ইটিং আউট

নতুনত্বের স্বাদে সিলান্ট্রো

ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোড ধরে যেতে থাকলেই অ্যাবাকাস রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে ছোট্ট এক গলি! পাশেই নজরে পড়বে কাঠের উপর খচিত নাম—সিলান্ট্রো! বাংলা অর্থ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ধনেপাতা। ব্যাপারটা কী? দেখতে এগোতে থাকলাম। মাথার উপর বিভিন্ন সাইজের কৌটা ঝুলানো। এর পাশেই হোয়াইটবোর্ডে লেখা রয়েছে খাবারের নাম। নামগুলো দেখলেই বোঝা যাচ্ছে বাহারি স্বাদের হয়তো! হ্যাঁ, এটাই সিলান্ট্রো! সম্পূর্ণ নতুন ধারার অন্দরসজ্জায় ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে চার বন্ধুর প্রয়াসে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট কিন্তু নান্দনিক এক ক্যাফে। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু প্রথমেই বলেছি সিলান্ট্রোর আসল মজা তার ইন্টেরিয়রে। স্থপতি তানিয়া আফরোজের নকশায় নির্মিত এই ক্যাফের শুরুতেই চোখে পড়বে একটা বৈঠকখানার মতো জায়গা। দু-পা এগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠেই আরামসে বসে যেতে পারেন আপনি। গ্রামীণ একটা আবহ পাওয়া যায় তাই সেখানে। আলোটা আদৌ কোথা থেকে আসছে সেটা বুঝতে গেলে অবশ্য আপনাকে কিছুক্ষণ এদিক সেদিক তাকাতে হবে। বুঝতে পারবেন আলোটা আসলে কাচের বোতলের ভেতর থেকে মৃদুভাবে আপনার উপর আসছে, রয়েছে কিছু স্পটলাইটও। তার পাশেই অনেকটা খোলামেলা। উপর থেকে স্বচ্ছ আলোর নিচে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে আরও কজনের। মোটামুটি সীমিত পরিসরকে যতটা ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, তার পুরো চেষ্টাটাই করেছেন এখানে উদ্যোক্তারা। এবার কিছুটা পেছনে ফিরে গল্পের শুরুটা দেখা যাক, চার বন্ধু—আব্দুল্লাহ, নওরোজ, তানজিল, আশফাক বসেছেন একদিন আড্ডায়। তাদের দুজন আবার রান্নাবান্নায় বেশ পটুও। ভাবলেন একটা খাবারের দোকান দিলে কেমন হয়? তাদের বাইরের দেশের রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেগুলোতেও বিভিন্ন কাজ দেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মূলত সেভাবনাতেই শুরু, তারপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা শুরু করেন এই বিশাল আয়োজন, মূলত এটা আর তখন খাবারের দোকান থাকেনি, হয়ে গেল পুরোদস্তুর ভিন্ন স্বাদের এক ক্যাফে। সাজসজ্জার বিষয়ে তো অনেক কথাই হলো, চলুন দেখি খাবারের কী আয়োজন? মেন্যু হাতে নিয়ে খানিকটা অবাক হবেন। নাটকের স্ক্রিপ্টের মতো একটা বোর্ড। টাইপ হরফে লেখা মেন্যুগুলো। দামটা কিঞ্চিত বেশি মনে হতেই পারে, কিন্তু এটাও খেয়াল রাখতে হবে সব খাবারই এখানে অন্যরকম, যেটা হয়তো বাইরে পাওয়া যাবে না তেমন। উদ্যোক্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। দুপুরে ৩০০ টাকাতেই পেয়ে যাবেন সেট মেন্যু। ড্রিংকসসহ থাই, মেডিটেরিয়ান বা ল্যাটিন আমেরিকান কোনো খাবার। এর বাইরে তাদের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা স্প্রিং রোলও খুব পছন্দ করেন খেতে আসা অতিথিরা। আর বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে চাইলেও কিন্তু এ জায়গার জুড়ি মেলা ভার। আর জানিয়ে দিই, সপ্তাহ শেষের দিনে এখানে থাকে আরও নানা স্বাদের খাবার। একসাথে ৩২ জন বসতে পারেন এখানে। কোনো রিজার্ভেসনের ব্যবস্থা না থাকলেও হাজির হয়েই জানাতে পারেন কজন মিলে কী কী খেতে চাচ্ছেন। তো ঘুরেই আসুন এবার সিলান্ট্রো!