আট মাস পর নিষেধাজ্ঞামুক্ত ইউটিউব
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৩, ১৯:৩০
দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে তুলে নেওয়া হলো ইউটিউবের উপর নিষেধাজ্ঞা। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল বুধবার (৫ জুন) থেকে আবার বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারছেন ভিডিও শেয়ারিংয়ে জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটে। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস গতকাল ইউটিউবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানান। মহানবী (সা.) কে নিয়ে তৈরি বিতর্কিত চলচ্চিত্র ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ ইউটিউবে প্রকাশ হওয়ার ঘটনায় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে সাইটটি বন্ধ করে দেয় সরকার। বিতর্কিত চলচ্চিত্রটি এখনও ইউটিউবে থাকলেও বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এখনও আমরা চলচ্চিত্রটি সরিয়ে নিতে গুগল’র সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তবে ইতোমধ্যেই গুগল’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কেবল বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযুক্তিগত কারণেই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া সরানো যাবে না। এদিকে বিটিআরসি এবং সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা একাধিকবার ইউটিউব খুলে দেওয়ার কথা বললেও সেসব ঘোষণা বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। গত ২৮ নভেম্বর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়েছিলেন শিগগিরই দেশে ইউটিউব খুলে দেওয়া হবে। বিটিআরসির চেয়ারম্যানও গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ‘ডিসেম্বর মাসের’ মধ্যে ইউটিউব খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পরে জানুয়ারি মাসে তিনি জানান, ‘ইউটিউব বিতর্কিত চলচ্চিত্রটি সরিয়ে না নিলে ইউটিউব চালু করা হবে না।’ ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল তারা ভিডিওচিত্রটি সরাবেন না। ফলে খোলেনি ইউটিউব সংক্রান্ত জট। তবে গতকাল এসে শেষ পর্যন্ত আট মাস পরে নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে মুক্তি পেল ইউটিউব। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য গুগল বা ইউটিউবের আলাদা কোনো আইডেন্টিটি, সার্ভার, ক্লাস্টার ও সাব-ডোমেইন নেই। বাংলাদেশের জন্য এখনই পৃথক সার্ভার সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেই তাদের। ফলে গুগলের পক্ষে ওই ভিডিও শুধু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বন্ধ করা সম্ভব হবে না। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও লিবিয়ায় ইউটিউব বন্ধ রয়েছে।