প্রথাগতভাবে চট্টগ্রামের চেয়েও ব্যাটসম্যানদের জন্য মিরপুরের উইকেট কঠিন হওয়ার কথা। তবে এই স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে একটু রহস্য সবসময়ই থাকে। সেই রহস্যটাই যেনো আরও বাড়িয়ে দিতে চাইলেন আকরাম খান। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম বলছিলেন, উইকেট স্পিন সহায়ক বা পেস সহায়ক, যে কোনোটাই হতে পারে।
তবে আকরাম বলতে অস্বীকার করলেন না যে, তারা আসলে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চান। সেই সুবিধা নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার কথাই জানালেন আকরাম, ‘আমরা আসলে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চাচ্ছি। আর ঘরের মাঠে খেলা হলে আমরা কিন্তু যে কোনো সময় স্কোয়াডে যে কাউকে নিতে পারি। যেহেতু চিটাগাংয়ে স্পিনিং উইকেট ছিল বিধায় স্পিনার বেশি নিয়েছি। আগামীকাল অনুশীলন হবে। তখনও আমরা উইকেটটা দেখব। আর উইকেটটি যেমন হয় তার ওপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের এখানে তরুণ বোলাররাও ভালো করছে। যারা স্কোয়াডে নেই; যেমন এবাদত আছে, রাহি আছে- ওরা কিন্তু ভালো করছে। দলের সাথে যারা আছে তারাও ভালো করছে। সুতরাং আমাদের যখন যাদের দরকার হবে তাদের দলে আনতে পারব, যেহেতু আমরা দেশে খেলছি।’
আকরাম বলছিলেন, চট্টগ্রামে উইকেট যেমনই হোক, সেখানে যে জয়টা এসেছে, এটাই বড় কথা। আর এই জয়টা দলের খুব কাজে দেবে বলেই আকরামের বিশ্বাস, ‘যে ধরনের উইকেটই হোক, দল যদি ভালো খেলে এবং জয় পায় তাহলে দলের মোরাল ভালো থাকে। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যেটি হয়েছে সেটি হলো আমাদের উইন্ডিজদের বিপক্ষে দেশে প্রথম জয়। এটি মোরালি আমাদের অনেক শক্তিশালী করেছে। তার পাশাপাশি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি আমরা জিতেছি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়কে ছাড়াই।’
এই ঘরের মাঠে খেলা বলেই গতকাল কমিয়ে ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে বলে আকরাম বলছিলেন। কারণ, দরকার হলে তারা বাইরে থেকে খেলা শুরুর আগে যে কাউকে নিয়ে নিতে পারবেন, ‘এক্ষেত্রে একজন বাইরের খেলোয়াড় থাকবে। এখানে একটি বিসিএল আছে। আমরা চাইছি যাদের খেলার সম্ভাবনা কম তারা যেন বিসিএলের ম্যাচগুলো খেলুক। যেহেতু বাংলাদেশের এটি একটি শীর্ষ টুর্নামেন্ট। সুতরাং এখানে যদি ভালো খেলে এবং ভালো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে ওদের জন্যই ভালো। আমরা চাচ্ছি মিনিমাম একটি স্কোয়াড রাখতে এবং বাকিরা বিসিএল খেলতে পারে।’
গত কয়েক ম্যাচ ধরে প্রতি ম্যাচেই বাংলাদেশের কোনো না কোনো খেলোয়াড়ে অভিষেক হচ্ছে। আকরাম বলছিলেন, বিকল্প খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখতেই এটা করা হচ্ছে, ‘আমাদের যেহেতু কিছু ক্রিকেটার ইনজুরিতে ছিল এবং একই সাথে আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদেরকেও তো সুযোগ দিতে হবে। এখন টেস্টে আমরা কিছু ক্রিকেটারকে দেখছি। আমাদের সৌভাগ্য যে চার-পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার দশ-বার বছর ধরে বাংলাদেশ দলে খেলছে। তবে ওদেরও তো লিমিট আছে খেলার। আর সেই কারণে আমাদের নতুন ক্রিকেটারদেরকে দেখতে হবে। এটি আসলে একটি ইতিবাচক দিক। কেউ হয়তো ভালো করছে, আবার কেউ করছে না। আমাদের তো এটা দেখতেই হবে। আশা করছি যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা যদি ভালো করে তাহলে আর সমস্যা হবে না।’