পিত্জা-পাস্তার স্বাদে

ইতালির কিছু মজার খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে এ সপ্তাহের কড়চা রেসিপি বিভাগটি। আমরা অনেক সময়ই ইতালিও এসব খাবারের নাম শুনে ভয়ে হয়তো স্বাদ নিতে পিছ-পা হয়ে যাই। আর তাই এ সপ্তাহের আমরা হাজির হয়েছি এমন কিছু মজার দাঁতভাঙা নামের সুস্বাদু রেসিপি নিয়ে। রেসিপিগুলো দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী রেজওয়ানা রেজা আর ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু টু না পা স্তা উপকরণ :পাস্তা ১ প্যাকেট, টোনা ক্যান ১টি, তেল ৩ টেবিল চামচ, টমেটো কুচি ১ কাপ, পানি আধা কাপ, পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ, রসুন ছেচা ৩ টুকরা, ফিশ সস ১ চা চামচ, টেস্টিং সল্ট আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ৩ টেবিল চামচ। প্রণালি :পাস্তা লবণ পানিতে সিদ্ধ করে নিন। প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। তাতে টমেটো দিয়ে দিন। টমেটো নরম হলে টোনা ফিশ ঢেলে দিন এবং ভুনতে থাকুন। ভুনা হলে পানি দিন, ফুটে উঠলে পাস্তা ও বাকি মসলা দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে ফেলুন। হো ম মে ই ড পি ত্ জা উপকরণ :ময়দা ৩ কাপ, গরম পানি ১ কাপ, ইস্ট ৩ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, পেয়াজ স্লাইস ১টি, টমেটো সস আধা কাপ, অলিভ স্লাইস ৬টি, কাঁচামরিচ কুচি ৪ টেবিল চামচ। টপিংয়ের জন্য : টমেটো কুচি ৪-৫টি, রসুন কুচি ২-৩টি, তেল ২ টেবিল চামচ, যেকোনো মাংস কুচি বা কিমা সিদ্ধ ১ কাপ, বেসললিফ ২ চা চামচ, অরিগেনো ১ চা চামচ, ক্যাপসিক্যাম স্লাইস ১টি, মাশরুম স্লাইস ৩টি, মোজারেলা চিজ গ্রেট করা দেড় কাপ। পিত্জা ডো প্রণালি :প্রথমে পানি কুসুম গরম করে তাতে চিনি, ইস্ট, দুধ ও লবণ মিশান। ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। বোলে ময়দা নিন, সাথে তেল মিশান এবং অল্প অল্প করে ইস্ট মিশান। নরম ডো তৈরি করুন। ডোয়ের উপর তেল দিয়ে বোলটা ঢেকে রাখুন। গরম জায়গায় রাখুন ২ ঘণ্টা। এবার টপিংয়ের জন্য সস বানাতে প্রথমে প্যানে তেল গরম করে তাতে টমেটো দিয়ে দিন। এরপর কুঁচি পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার তাতে মাংস দিন। মাশরুম কুঁচি মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট রান্না করে নামিয়ে রাখুন। এবার ডো নিন। ডো বেলে পিজ্জা প্যানে বসিয়ে দিন। প্রিহিট ওভেনে ১৬০ ডিগ্রি সে. ৭ মিনিট ডো’টাকে বেক করুন। এবার ডো’তে তেল ব্রাশ করে রান্না করা টপিং ছড়িয়ে দিন। উপরে ওলিভ কুঁচি চিস, টমেটো সস দিয়ে ওভেনে ১৫ মিনিট বেক করে নিন। তৈরি হয়ে গেল মজাদার ইতালিয়ান পিত্জা। অ্যা প ল স্ট্রু ডে ল উপকরণ :ময়দা ৩ কাপ, ডিম ১টি, চিনি ২ টেবিল চামচ, লবণ ১ চিমটি, পানি পরিমাণমতো। ফিলিংয়ের জন্য আপেল ২টি, বাদাম ২ টেবিল চামচ, ব্রেডক্রাম আধা কাপ, কিসমিস ২ টেবিল চামচ, বাটার ১ টেবিল চামচ, লেবুর ছোকলা গ্রেড করা আধা চা চামচ, চিনি আধা কাপ, দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ। প্রণালি :ময়দা নিন, ময়দার মাঝখান ফাঁকা করে ডিম, পানি, চিনি, লবণ দিয়ে আস্তে আস্তে ভালো করে মেশান। নরম ডো তৈরি করুন। বাটারটা গলিয়ে তাতে ব্রেডক্রাম মিশান। আপেলের ছোকলা ফেলে ছোট ছোট টুকরো করুন। এবার বাটার ও ব্রেডক্রামের সাথে আপেল মিশান ও বাকি ফিলিংয়ের উপকরণগুলোও মিশিয়ে ফেলুন। এবার ডো দিয়ে চারকোণা করে রুটি বানান। রুটির উপর তেল ব্রাশ করুন। রুটির মাঝখানে ফিলিং দিন লম্বা করে। ফিলিংয়ের উপর এক পাশের রুটি তুলে দিন, এবার অন্যপাশেরটাও তুলে দিন। এবার ফ্রি হিট ওভেনে ১৮০০তে ৩০ মিনিট ব্রেক করুন। হয়ে গেলে কেটে কেটে পরিবেশন করুন। টি রো লে স ক্যা ন দে র লি উপকরণ :পাউরুটি ৭ পিস, ডিম ২টি, দুধ ১ কাপ, জয়ফল গুঁড়া স্বাদমতো, লবণ স্বাদমতো, ময়দা আধা কাপ, মাংস কুচি আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি ১ চা চামচ, গোল মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, চিকেন স্টেক ২ লিটার। প্রণালি :প্রথমে পাউরুটির ব্রাউন রঙের অংশগুলো ফেলে দিন। এবার সাদা অংশগুলোকে কিউব করে টুকরো করুন। পাউরুটির টুকরোগুলো বোলে নিন। তার সাথে মাংস কুচি, ধনেপাতা, জয়ফল গুঁড়া, লবণ, গোলমরিচ ও ডিম মিশান। এবার ডিম দিয়ে ভালো করে ম্যারিনেট করুন। ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর অল্প ময়দা মিশান এবং ছোট ছোট বল তৈরি করুন। ট্রেতে ময়দা ছিটিয়ে তার উপর বলগুলো রাখুন। সসপ্যানে ২ লিটার পানি দিন, তাতে ২টি চিকেন স্টেক দিয়ে জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে জ্বাল কমিয়ে তাতে একটা একটা করে বল ছাড়ুন। ২০ মিনিট রান্না করুন। এবার স্যুপসহ বলগুলো পরিবেশন করুন। পেঁয়াজের গুণাগুণ আমাদের দেশে রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার হয় অহরহ। কিন্তু এটি সরাসরি তরকারি হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে এবং তা হতে পারে শরীরের জন্য খুবই পুষ্টিকর। একই সাথে এটি কমাতে পারে আপনার শরীরের বাড়তি ওজনও। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সুষম খাবার। কিন্তু শরীরের সুস্থতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে অনেকেই হয়তো সচেতন নন। পেঁয়াজ প্রাচীন ও বহুগুণে সমৃদ্ধ একটি মসলা। প্রাচীনকাল থেকেই ঠাণ্ডাজনিত অসুবিধায় পেঁয়াজ ব্যবহূত হয়ে আসছে। হারবাল ওষুধ প্রস্তুতকারীরা পেঁয়াজের রসের সাথে মধু মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করে। এটা কফের ওষুধ হিসেবে ভালো কাজ করে। দেহের অস্বস্তিকর অবস্থা, ঝিমানো ভাব, স্নায়ুবিক দুর্বলতা ও বদ হজমে পেঁয়াজ খুবই উপকারী। লবণাক্ত পেঁয়াজ আঁচিলের সমস্যা দূর করে। যারা খেলাধুলা বেশি করেন তারা পায়ের পাতায় এবং আঙুলের ফাঁকে প্রতিদিন দুই-তিনবার পেঁয়াজের রস ঘষে পায়ের পাতা ভালো রাখতে পারেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি মাঝারি আকারের পেঁয়াজ ভাতের সাথে খেলে কোলেস্টরল কমে যায়। এটি রক্তচাপ কমানো ছাড়াও রক্ত জমাট বাঁধা দূর করে।