যে জাতি জীবন হারা অচল অসাড় পদে পদে বাঁধে তার জীর্ণ লোকাচার

গতিশীলতা হচ্ছে জীবনের ধর্ম। যে জাতির প্রাণপ্রবাহ গতিহীন , যারা জড়ের মতো তারা কখনো উন্নতি সাধন করতে পারে না। স্রোতহীন নদীতে যেমন শৈবাল দাম বাধে, চিন্তা ও কর্মে প্রগতিহীন জাতির জীবনে তেমন জীর্ণ লোকাচার এসে বাধা সৃষ্টি করে। তারা দিন দিন সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকে। মানুষ চিন্তা-চেতনা, বিবেক-বুদ্ধি, বিচার-বিবেচনা ও কাজকর্ম প্রভৃতির মাধ্যমে নিজেকে প্রাণবন্ত ও প্রগতিশীল রাখে। আত্মোন্নয়ন জাতীয় উন্নয়নের জোয়ার বয়ে আনে। কিন্তু যে মানুষ প্রগতির ধার ধারে না, তার ভাগ্য কোনোদিন পরিবর্তিত হতে পারে না। তদ্রুপ যে জাতি নিজেদের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা না করে, তারা কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তারা দিনদিন পিছিয়ে পড়তে থাকে। স্রোতহীন নদীতে যেমন শৈবাল দাম বাধে, চিন্তা ও কর্মে প্রগতিহীন জাতির জীবনে তেমন জীর্ণ লোকচার এসে বাসা বাঁধে। তারা নানান রকম কুসংস্কার, আত্মবিশ্বাসের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। আত্মোন্নয়ন, ভাগ্যোন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়ন তাদের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়। তারা অদৃষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকে স্থূল বা জড় পদার্থের মতো । আস্তে আস্তে প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে ফেলে তারা। অন্ধকারচ্ছন্নতায় ,কুসংস্কার ও অলসতায় গা ভাসিয়ে তারা জাতীয় চেতনার কথাও ভুলে যায়। স্বাধীন ভাবে চলার ক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলে। এক সময় পরাধীনতার কালো ছায়া নেমে আসে তাদের ওপর।যে জাতি গতিশীল , প্রাণঞ্চল, তাদের মধ্যে জরাজীর্ণতা বাসা বাধতে পারে না। ফলে তারা উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে পারে ।