গোপন তথ্য ফাঁসকারী স্নোডেন ‘নিখোঁজ’
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ২০:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে টেলিফোন ও ইন্টারনেটে জনগণের ওপর সরকারের নজরদারির গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়া সাবেক সিআইএ কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি হংকংয়ের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তার শাস্তি হতে পারে এ আশঙ্কায় তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউস এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের গোপনে সংগ্রহ করা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাজ্যে হস্তান্তরের খবর গার্ডিয়ানে প্রকাশের পর এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির এমপিরা। এ বিষয়ে সোমবার পার্লামেন্টে ব্যাখ্যা দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে টেলিফোনে সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করছে এবং ইন্টারনেটে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে তা যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ানের কাছে ফাঁস করে দেন স্নোডেন। গত সপ্তাহে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। সিআইএ’র সাবেক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড স্নোডেন গার্ডিয়ানকে বলেন, মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্যই তিনি বিষয়টি ফাঁস করেছেন। ২০০৭ সালে চালু হওয়া প্রিজম কর্মসূচির আওতায় প্রধান ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর সার্ভারে প্রবেশ করে ই-মেইল ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। স্নোডেন ওই কর্মসূচির অতি গোপনীয় কিছু নথি ওয়াশিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ানের হাতে তুলে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাবেক আইন উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট বাকের বলেছেন, স্নোডেন যা করেছেন, সেজন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। হংকংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকায় আটক হলে স্নোডেনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের গোপনে সংগ্রহ করা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাজ্যে হস্তান্তরের খবর ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানে প্রকাশের পর এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির এমপিরা। এ বিষয়ে সোমবার পার্লামেন্টে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, যুক্তরাজ্যের গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন হেডকোয়ার্টার্স (জিসিএইচকিউ) কোনো ধরনের আইন লংঘন করেনি। তাদের বিরুদ্ধে আইন লংঘনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সম্পর্কে আমরা কোনো তথ্য সংগ্রহ করে থাকলে তা সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে।