রসার লাভ করবে বলেই ধারণা করছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। সফটওয়্যার আর সিকিউরিটির জন্যও ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে চলেছে প্রযুক্তি কোম্পানিরা। ক্লাউড সার্ভিসের কল্যাণে এখন হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যারের কনফিগারেশনও কমে আসছে।
ইন্টারনেট অব থিং
ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অনলাইনে। ক্লাউড স্টোরেজের কল্যাণে এখন বড় বড় আকৃতির তথ্যও সংরক্ষিত হচ্ছে অনলাইনে। পাশাপাশি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের বাজার বাড়তে থাকায় প্রায় সব ধরনের কাজই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সেন্সর আর স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার ইন্টারনেটকেই রিমোট কন্ট্রোল প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। যোগাযোগ যাতায়াত, ইউটিলিটি, স্বাস্থ্যসেবার মতো সব কাজেও এখন ইন্টারনেট ব্যবহূত হচ্ছে হরদম। ‘ইন্টারনেট অব থিং’-এর কল্যাণে এখন ইন্টারনেট সংযোগ থাকা মোবাইলের মাধ্যমে বাসা বাড়ির সব অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রিণও সম্ভব হচ্ছে।
ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং
গত দুই বছরে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং ছিল তত্ত্বীয় আলোচার টেবিলে। সেখান থেকে এই বছরে এসে বাস্তব রূপ লাভ করে এই প্রযুক্তি। প্রিন্টিংয়ের জগতে আমূল এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই প্রযুক্তি। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের জন্য তৈরি হওয়া ত্রিমাত্রিক সব স্ক্যানার আর ত্রিমাত্রিক ক্যামেরায় তোলা বস্তুর প্রতিলিপি হুবহু তৈরি করা যাচ্ছে। যেকোনো ধরনের ত্রিমাত্রিক মডেলকেই প্রিন্ট করা যাচ্ছে সরাসরি। ইতোমধ্যেই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে তৈরি হয়েছে বন্দুক আর গুলি। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার দিয়ে একটি আস্ত বাড়িই তৈরির কাজ শুরু করেছেন নেদারল্যান্ডের দুই বিজ্ঞানি। জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান ত্রিমাত্রিক প্রিন্টািরে নিজের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতিকৃতি তৈরির সুযোগও দিচ্ছে।
স্মার্ট টিভি/ইন্টারনেট টিভি
টেলিভিশনের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে স্মার্টটিভি বা ইন্টারনেট টিভির ধারণা। ইন্টার্যাকটিভ, এইচডি এবং সামাজিক যোগাযোগের সব সুবিধাই এখন যুক্ত হচ্ছে স্মার্ট টিভিতে। একদিকে স্যামসাং, অন্যদিকে গুগল স্মার্টটিভি বা ইন্টারনেট টিভিকে পৌঁছে দিচ্ছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। সেট-টপ বক্সের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। এর মধ্যে অ্যাপল আবার টিভির বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে টিভির বাজারটি আর কেবল টিভির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি এখন প্রসারিত হয়েছে স্মার্টযুগে।
৪কে ডিসপ্লে
বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস আর গ্যাজেটসের আবির্ভাবে ডিসপ্লে নিয়ে চলছে নিরন্তর গবেষণা। এর মধ্যে অ্যাপল’র রেটিনা ডিসপ্লেকে বলা হচ্ছিল সবচেয়ে উন্নতমানের ডিসপ্লে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভাবিত ৪কে প্রযুক্তি সকলেই এখন ৪কে মানের ডিসপ্লে দিয়ে তৈরি করছে টেলিভিশন। তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তাদের আল্ট্রাবুক ও ট্যাবলেট পিসিতে যুক্ত করছে ৪কে মানের ডিসপ্লে।
অগমেন্টেড রিয়েলিটি
বাস্তবজীবনের নড়াচড়াকে ডিজিটাল ডিভাইসে সংযুক্ত করার এক অনন্য প্রযুক্তির নাম অগমেন্টেড রিয়েলিটি। মাইক্রোসফটের কাইনেক্ট কল্পনার এই ফিচারকে বাস্তবে পরিণত করে ফেলেছে। কাইনেক্টসহ এক্সবক্স গেমিংয়ের ধারণাকেই বদলে দিয়েছে। শরীরের নড়াচড়ার পাশাপাশি অ্যাপল আর গুগল কাজ করছে ভয়েস কমান্ড নিয়ে। শুধু তাই নয়, এখন চোখের ইশারাতেই পিসি চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, ফলে শারিরীক প্রতিবন্ধীদের জন্যও প্রযুক্তি হয়ে উঠছে ব্যবহারবান্ধব।
তথ্যের প্রাচুর্যও মাল্টিমিডিয়া
আজ থেকে বছর দশেক আগেও পিসির জন্য ২০ থেকে ৪০ গিগাবাইট স্টোরেজকে যথেষ্ট মনে করা হতো। তবে মাল্টিমিডিয়ার কল্যাণে বড় বড় ফাইল তৈরি হতে থাকে। সব তথ্যকেই ডিজিটালে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় বাড়তে থাকে তথ্যের পরিমাণ। এখন টেরাবাইট স্টোরেজও অনেকের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অনলাইনেই থাকছে শত গিগাবাইট তথ্য। ফিজিক্যাল হার্ডড্রাইভের ক্ষেত্রে টেরাবাইট পর্যায়েই তথ্য ধারণ করছে এখন গ্রাহকরা। তার সাথে পোর্টেবল স্টোরেজও ব্যবহার করছে সবাই।