সাফল্যের নতুন দিগন্তে
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৩, ১৮:১১
২০০২ সালে দুইশত ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু করে মাত্র নয় বছরের ব্যবধানে এখন সাত হাজার ছাত্রছাত্রী যে কলেজটি, তার নাম সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ। গত ২৪ জানুয়ারি ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনা ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হলো এর দশম বর্ষপূর্তি। রাজধানীর অলিগলিতে যেখানে স্কুল-কলেজের ছড়াছড়ি, সেখানে সাউথ পয়েন্টে প্রথম বর্ষেই ২০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় এবং মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে ৭০০০ ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ। আর এর উদ্যোক্তা হলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মিসেস হামিদা আলী। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উদ্যোগে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্বের আসন। সাউথ পয়েন্টের ক্ষেত্রেও যে এর ব্যতিক্রম হবে না, সেটি বোঝা যায় বিভিন্ন বর্ষে শতকরা ৮০ বা ৯০ ভাগ জিপিএ ফাইভ, গোল্ডেন জিপিএ ও শতভভাগ পাসের হার এবং এর ধারাবাহিকতা ও ক্রমোন্নতি দেখলে। উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান লাভ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। আর এসব অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ সাউথ পয়েন্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অর্জন করে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোল্ড ম্যাডেল। আরও উল্লেখ্য যে, বিশিষ্ট প্রকৌশলী এমএ রশিদ এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং আছেন মেধাবী ও খ্যাতিমান একদল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। প্রথমে শুধু স্কুল সেকশন দিয়ে শুরু করলেও ২ বছরের ব্যবধানে খোলা হয় এর কলেজ সেকশন । রাজধানীর মালিবাগ, বারিধারা ও বনানীতে চলছে এর পৃথক স্কুল ও কলেজ শাখা। বনানীতে আপাতত ইংরেজি মাধ্যমে ‘ও’ লেভেল অবধি পড়ানো হয়। মালিবাগে কলেজের পাশাপাশি কেজি টু থেকে ফোর পর্যন্ত আছে স্কুল শাখাও। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম তিন ভাগে বিভক্ত। যেমন—বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন এবং ইংলিশ মিডিয়াম সেকশন। বাংলা মাধ্যম পিজি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক লেভেল পর্যন্ত। ইংরেজি ভার্সন ক্লাস ওয়ান টু টেন এবং ইংরেজি মাধ্যম প্লে গ্রুপ থেকে ‘ও’ লেভেল পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমে ছেলে-মেয়ে উভয়ই পড়াশোনা করতে পারে, তবে কলেজ শাখা শুধু মেয়েদের জন্য। আর রয়েছে দুটি বিভাগ—বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা।
প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকনায় :বাড়ি ৮৯/এ, ৮৯/বি ও ৬৪/বি (উত্তর) চৌধুরী পাড়া, মালিবাগ, ঢাকা। ফোন :৯৩৬২৮৭৩-৪।
সীমিত সময়ের ব্যবধানে সাউথ পয়েন্টের অব্যাহত উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিসেস হামিদা আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের ধারণ ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্পেশাল কেয়ারে রুটিন মাফিক নিয়মিত লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করানোই হচ্ছে মূল কাজ, এর বাইরে আর কোনো জাদু নেই। তবে এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন অভিজ্ঞ শিক্ষকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধান, যার কোনো বিকল্প নেই।’ ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা লেখাপড়ায় সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষাটা যেন হয় জ্ঞানভিত্তিক এবং মানবীয় গুণাবলি অর্জনের লক্ষ্যে সে দিকেও সচেতন দৃষ্টি রেখেছি। বিশেষকরে সাউথ পয়েন্টকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোই আমার মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে বারিধারায় নিজস্ব জমিতে ক্যাম্পাস নির্মাণের মহা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’