সিরিয়ায় আসাদের বিজয় না দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকে গোষ্ঠীগত যুদ্ধের পর সিরিয়ায়ও একই ধরনের যুদ্ধ চলছে। সিরিয়ার গোষ্ঠীগত যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। লেবাননে শিয়া অধ্যুষিত শহরে রকেট হামলা, তুরস্কে গাড়ি বোমা এবং সিরিয়ায় ইসরাইল হামলা এই আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি ইরাক, সিরিয়ার পর গোষ্ঠীগত যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে লেবাননও। বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর আরব বিশ্বের বহু দেশ থেকেই চরমপন্থী তরুণরা সিরিয়ায় ছুটে যাচ্ছে। তাদের কাছে এটা জিহাদ বা পবিত্র যুদ্ধ। অনেক ধর্মীয় নেতাও তরুণদেরকে এই যুদ্ধে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সিরিয়ায় যেসব বিদেশি তরুণ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তাদের অনেকেই গেছে তিউনিসিয়া থেকে। সিরিয়ার চলমান সংঘাতের আঁঁচ লেবাননে ছড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। ইরানের শিয়াপন্থী সরকার লেবাননে তার মিত্র হিজবুল্লাহকে অস্ত্র এবং আর্থিক সহায়তা দেয়। আর ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মনে করে। ইরাকে সুন্নিদের আনবার এবং রামাদির উপজাতীয়রা চায় সিরিয়ায় সুন্নিপন্থী সরকার আসুক। লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক ফাওয়াজ জার্জেস বলেন, সিরিয়া যুদ্ধ এখন আর অভ্যন্তরীণ কোনো যুদ্ধ নয়। এর সঙ্গে এখন আঞ্চলিকতার প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। এটা এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিরিয়ার সমাজ এখন বিভক্তি হয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন শহর থেকে সরকারপন্থী শিয়া ও মুসলমানদের মধ্যে বিরাজমান লড়াই এখন সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব এবং কাতার সুন্নিপন্থীদের সহযোগিতা করছে। আর আসাদ সরকারকে সহাযোগিতা করছে ইরান এবং লেবাননের ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ২৭ মে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন সদস্য রাষ্ট্র এখন ইচ্ছে করলে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র যোগান দিতে পারবে। তবে এতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। ইইউ’র এই সিদ্ধান্তের পরদিন গত মঙ্গলবার রাশিয়া বিমানবিধ্বংসী এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দেয়। রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন হুমকি দিয়েছেন, এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়ায় পাঠানো হলে ইসরাইল জানে কী করতে হবে। রাশিয়ার অস্ত্র পেয়ে সরকারপন্থীরা তাদের হারানো শহর পুনর্দখল করছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্র পাঠানো একটি বড় ধরনের ভুল বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক রবিন রাইট বলেন, এতদিন যুদ্ধে বিদ্রোহীদের জয়ের প্রকাশ ঘটেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর গতি যেন আসাদের দিকেই যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শহরগুলো পুনর্দখল করতে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকার বিজয়ী না হলে এটি আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।