চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে খুব কষ্টসাধ্য একটা ইনিংস খেলেছেন। যদিও বার তিনেক জীবন পেয়েছেন, তারপরও সেটা ছিল বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। কিন্তু ওই ইনিংসের পরও পরের টেস্টের স্কোয়াডে নেই ইমরুল কায়েস। যদিও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, কাঁধের ও পায়ের চোটের কারণে দলে নেই এই বাঁহাতি ওপেনার।
ইমরুলকে বাদ দিয়ে গতকাল ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য। এই দলে ইমরুল বাদ পড়ায় ওপেনার আছেন কেবল দুই জন—সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলাম। অভিনব কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা না হলে এই টেস্টে সাদমান ইসলামের অভিষেক তাই একরকম নিশ্চিত ব্যাপার।
সম্প্রতি শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রেকর্ড রান করেছেন ইমরুল। তিন ম্যাচের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও এক ম্যাচে নব্বই রান করেছেন। কিন্তু সেই ফর্মটা টেস্টে একদমই দেখাতে পারছেন না অভিজ্ঞ এই ওপেনার। গত তিন ম্যাচের ৬ ইনিংসে দুটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেও ধারাবাহিক হতে পারছিলেন না তিনি। সেই সাথে গত ২২ টেস্টে কোনো ফিফটি না থাকার বাজে রেকর্ড তার সাথে লেগে রয়েছে।
তবে ফর্মের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনটা বলছেন না নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেছেন, ‘ফিজিওর রিপোর্ট পেয়েছি আমরা। সেখানে বলা হয়েছে ওর কাঁধে ও পায়ের আঙুলে চোট আছে। ফলে অন্তত দিন দশকের মধ্যে ও খেলতে পারছে না।’ অবশ্য নান্নু জানিয়েছেন, ওয়ানডে সিরিজে ইমরুলকে পাওয়া যাবে।
ইমরুলের এই দলে না থাকা কপাল খুলে দিয়েছে তরুণ ব্যাটসম্যান সাদমান ইসলামের। বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলে উঠে এসেছেন সাদমান। তাকে অনেক আগে থেকেই বড় দৈর্ঘের ম্যাচের উপযোগী খেলোয়াড় মনে করা হয়। ডিফেন্সে সমস্যা ছিল বলে গত কয়েক বছর প্রবল কাজ করেছেন সেই সমস্যা নিয়ে। ফলও পেয়েছেন। ৪২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৭ সেঞ্চুরিতে এবং ৪৬.৫০ গড়ে ৩০২৩ রান করেছেন সাদমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে সাদমান খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ রান স্কোরার তিনি। ৬৪.৮০ গড়ে সেখানে করেন ৬৪৮ রান। লিগে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন এবার ১ হাজারের বেশি বল।
এবার লিগের প্রথম ম্যাচে স্বাদ পেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শ রানের। সেই ১৫৭ রান ছাড়িয়ে পরের ম্যাচেই করেছিলেন ১৮৯। ২০১৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ১০১.৫০ গড়ে ৪০৬ রান করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী।
সাদমানের অভিষেক হোক আর নাই হোক, এই টেস্টে আরেকটা নতুন উদ্বোধনী জুটি দেখা যাচ্ছে, সেটা নিশ্চিত। এরই মধ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ টেস্টে চারটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্বোধনী জুটি খেলিয়ে ফেলেছে। এর বড় কারণ তামিম ইকবাল ইনজুরিতে থাকা। এই টেস্টে সাদমান খেললে সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটির ‘সিনিয়র পার্টনার’ হিসেবে খেলবেন। সৌম্যর ওপর প্রত্যাশার চাপটা বেশি থাকবে। হঠাত্ করেই দলে ফিরিয়ে চট্টগ্রামে তাকে খেলানো হয়েছে। সেখানে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তার দিকে থাকবে সবার চোখ।
দ্বিতীয় টেস্টের দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান।