ভারতের ব্যতিক্রমী দশটি বিষয়
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৩, ২০:০৭
১. মাত্র ৩ শতাংশ ভারতীয় কর দেয়: ১২০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের মাত্র তিন শতাংশ মানুষ কর দেয়। এই কর না দেয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, দেশটিতে কৃষিখাতে কর আরোপ করা হয় না। দেশের দুই তৃতীয়াংশ ভারতীয় গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে যারা কৃষির উপর নির্ভরশীল। আবার অর্থনীতির একটি বড় অংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক, তাই অসংগঠিত শ্রমিকদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ একটু কঠিন বৈকি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি সুসংহতভাবে সবার কাছ থেকে কর সংগ্রহ করা যেত, তাহলে দেশের অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যেতো।
২. বাড়ছে ‘বিয়ে গোয়েন্দা’: বিয়ের আগে পাত্র বা পাত্রীর কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানতে ‘বিয়ে গোয়েন্দা’দের কাছে যান ভারতীয়রা। এই মুহূর্তে দেশটিতে প্রায় ১৫ হাজারের মতো এজেন্সি রয়েছে, যেগুলো পাত্র-পাত্রীর বিস্তারিত তথ্য বের করে ক্লায়েন্টকে দেন। বোনের বিয়ের সময় পাত্রের ব্যাপারে খোঁজ নিতে এজেন্সির সাহায্য নিয়েছেন এমনই এক নারী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, এটা আসলে গোয়েন্দাগিরি নয়। পাত্র সম্পর্কে একটু খোঁজ নেয়া আর কি।
৩. বাড়ছে সংবাদপত্র, বাড়ছে পাঠক: যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, দিন দিন তাদের সংবাদপত্র ও সংবাদপত্রের পাঠক কমছে। সেখানে ভারতের চিত্র উল্টো। এখানে বিস্তৃত হচ্ছে মুদ্রণ সংবাদপত্র শিল্প। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার এবং বহু ভাষার দেশ হওয়ায় ভারতীয়দের আশপাশের খবর জানতে প্রথম পছন্দ পত্রিকা। ভারতে দামেও সস্তা পত্রিকা। যার কারণে মোটামুটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পত্রিকা পড়ে। বিভিন্ন কমিউনিটি পত্রিকার সংখ্যাও বাড়ছে ভারতে। উদীয়মান অর্থনীতির কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতীয়রা পত্রিকায় প্রচুর ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। যা পত্রিকা প্রকাশেও সহযোগিতা করছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, ভারতে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন কিনে তা পড়ে আবার বিক্রি করে দেন পাঠক। এগুলো আবার কম দামে কিনে অন্য একটি পাঠক শ্রেণি।
৪. শনিবার নতুন জামা-কাপড় নয়: যদিও ভারত পৃথিবী বিখ্যাত অনেক চিকিত্সক, গবেষক ও বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছে। তারপরেও ভারতীয়দের মধ্যে সেই প্রাচীন কাল থেকে লক্ষ্য করা যায় নানা কুসংস্কার। যেমন শনিবার নতুন পোশাক পরে না বেশিরভাগ ভারতীয়। রাতেরবেলা ঘরদুয়ার ঝাড়ু দিলে লক্ষীদেবী বিরাগভাজন হতে পারে, এ কারণে রাতে ঘর ঝাড়ু দেয়া হয় না ভারতে। বাম হাতে কোন কিছু দেয়া বা নেয়া অমঙ্গলজনক, এটা প্রায় সবাই মেনে চলে। শয়তানের হাত থেকে পরিত্রাণে মরিচ ও লেবু গাড়িতে ঝুলানো হয়। আবার বিমানবন্দরে ১৩ নম্বর সারিতে রাখা হয় না বিমান। মনে করা হয় এটি অমঙ্গলজনক।
৫. লরি আর ট্রাকের পেছনে হর্ণ বাজানোর নোটিস: ভারতের ট্রাক ও লরির পেছনে দেখা যায় চমত্কার পেইন্টিং। একই সঙ্গে লেখা থাকে— দয়া করে হর্ণ দিন। আর সরকারও সামনের গাড়ি ওভারটেক করতে পেছনের গাড়িকে ভেঁপু বাজানোর জন্য চালকদের উত্সাহিত করে। সে কারণে প্রায়ই রাস্তায় রিকশা ও ট্রাকের চালকরা ক্রমাগত ভেঁপু বাজিয়ে থাকেন।
৬. তরুণ ভারত: ভারত একটি তরুণ জাতি। দেশটির ১২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে। দুই তৃতীয়াংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। বেশির ভাগ তরুণদের ভেতরে এই আত্মবিশ্বাস দেখা যায় যে তাদের পশ্চিমাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। মুম্বাইয়ে বিপুলসংখ্যক তরুণ সঙ্গীত নিয়ে কাজ করছে। বেরিয়ে আসছে তরুণ সঙ্গীত প্রতিভা। অনেক তরুণ গতানুগতিক চাকরি না করে ভিন্নধর্মী কাজে যোগ দিচ্ছেন।
৭. যেখানে যাবেন দেখা যায় শুধু প্লাস্টিকের চেয়ার: দেশের যে প্রান্তেই যাবেন দেখা যাবে প্লাস্টিকের চেয়ার। ঘরে-বাইরে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় দেখা যায় বিভিন্ন রং-বেরংয়ের প্লাস্টিকের চেয়ার।
৮. ওজন নিয়ে উদ্বিগ্ন: যদিও ভারতের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। তারপরেও ভুঁড়ি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা দেখা যাচ্ছে ভারতীয়দের মধ্যে। দেশটির মধ্যবয়সী প্রায় সব পুরুষের একটি মাঝারি সাইজের ভুঁড়ি দেখা যায়। ইদানিং তরুণদের মধ্যেও স্থূলতা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনে ফাস্ট ফুডের দোকানের আধিক্য।
৯. যেখানে সেখানে থুথু ফেলা মজ্জাগত অভ্যাস: যেখানে-সেখানে থুথু ফেলা ভারতীয়দের একটি মজ্জাগত অভ্যাস। আর এটি রোধে সরকার থুথু ইন্সপেক্টরও নিয়োগ দিয়েছে। যাদের কাজ এগুলো রোধ করা। এ কারণে বিভিন্ন বাড়ির সামনে, দেয়ালে, বাসে ও ট্যাক্সিতে লিখে রাখছে যেখানে সেখানে থুথু ফেলবেন না।
১০. রাস্তাঘাটে কান পরিস্কার: রাস্তার পাশে যেখানে-সেখানে দেখা যায় একদল লোক টাকার বিনিময়ে মানুষের কান পরিষ্কার করছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষও টাকা দিয়ে নির্ভয়ে নিজের কান পরিষ্কার করাচ্ছে।