‘মানবাধিকার’ অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ১৮:৩৭
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
মো. মিজানুর রহমান
সহকারি শিক্ষক
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
মানবাধিকার অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার রয়েছে।
অধ্যায়-৭
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ‘মানবাধিকার’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বাড়িতে কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তির প্রতি কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে?
উত্তর: শহরের বাসা-বাড়িতে অনেক দরিদ্র নারী ও শিশু কাজে সহায়তা করে থাকে। অনেক সময় সামান্য কারণে বা বিনা কারণে এসব শিশু বা অন্যদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়। বাড়িতে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা কখনো কখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়। অনেক সময় তাদের বাড়ির অন্যদের সমান খাবার, পোশাক, চিকিত্সা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয় না। এতে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। মানুষের প্রতি এ ধরনের অন্যায় আচরণ করা উচিত নয়।
প্রশ্ন: আমাদের সমাজে শিক্ষা, খাদ্য, মজুরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কারা বৈষম্যের শিকার হয়?
উত্তর: মানবাধিকার অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তারা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের সমাজে শিক্ষা, খাদ্য, মজুরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে এখনো বৈষম্য রয়েছে। সামাজিক ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তিরাও এ ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়। আমাদের দায়িত্ব, সবাইকে সমান অধিকার দেওয়া। কোনোভাবেই মানুষে মানুষে বৈষম্য করা উচিত নয়।
প্রশ্ন: জাতিসংঘ-ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারগুলো কী?
উত্তর: জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ অধ্যায়-১০
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অধ্যায় ১০ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
অল্প কথায় উত্তর দাও।
প্রশ্ন: গণতান্ত্রিক মনোভাব কাকে বলে?
উত্তর: আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন রকম কাজ করি। এসব কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম মত দিতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আবার কারও একার মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলে তা ঠিক নাও হতে পারে। অন্যরাও সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে আপত্তি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ঐকমত্য। অধিকাংশ লোকের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সে সিদ্ধান্তকে সম্মান করাকেই বলে গণতান্ত্রিক মনোভাব।
গণতান্ত্রিক মনোভাব একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণ। সমাজের সব সদস্যের এ গুণ থাকা উচিত।
প্রশ্ন: সমাজের সদস্যদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া উচিত কেন?
উত্তর: আমাদের সমাজকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সবাইকে গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া উচিত এবং এর চর্চা করা উচিত। গণতান্ত্রিক মনোভাব একটি ব্যক্তিগত এবং সামাজিক গুণ। এতে অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে, সমাজে শান্তি বিরাজ করে। গণতান্ত্রিক মনোভাবের ফলে সমাজে সবাই মিলেমিশে চলতে শেখে, যা সমাজে শান্তি ও সমপ্রীতি নিয়ে আসে। এ জন্য আমরা বাড়ি, বিদ্যালয়, খেলার মাঠ সব জায়গায় গণতান্ত্রিক আচরণ করব। এর ফলে আমাদের দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।