যত্নে থাকুক রসুইঘর

জায়গার সঠিক ব্যবহার রান্নার সময় সহজেই হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্য ছোটখাটো কিছু অদলবদল করে নিন নিজের সুবিধামতো। অ্যারেঞ্জমেন্ট খুবই জরুরি রান্নাঘরের রকমারি জিনিসপত্র মেইনটেন করার জন্য। ক্যাবিনেট ক্যাবিনেটগুলো একেকটা বাসনের মাপ অনুযায়ী একেক রকম সাইজে বানিয়ে নিন। যেমন-বোল বা প্যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটের চেয়ে আরেকটু লম্বা হবে ট্রে রাখার ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেটের দরজার ভিতরের দিকে নানা মাপের খুন্তা, হাতা, বড় চামচ ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখার আংটা রাখুন। কিচেন কাউন্টারের মধ্যে পুল আউট টেবিল বানিয়ে নিন। ইচ্ছামতো সেটা তুলে বোল্ট আটকে দিয়ে গ্যাপটা ভরাট করে নিলেই চলবে। এবার ওই টেবিলের উপর রেখে প্রয়োজনীয় কাটা-বাছা, রুটি বেলা সবকাজ করা যেতে পারে। জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু কিচেন ফার্নিচার বাতিল করে ফাঁকা ওয়ালস্পেসে কিছু হ্যাঙ্গিং ক্যাবিনেট ও শেলফ বানিয়ে নিন। এতে করে দেখতেও সুন্দর লাগবে আবার চলাফেরার জন্য স্পেস বাড়বে। বাসনপত্র প্রতিটি ছোটখাটো বাসনও নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন—লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ; এগুলো খাবার ঘরের সাইড-বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে। বাসনপত্র ধোয়ার পর, ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য সবসময় পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন। সিঙ্ক ও গ্যাসের চুলা যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোণা খোপ কেটে নিতে পারেন। আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। তাহলে রান্নার সময় এ ক্যাবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে হাতের কাছে নিতে পারবেন। সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন। রান্নাঘরে অবশ্যই একটি ঢাকনা দেওয়া নোংরা ফেলার বালতি রাখবেন। কিচেন গ্যাজেটসের ব্যবহার রান্নাঘরের গ্যাজেটপত্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এগুলোর হ্যান্ডেলিংটাও একটা জরুরি ব্যাপার। চটপট রান্নার পাট চুকিয়ে ফেলার জন্য হাতের কাছে রাখুন কয়েকটি স্মার্ট অপশন। ইলেকট্রিক চিমনি নতুন সিস্টেমে কার্বন ফিল্টারে দূষিত ধোঁয়াটা পিউরিফাই হয়ে বেরিয়ে যায়। এরজন্য আলাদা নলের দরকার হয় না। বেশি ভাজাভুজি বা ঝাল মসলার রান্না হলে তেল, গ্যাস শুষে নেওয়ার জন্য মোটরের ক্যাপাসিটি কত জেনে নিন। চিমনির এয়ার সাকশন ক্যাপাসিটি কত সেটাও মনে রাখুন। নিরাপদ থাকার জন্য সারাদিন বেশ কিছুটা সময় আমাদের রান্নাঘরেই কাটাতে হয়। রান্নাঘরে নিরাপদ থাকার জন্য কতগুলো জরুরি কথা অবশ্যই মেনে চলা দরকার। পোশাক সিন্থেটিক মেটিরিয়ালের তৈরি জামাকাপড় পরবেন না। সুতির কাপড় পরুন। ঝোলা লম্বা হাতার পোশাক বা এলোমেলো কাটের পোশাক পরবেন না। ঢাকা জুতা পরে রান্নাঘরে কাজ করার চেষ্টা করুন। পরিচ্ছন্নতা মেঝে কখনোই অপরিষ্কার রাখবেন না, বিশেষ করে তরকারির খোসা, পানি, তরকারির ঝোল পড়ে থাকলে বাচ্চারা পড়ে যেতে পারে। হাতের কাছে মোছার জন্য কাপড় বা ডাস্টার রাখুন। গ্যাজেটস মিক্সিতে পেস্ট করার পর পুরোটা বের করতে না পারলে চামচ ব্যবহার করুন। কখনোই হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বাকি জিনিস বের করতে যাবেন না। হাত কেটে যেতে পারে। গ্যাজেটসের প্লাগ কখনোই পানির কাছে রাখবেন না। পেপার টাওয়েলের মতো কোনো দাহ্য বস্তু বার্নারের কাছে রাখবেন না। কিছুদিন পর পর গ্যাসের পাইপ পরীক্ষা করুন। কোনো লিকেজ থাকলে বদলে ফেলুন। গ্যাসের পাইপের উপরে গরম খাবার ফেলবেন না। ছবি দীপঙ্কর দীপু