সোস্যাল নেটওয়ার্কের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

গত বছরের শেষ অর্ধে ফেসবুকের ১৮ থেকে ১৯ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য ফেসবুকের কাছে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। একই সময়ে মাইক্রোসফটের কাছেও তারা ৩১ হাজার থেকে ৩২ হাজার অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছে। সংখ্যা না জানালেও আরেক টেক জায়ান্ট গুগলও স্বীকার করে নিয়েছে, তাদের কাছে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সম্প্রতি ফেসবুকের জেনারেল কাউন্সেল টেড উলিয়ট এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছ থেকে সরকারের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তার বক্তব্যে তিনি জানান, গত বছরের শেষ ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ৬ থেকে ৭ হাজার অনুরোধ পাঠিয়েছে ফেসবুককে, যেসব অনুরোধে ১৮ থেকে ১৯ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় অপরাধ থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে এসব অ্যাকাউন্ট জড়িত বলে জানিয়ে এসব অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ফেসবুকের কাছে। অবশ্য এসব অ্যাকাউন্টের কোন কোন তথ্য সরকারকে তারা দিয়েছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট না করেই তিনি জানিয়েছেন, ফেসবুক তার অ্যাকাউন্টধারীদের সকল তথ্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করে থাকে। এদিকে গত কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোয়েন্দাগিরির খবর প্রকাশিত হয়ে পড়ায় প্রযুক্তি বিশ্বে চলছে তোলপাড়। বিভিন্ন শীর্ষ সংবাদসংস্থাগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। শুরুতে অবশ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। পরবর্তী সময়ে অ্যাকাউন্টধারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য তারা সরকার কর্তৃক অনুরোধের বিষয়টি সকলের কাছে তুলে ধরার অনুমতি চায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য মোট অনুরোধের সংখ্যা প্রকাশের অনুমতি মেলে বলেই জানা যায় ফেসবুকের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে। তবে সোস্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের এসব তথ্য সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত থাকা উচিত বলেই মনে করছেন তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে কর্মরতরা।