লিডিয়া ডেভিস: ‘একজন দৃশ্যের স্রষ্টা’

আজ যাঁর কথা বলছি তিনি হয়তোবা এখনও তেমন করে সবার কাছে স্মরণযোগ্য হয়ে ওঠেন নি। কিন্তু যাঁরা সাহিত্যজগতের মধ্যে বসবাস করেন তাঁদের কাছে পৌঁছে গেছে লিডিয়া ডেভিসের নাম এবং কীর্তির কাহিনী। ১৯৭৪ সালে ম্যাসাচুসেটসের নর্থহ্যাম্পটনে জন্ম নেন। বাবা রবার্ট গরহ্যাম ডেভিস ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন। লিডিয়া সমালোচনার বিষয়টি বাবার নিকট থেকে খুব ভালো ভাবে আয়ত্ত করেছেন, বলা যায় একজন গল্পকারের চেয়ে অনেকবেশি সমাদৃত তিনি তাঁর সমালোচনার জন্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তিনি গল্প লেখেন অত্যন্ত ছোট আকারের । যাঁরা বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে বিশেষ খ্যাতিমান লেখক তাঁদের কাছে এই ক্ষুদ্র গল্প লেখকের রচনা হয়তো কিছুই নয় বলে বিবেচিত, কিন্তু যাঁরা লিডিয়া ডেভিসের মার্বেল সাইজের গল্পগুলো গভীরভাবে অনুধ্যান করেছেন, অনুধাবন করেছেন , তাঁরা ঠিকই বুঝেছেন, কত স্বল্প কথায় জীবনের গভীর বিষয়কে তুলে আনা সম্ভব। অনেক কথার মধ্যে জীবনের আখ্যানকে উপস্থাপন করার চেয়ে অতি সংক্ষেপে , লেখকের কথায় কেবল একটা দু’টো দৃশ্যের মধ্যে সে জীবনের গল্পকে তুলে ধরা অনেকবেশি কৃতিত্বের। এই ক্ষুদ্র গল্প লেখক লিডিয়া বিশ্বজনসমাদৃত ক’জনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেছনে রেখে জয় করেছেন, ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল’ পদক। তাঁর এই অর্জন অনেককে আহত করলেও আনন্দের কথা সময় এবং চেতনার পরিবর্তনে বিশেষ ভাবান্তর এসেছে, যা আমাদের মতো অনেককেই প্রাণিত করেছে। ‘বাক্যসম গল্পলেখিকা’ বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন যাঁরা তাঁরাও হয়তো ইতোমধ্যে উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন লিডিয়ার সাফল্যের রহস্য। লিডিয়ার মতে, গল্পের কাহিনী কিম্বা চরিত্রকে অকারণে টেনে-হিঁচড়ে বড় করা তাঁর মোটেও পছন্দ নয়। বুকার ইন্টারন্যাশনালের বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান স্যার ক্রিস্টোফার রিকস ডেভিস সম্পর্কে বলেন, তাঁর গল্পগুলো সাহিত্যের অনেক কাঠামো ও গঠনশৈলী ভেঙে দিয়েছে। ব্রিটিশ লেখক ও অভিনেত্রী নাতালী হেইনেস বলেছেন, একজন লেখক ৯০০ পাতায় যা বলতে চেয়েছেন, লিডিয়া ডেভিস এক পাতায় সেটি বলার ক্ষমতা প্রকাশ করতে পেরেছেন। ব্রিটিশ সাহিত্যসমালোচক অ্যালি স্মিথ বলেছেন, ক্ষুদ্রাকার গল্প লেখা সাহসের কাজ। লিডিয়ার ক্ষুদ্র গল্পেও একাধারে হাস্যরস, বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি সব মিশেল রয়েছে। লিডিয়া ডেভিস তাই আমাদের সাহিত্যপ্রেমি এবং সাহিত্যসেবিদের কাছে যেমন স্মরণীয়, তেমনি সব ধরণের পাঠকের কাছেও সমাদৃত, তিনি বরণীয়ও বটে।