মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হয়েছে পৌনে ২ লাখ
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৩, ২০:১০
অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারে মন্দা চলছে। দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতির মূলে এখন কাজ করছে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা। এ নীতির মূলকথা হলো—চাকরির বাজার যতই প্রসারিত হবে অর্থনীতির ভিতও তত মজবুত হবে। কারণ যত লোক চাকরি পাবে তারা বেতন দিয়ে কেনাকাটা করবে। এর ফলে জিনিসপত্রের উত্পাদন বাড়বে। সরকার কর পাবে বেশি। অর্থনীতিও সাথে সাথে চাংগা হবে। কিন্তু এ চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা চারটেখানি কথা নয়। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে সরকারগুলোকে। কোন কোন দেশ সফল হলেও ব্যর্থ হচ্ছে অনেকে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে বেকারত্ব সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে গত কয়েকবছরে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ বেকারত্ব নিরসনে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। গত মে মাসে দেশটিতে আশাতীত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা যা ধারণা করেছিলেন তার চেয়েও ভালো ফল চাকরির ক্ষেত্রে। গত মে মাসের হিসেবে দেখা যায়, শুধু এই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৭৫ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলেও যে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব কমেছে তা নয়। মে মাসে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার সাড়ে ৭ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেকার লোকের সংখ্যা এক কোটি ১৮ লাখ। বেকারত্বের হার বেড়ে যাবার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা কমেছে। এর ফলে বিভিন্ন শেয়ারের দামও মে মাসে কিছুটা কমেছে।
নতুন এক লাখ ৭৫ হাজার লোকের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হলেও বেকারত্ব বেড়ে যাবার কারণ কি? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার মে মাসে ১৪ হাজার লোককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেছে। এছাড়া উত্পাদনশীল খাত থেকেও লোক ছাঁটাই করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে যে এক লাখ ৭৫ হাজার লোকের চাকরি হয়েছে তাদের অধিকাংশই কাজ করছে সেবাখাতে। এছাড়া খুচরা বিক্রি খাতেও উল্লেখযোগ্য চাকরি হয়েছে। শ্রমদপ্তরের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার স্বল্প সুদে বন্ড কিনে নেয়ার ফলে বাজারে সুদের হারে প্রতিযোগিতা কমেছে। এজন্য সুদের হার কমে যাওয়ায় অনেকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। সুদের হার কমে যাওয়ায় অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেমন বাড়ি-গাড়ি ক্রয়সহ অন্য খাতে বিনিয়োগ বেড়ে যাবার ফলে অনেকে এগুলো কিনতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মোট এক লাখ ৪২ হাজার চাকরি হবে বলে অনুমান করেছিলেন। কিন্তু সে জায়গায় চাকরি হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার লোকের। এপ্রিল মাসে এক লাখ ৬৫ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবার কথা বলা হলেও বাস্তবে চাকরি হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার জনের। তবে এসময় ব্যক্তিখাতে ঋণপ্রবাহও বেড়েছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। মূলত খুচরা বিক্রি বেড়ে যাবার কারণে ঋণ যেমন বেড়েছে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্তত ৭০ শতাংশ নির্ভর করে খুচরা বিক্রির ওপর। খুচরা বিক্রি যত বাড়বে অর্থনীতিও তত চাংগা হবে। চাহিদামতো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি না হবার পেছনে যে কারণকে অর্থনীতিবিদরা দায়ী করছেন তা হলো- অটোমেশনের হার বেড়ে যাওয়া। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অটোমেশনের ফলে প্রতি ৫ জনের একজন চাকরি হারিয়েছেন। সুতরাং অটোমেশন যত বাড়তে থাকবে চাকরির সুযোগও তত কমে আসবে।