প্রজন্মের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপার

যেকোনো বিষয় নিয়ে গবেষণার মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান অবস্থা থেকে আরও উন্নয়ন সাধন করা। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপার (আরএনডি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পেশা হিসেবে আরএনডি পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তাই এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপারদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়, গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র শুচিতা শরমিন সহযোগী অধ্যাপক (উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুচিতা শরমিনের জন্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে! যথাক্রমে উদয়ন স্কুল, ভিকারুন নিসা নুন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে তার শিক্ষাজীবন। আর ক্যারিয়ারের শুরুতেই ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ৪ বছর শিক্ষকতা, তারপর জাপানে কিউসু বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বছর গবেষণা, অতঃপর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকতায় নিয়োজিত রয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন গবেষণা পত্রিকায় উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার। Sustainable Development and Livelihood in Selected River Basins of Bangladesh বিষয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ে বর্তমানে গবেষণারত আছেন শুচিতা শরমিন। শুচিতা শরমিনের সারা জীবন কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায়। ঢাকা শহরের এবং বাংলাদেশের অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে এখানকার পরিবেশ স্বতন্ত্র। এই এলাকাটি উন্নত সংস্কৃতির এলাকারূপে বিবেচিত হয়। এখানে জীবন কাটাতে পেরে তিনি আনন্দিত বলে জানালেন। আরও জানালেন, বাবা-মা ও এক ভাইকে নিয়ে অত্যন্ত সুন্দর জীবন যাপন করছেন বর্তমানে। বাবা-মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় ছিলেন, তিনিও এখানে শিক্ষকতার পেশায় আছেন। এসব ভাবতে গিয়ে সবসময়ই আনন্দ অনুভব করেন তিনি। তার স্বামী তার সকল কাজে সহায়তা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। তার একমাত্র সন্তান উদয়ন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। তাকে নিয়েও আছে শুচিতা শরমিনের অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা। নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ এবং এই পেশা আমাদের দেশে কতটা উপযোগী এমন প্রশ্নের উত্তরে শুচিতা শরমিন বলেন, ‘শিক্ষকতা ও গবেষণার পেশা আমি মনে-প্রাণে পছন্দ করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি দেখা দিলে আরও আনন্দের সঙ্গে কাজ করতে পারব। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ক বিদ্যা ও গবেষণা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যদি বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতার উপায় সন্ধান করে তাহলে সূচনা করতে হবে এই বিষয় দিয়েই।’ নতুনদের কাজের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুনদের মধ্যে বাংলাদেশকে এবং পৃথিবীকে নতুন করে গঠন করার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যুগে যুগে তরুণরাই নতুন পৃথিবীর স্রষ্টা। তারুণ্যধর্ম বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে জাতীয় দুর্যোগের কালেও পরিপূর্ণ মাত্রায় বর্তমান দেখতে পাই। এতে আনন্দিত হই। তরুণদের জন্য দরকার প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে বিচার-বিবেচনাপূর্বক গ্রহণ করা। অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারলে তারুণ্যের শক্তি সাফল্য লাভ করবেই।’ নতুনদের জন্য পরামর্শে তিনি বলেন, ‘আগের কথার মধ্যেই ইঙ্গিত রয়েছে তরুণদের করণীয় সম্পর্কে। গতানুগতিক পরিহার করে সৃষ্টিশীল হতে হবে। পুরাতন প্রথা-পদ্ধতি ভেঙে নতুন উন্নত প্রথা-পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সামাজিক অবিচার দূর করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। দরকার নতুন রেনেসাঁস ও নতুন গণজাগরণ। মনে রাখতে হবে গণজাগরণ আর হুজুগ এক নয়। গণজাগরণে থাকে মহান লক্ষ্য, মহান আবেগ, দীর্ঘস্থায়ী সাধনা ও সংগ্রাম। আর স্বার্থান্বেষী লোকেরা হুজুগ সৃষ্টি করে হীন উপায়ে স্বার্থ হাসিলের জন্য।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সম্পর্কে জানান, শিক্ষক হিসেবে আরও সফল হতে চান তিনি। চান নিজের ছাত্ররা বড় কাজের দ্বারা বাংলাদেশকে এবং মানবজাতিকে সমৃদ্ধ করুক। গবেষণা নিয়েও মূল্যবান কিছু করার আশা রাখেন তিনি। শুচিতা শরমিন ডাক নাম :শুচি জন্মতারিখ ও স্থান :২৭.০২.১৯৭৩ ঢাকা মায়ের নাম :ফরিদা প্রধান বাবার নাম :আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রথম স্কুল :উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :বাবা প্রিয় উক্তি :Man makes Himself প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :সর্বজনীন কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারা। === সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারক গবেষক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস্ লি ‘১৯৯১ সালের কথা। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারকের মা হূদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখনকার দিনে চিকিত্সা সেবা ছিল অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। শিক্ষক পিতার সীমিত আয়ে সংসারে ছিল না কোনো সেবাদাসী। ছয় ভাইবোনসহ বিশাল পরিবার। এতগুলো সন্তান লালন পালনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে মায়ের রোগ ধীরে ধীরে জটিল আকার নেয়। আর হূদরোগের ওষুধও তখন ছিল দুর্লভ। বাংলাদেশে তখন খুব সীমিত কিছু ওষুধ প্রস্তুত হতো। আর আমদানিকৃত ওষুধের মূল্য ছিল খুব চড়া। ফলে পরিপূর্ণ চিকিত্সা করা সম্ভব হয়নি। মা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অসুস্থ অবস্থায় মা প্রায়ই বলতেন, ‘আমার ছেলেকে ডাক্তার বানাব, তাহলে আমার চিকিত্সার কোনো অসুবিধা হবে না।’ সেই সময়কার স্মৃতি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।’ এই কথাগুলো বললেন আব্দুল্লাহ মোবারক। ‘আমার বাবা ছিলেন রসায়ন বিজ্ঞানের শিক্ষক সেই সুবাদে রসায়ন পরীক্ষাগারে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম অল্প বয়সেই। যেহেতু ওষুধ মাত্রই রাসায়নিক, সুতরাং রসায়নের প্রতি আগ্রহ আমার চিকিত্সা বিজ্ঞানে অধ্যয়ন করার পথে বাড়তি সুবিধা যুগিয়েছে। ২০০৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি হই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মেডিক্যালে চান্স হয়নি তার। এমতাবস্থায় যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হতাশ ছিলাম, তখন এক বন্ধুর চিকিত্সক পিতার নিকট ‘ফার্মেসি’ সম্পর্কে জানতে পারি। তিনি ফার্মেসির সম্ভাবনা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন এবং এ বিষয়ে পড়াশোনা করতে উত্সাহিত করেন।’ এরপরের গল্পটিতে জানা যায়, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফার্মেসি ডিসিপ্লিন’-এ সুযোগ পান। তারপর সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বি ফার্ম (অনার্স) ও এম ফার্ম (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। বি ফার্ম শেষ বর্ষে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসে্ যান। সেখানে ট্রেনিং সম্পন্ন করার কিছু পরেই এই কোম্পানির কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এখানে দু’বছর চাকরি করার পরে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে্ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে এই বিভাগেই কর্মরত আছেন। নিজের কাজ সম্পর্কে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারক জানান, ‘আমি বর্তমানে শ্বাসতন্ত্রের রোগের ওষুধ নিজে কাজ করছি। আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক উল্লেখযোগ্য অংশ এ রোগে আক্রান্ত হয়। এখানে আমার কাজ হচ্ছে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ওষুধ এবং ডোজেস ফর্ম (Dosage from) নিয়ে গবেষণা করা। আমাদের গবেষণাগার বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত। যার সহায়তায় আমরা নিত্যনতুন ওষুধ উত্পাদন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকি।’ ১৯৮৬ সালের ২৪ জুলাই খুলনা সদরের মিয়াপাড়ায় পৈত্রিক বাড়িতে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারকের জন্ম। তিনি জানালেন, শহরে জন্ম হলেও দাদার (পিতামহ) বাগান বাড়ি থাকার সুবাদে একান্নবর্তী পরিবারে গ্রামীণ আবহে কেটেছে শৈশব ও কৈশোর। ছয় সদস্যের পরিবারে তার অবস্থান সর্বকনিষ্ঠ। এ সুবাদে একদিকে যেমন সবার আদর জুটতো, তেমনি শাসনেরও কমতি ছিল না। ১৯৯১ সালে মায়ের মৃত্যুর পরের নিঃসঙ্গ দিনগুলোতে মেজো বোন ছিলেন তার ছায়ার মতো। সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, ‘বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ অর্জন করে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জ্ঞানের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটাতে চাই। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশও যেন মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে প্যাটেন্টকৃত (ওষুধের আবিষ্কারের স্বত্ব) ওষুধ প্রস্তুত করতে পারে। সে ব্যাপারে আমার মেধা ও দক্ষতা বিনিয়োগ করতে চাই।’ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোবারক ডাক নাম :মোবারক জন্ম তারিখ ও স্থান :২৪ জুলাই, খুলনা মায়ের নাম :কাজী শরীফা বেগম বাবার নাম :সৈয়দ আলমাস আলী। প্রথম স্কুল :পি.এম.জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বয়রা, খুলনা। প্রিয় মানুষ :হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রিয় পোশাক :পায়জামা-পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুপ্ত বাসনাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে নিজের সর্বশক্তি কেন্দ্রীভূত করাই সাফল্যের মূলমন্ত্র। == আজমল ফেরদৌস সিনিয়র সহকারী পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. আমাদের পণ্য! বাক্যটি শুনেই মনে পড়ে যায় ওয়ালটনের কথা। দেশীয় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করেই পণ্য উত্পাদন করে যাচ্ছে ওয়ালটন। আর এর কারিগরি বিষয়াদিও যে দেশীয়রাই দেখবেন তা আর বলার অবকাশ রাখে না। এই প্রতিষ্ঠানেই কাজ করছেন আজমল ফেরদৌস বাপ্পী। আমাদের দেশেই যে বিশ্বমানের ফ্রিজ তৈরি হচ্ছে, এর ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত নানা দিক যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব তার। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই এই দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করে আসছেন তিনি।খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি যোগ দেন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু যার নিত্য বসবাস যন্ত্রপাতির সাথে, শুধু পড়াশোনার এই জগত্ তাকে টানেনি। তাই যোগ দেন ওয়ালটনের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে। এখন সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।আজমল ফেরদৌসের কাছে তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে মূলত একটা ফ্রিজের কনসেপ্ট ডিজাইন থেকে শুরু করে বাইরে ভেতরে দেখতে কেমন হবে, সেটার কুলিং সিস্টেম কেমন হবে, কী কী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে—এ সবই দেখতে হয়। এ রকম অনেকগুলো টিম এখানে কাজ করে। আর সবশেষে বাজারজাত করার জন্য বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনে যাওয়ার সময়েও নিজের ডিজাইন করা ফ্রিজের যাবতীয় খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করতে হয় আমাদেরকেই।’ বাপ্পীর কাছে পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, এই পেশায় কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। উত্তরে উচ্ছ্বাস ভরেই জানালেন, এখন নিজের যোগ্যতা আর সুযোগ মিলিয়েই মনের মতো কাজ পেয়েছেন বলা চলে। একটা ডিজাইন কল্পনা করছেন, সেটা বাস্তবরূপ নিচ্ছে এবং পৌঁছে যাচ্ছে দেশে-বিদেশে—এটাই এ পেশার সবচেয়ে আনন্দের দিক। এ ছাড়াও গর্বের একটি বিষয় হলো, দেশ-বিদেশে ওয়ালটনের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠছে তার পেছনে অবদান রাখতে পারার সুযোগ। আসলে এই বিষয়টা কাজের উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই যে সুযোগ, সেটাও যে বড় দুর্লভ এই সময়ে। এসব মিলিয়ে এ পেশা সত্যিই উপভোগ করছেন বলে জানালেন তিনি।পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা সমাদৃত? এই প্রশ্নের উত্তরে আজমল ফেরদৌস বাপ্পী জানান, দেশে এখন শুধু ফ্রিজই নয়, অনেক নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে। সুতরাং কেউ যদি এই ধরনের কাজে বাস্তবিকই যুক্ত হন, নিঃসন্দেহে ভালো করবে। আর উন্নয়ন গবেষণায় তরুণ প্রজন্ম যতই এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের উন্নয়নও কিন্তু ততই তরান্বিত হবে।বাবা-মা আর দু বোন শান্তা ও ববিকে নিয়েই বাপ্পীর আপন জগত্। সীমান্ত শহর যশোরে কেটেছে ছেলেবেলা। ঐতিহ্যের ধারক যশোর জিলা স্কুলের প্রাঙ্গণে কাটিয়েছেন স্কুলজীবন, তারপর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রি অর্জন করেন। একমাত্র ভাই হওয়াতে বোনদের ভালোবাসা পেয়েছেন সবসময়, মায়ের অনুপ্রেরণাও তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন শুধুই যে কাজটা করছেন, সেটা ঠিকঠাক করে যেতে পারলেই সব স্বপ্ন পূরণ হবে বলে জানালেন আজমল ফেরদৌস বাপ্পী। আজমল ফেরদৌস ডাক নাম :বাপ্পী জন্মতারিখ ও স্থান :২ জানুয়ারি, রাজশাহী মায়ের নাম :আঞ্জুমান আরা ফেরদৌস বাবার নাম :মোহাম্মদ ফেরদৌস প্রথম স্কুল :ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যশোর প্রিয় মানুষ :বাবা-মা প্রিয় উক্তি :নিজেকে জানো। প্রিয় পোশাক :জিন্স ও টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :পরিবারের সাথে ও বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম === এ কে এম জাকারিয়া সিনিয়র ম্যানেজার, আর অ্যান্ড ডি ফরমুলেশন বিভাগ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম এ কে এম জাকারিয়ার। তার পড়ালেখার হাতে খড়ি ফরিদাবদ প্রাইমারি স্কুলে। পরবর্তীতে ঢাকায় বাদশাহ্ ফয়সাল ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। তারপর দনিয়ার এ কে উচ্চবিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। মাধ্যমিকে স্টার মার্কসহ প্রথম বিভাগ এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে স্টার মার্কসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ফার্মেসি ফ্যাকাল্টি থেকে অনার্স ও মাস্টার্স (এম ফার্ম) কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন জাকারিয়া। ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস লি.-এ খণ্ডকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে প্রোডাকশন অফিসার হিসেবে। পরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে ১৯৯৭ সালে যোগদান করেন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে। পরের ধাপে দেশের আরেক শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসে যোগদান করেন সিনিয়র প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে ২০০১ সালে। বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র ম্যানেজার, আর অ্যান্ড ডি, ফরমুলেশন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ কে এম জাকারিয়ার শৈশব কেটেছে তিতাস নদী ঘেরা ফরদাবাদ গ্রামে। পারিবারিক জীবনে ছয় ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনি। তাই সবার আদরে ও শাসনে বড় হয়ে ওঠেছেন। সহধর্মিনী ফার্মাসিস্ট শাওলী রহমান এবং এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে তার বর্তমান পারিবারিক আবহ। নিজের কাজ সম্পর্কে এ কে এম জাকারিয়া বলেন, ‘জেনেরিক ফর্মুলেশন ডেভেলপমেন্টই আমার মূল কাজ। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে একঝাঁক তরুণ উদীয়মান ডেভেলপমেন্ট টিমকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উন্নত বিশ্বের রেগুলেটেড মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ফর্মুলেশন ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যে উন্নত বিশ্বের নতুন ওষুধগুলোকে আমাদের দেশের জন্য সহজপ্রাপ্য করাই আমাদের কাজ।’ এ সেক্টরে যোগদানকারী নতুনদের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নবরূপ সবসময়ই গ্রহণযোগ্য এবং শিক্ষণীয়। নতুনরা তাদের আধুনিক ও আপডেটেড ধ্যান-ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসছেন, যা উন্মোচিত করেছে এবং করবে জ্ঞানের অবারিত দ্ব্বার, ফলে আবির্ভূত হবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। নতুনরা এই ক্ষেত্রে নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। নতুনরা এই ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করছে। তাদের আপডেটেড নলেজ এই ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক হচ্ছে। আশা করি নতুনরা এই ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে আসবে।’ সবশেষে তার ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে পথ দিয়ে চলেছি, সে পথে নিজেকে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা, মানুষের কাছাকাছি নিজেকে নিয়ে যাওয়া। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আরও নতুন নতুন জেনেরিক ওষুধ ফর্মুলেশন করা যাতে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষের জন্য নতুন নতুন টেকনোলজির ওষুধ সহজলভ্য করা যা আমাদের দেশের চিকিত্সা সেবার জন্য খুবই আবশ্যক।’ এ কে এম জাকারিয়া ডাক নাম :জাকারিয়া জন্মতারিখ ও স্থান :১ মার্চ ১৯৭৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মায়ের নাম :হালিমা খাতুন বাবার নাম :মরহুম মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ প্রথম স্কুল :ফরদাবাদ প্রাইমারি স্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :‘মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রিয় পোশাক :পায়জামা-পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :আড্ডা দিয়ে, বই পড়ে, ছেলের সাথে খেলে সাফল্যের সংজ্ঞা :অতৃপ্ত মনের বাসনা, সেখানে প্রাপ্তির শেষ থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু সাফল্যের শেষ নেই।