এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৫৫
শুধু কি বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনাই পরবর্তী কর্মক্ষেত্রের জন্য অপরিহার্য—এমন প্রশ্নের উত্তরে বেশির ভাগ মানুষই না-বোধক মাথা নাড়বেন। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা শুধুমাত্র সনদপত্র লাভের ক্ষেত্রে দরকার পড়ে কিন্তু কর্মজীবনে এর দরকার খুব বেশি একটা দেখা যায় না। তাই পড়াশোনা করতে হবে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের যথার্থ সময়টি আসে উচ্চমাধ্যমিকের পরে। এই সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী পেশা নির্ধারণ করতে পারেন। কেননা পেশাগত জীবনের প্রাথমিক যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিকের পরই অর্জন করা সম্ভব হয়। এ নিয়ে আমাদের এবারের আলোচনায় লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
লেখাপড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যত্ কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকছে পার্টটাইম জব বা খণ্ডকালীন চাকরির প্রতি। এইচএসসি কিংবা ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণ বা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা তাদের অবসর সময় কাজে লাগিয়ে যেমন অর্জন করছে অর্থ, তেমনি লেখাপড়ার পাশাপাশি অর্জন করছে অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব। তদুপরি এমনি শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হচ্ছে উদ্যমী এ তরুণ-তরুণীদের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোর্স করে নিলে তা পরবর্তী জীবনের জন্য হয়ে উঠে অন্যতম প্রধান বিষয়। তাই এখন অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের জ্ঞানের পরিধিটাকে আরও একটু বাড়িয়ে নিতে ভর্তি হচ্ছে নানা ধরনের কোর্সে। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা করাটা যেমন জরুরি তেমনি অন্যান্য বিষয়ে নিজেকে পারদর্শী করে তোলাও কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে কম্পিউটার শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার জানা না থাকলে এ সময়ে কম্পিউটার শিখে নিজের দক্ষতা বাড়ানো যায়। এ ছাড়া কম্পিউটার জানা থাকলেও এর যেসব বিষয়ের প্রতি আগ্রহ আছে—সেসবের কোনো একটা শেখা যায়। সময় হয়ে ওঠে না—এ অজুহাতে অনেকে কম্পিউটার শিখতে পারে না। এইচএসসি পরীক্ষার পর এ সময়টাকে কাজে লাগানো যেতে পারে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের কোর্সগুলো করে। ইংরেজিতে দক্ষতা থাকলে তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগে। এসএসসি পরীক্ষার পর পরই ফাউন্ডেশন ইংলিশ, স্পোকেন, আইইএলটিএস, টোফেল, স্যাট, জিম্যাট ইত্যাদির প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে তৈরি করা যায়। দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ইংরেজি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। শুদ্ধ উচ্চারণ, স্বর ও বাচনরীতি, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ইত্যাদি সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েও নিজের দক্ষতা বাড়ানো যায়। এসব বিষয় নিজেকে চৌকস করতে সহায়তা করবে। প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগে। শাহবাগের বাংলার মুখ সোসাইটির ফ্যাকাল্টি অব পারফর্মিং আর্টস এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রকে (টিএসসি) ঘিরে রয়েছে এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর অনেক স্থানেই উপস্থাপনা, আবৃত্তি, উচ্চারণ ইত্যাদি বিষয়ের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ সময় এসব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে এসব কোর্স করে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো যায়। তেমনি পেশাজীবনেও এসব কাজে লাগবে। কারিগরি প্রশিক্ষণও নেওয়া যেতে পারে। ইলেকট্রনিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিলে ভবিষ্যতের জন্য দারুণ এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। মোবাইল ফোন মেরামতিটাও শেখা যেতে পারে এ সময়ে। এ ছাড়া কেউ চাইলে মোটরগাড়ি মেরামতসহ বিভিন্ন ট্রেড কোর্সও করতে পারেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া মানেই কিন্তু চাকরি বা পেশাজীবনের শুরু নয়। উচ্চমাধ্যমিক স্নাতক-উচ্চশিক্ষা শেষে যে পেশাজীবনের শুরু হবে তার জন্য কিছু পুঁজি সঞ্চয় করা যাবে।
খণ্ডকালীন কাজ করতে
পার্টটাইম জব করতে চাইলে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে থাকতে হবে আনুষঙ্গিক কিছু বৈশিষ্ট্য—ভালো কমিউনিকেশন স্কিল, ভালো ইংরেজি জানা ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, নিজ কর্ম ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা।
যেভাবে পাবেন পার্টটাইম জব
পত্রিকায় পার্টটাইম জবের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে আবেদনপত্র পাঠিয়ে দিন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। অধুনা সুযোগ রয়েছে অনলাইন জব সাইটে আবেদন করার। তা ছাড়া বন্ধুদের কাছে পেতে পারেন এমন কাজের খবর। পার্টটাইম জবের সুযোগদানে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা রাখছে তা হলো শপিংমল, দোকান, ফাস্টফুড, রেস্তোরাঁ, কলসেন্টার, এনজিও, মিডিয়া প্রভৃতি।
শপিং সেন্টার
ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক। দুই শিফটে এখানে কাজ করা যায়। সকাল ১০ থেকে আড়াইটা, আবার আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। প্রতি শিফট সাড়ে ৪ ঘণ্টা করে। মাসিক বেতনের পাশাপাশি রয়েছে বিক্রির ওপর কমিশন, ওভারটাইম।
কলসেন্টার
বিভিন্ন কলসেন্টার কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। এখানে ৩ শিফটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রতি শিফট ৮ ঘণ্টা করে। শিফট শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে। এক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো শিফট নেওয়া যায়। ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক। সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা, বেলা ৩টা থেকে রাত ১১টা, রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা। কাজ করতে হবে সপ্তাহে ৫ দিন। বেতন প্রদান করা হয় ঘণ্টা হিসেবে।
এনজিও
বাংলাদেশে এনজিওগুলোতে পার্টটাইম জবের রয়েছে বিশাল বাজার। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে কিংবা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে জানা যাবে পার্টটাইম জবের খবর।
টিউশন ও কোচিং সেন্টার
ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্টটাইম জব টিউশনি। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও বিষয়কে মাথায় রেখে করতে হবে টিউশনি। পড়ানোর শ্রেণীভেদে বেতন হয় ভিন্ন ভিন্ন। নিজস্ব যোগাযোগই টিউশনি পাওয়ার সহজ উপায়। এ ছাড়া নিকটস্থ কোচিং সেন্টারে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারেন।
মিডিয়া
বর্তমান প্রেক্ষিতে পার্টটাইম জবের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র মিডিয়া। মিডিয়া বলতে বোঝায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। পত্রিকায় ফিচার লিখতে আগ্রহীরা বিভাগীয় সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ করে লেখালেখি শুরু করতে পারেন প্রদায়ক হিসেবে। এক্ষেত্রে থাকতে হবে লেখার ক্ষমতা, হতে হবে চৌকস ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার অধিকারী। স্যাটেলাইট টিভিতে সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবেও খণ্ডকালীন কাজও করতে পারেন।
সতর্কতা
খণ্ডকালীন চাকরির নামে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এ জন্য সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
গাড়ির গ্লাস, রাস্তার পাশের খুঁটিতে লাগানো খণ্ডকালীন চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হবেন না।
যেকোনো ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ—প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করতে পারে।
চাকরির শুরুতে আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।
মডেল ইভান ও সারা