সুপার কম্পিউটারে আবার শীর্ষস্থানে চীন

সুপার কম্পিউটার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি আর চীনের মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর পুরোনো। বলতে গেলে প্রতিবছরই এই দেশ তিনটির কোনো একটি অন্যটিকে পেরিয়ে তৈরি করে নতুন নতুন এবং আগের চাইতে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার। এরই ধারাবাহিকতায় এবারে টায়ানহে-২ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের টাইটানকে পেছনে ফেলে আবারও সুপার কম্পিউটারে শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে চীন। চীনের সরকার কর্তৃক পরিচালিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্সের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই সুপার কম্পিউটারটিই এখন বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটারের তকমাটি বাগিয়ে নিয়েছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এই সুপার কম্পিউটারটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সাল নাগাদ। প্রায় দুই বছর আগেই তৈরি হয়ে যাওয়া টায়ানহে-২-এর কল্যাণেই তারা ২০১১ সালের জুনের পর এই প্রথম আবার সুপার কম্পিউটারের তালিকায় প্রথম স্থানটি দখল করে নিতে সমর্থ হলো। গতির রাজা টায়ানহে-২ গতির হিসেবে আগের যেকোনো সুপার কম্পিউটারকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছে টায়ানহে-২। টায়ানহে শব্দের অর্থ ছায়াপথ। এর নির্মাতারা জানিয়েছেন, এর গতি সেকেন্ডে ৩৩.৮৬ পেটাফ্লপ। অর্থাত্, এটি সেকেন্ডে ৩৩,৮৬০ ট্রিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এর চেয়েও প্রায় দেড়গুণ বেশি গতিতে কাজ করতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ ৫৪.৯ পেটাফ্লপ পার সেকেন্ড গতিতে কাজ করতে পারে। সুপার কম্পিউটারের তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা টাইটানের গতি সেকেন্ডে ১৭.৫৯ পেটাফ্লপ, যা সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২৭.১১ পেটাফ্লপ গতি লাভ করতে পারে। অর্থাত্, টাইটানের দ্বিগুণ গতিসম্পন্ন টায়ানহে-২। টায়ানহে-২-এর অনন্য ফিচার এই বিশাল গতির সুপার কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.১২ মিলিয়ন বা ৩১ লক্ষ ২০ হাজার প্রসেসর। ইন্টেলের তৃতীয় প্রজন্মের আইভি ব্রিজ প্রসেসর এবং জিওন ফাই চিপ ব্যবহার করা হয়েছে এতে। বিশাল গতির পাশাপাশি এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ কিছু ফিচার। এসব ফিচারের মধ্যে রয়েছে কাস্টমাইজ ইন্টারকানেকশন নেটওয়ার্ক, যা পুরো সিস্টেমের মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করতে সক্ষম। এ ছাড়া এতে ব্যবহার করা হয়েছে চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্সের তৈরি ৪,০৯৬টি গ্যালাক্সি এফটি-১৫০০ সিপিইউ। আবহাওয়া বিষয়ক ভবিষ্যতবাণী এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করার জন্য এই সিপিইউগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে ব্যবহার করা হয়েছে লিনাক্সনির্ভর ‘কাইলিন’। নিরাপত্তা, শক্তি, অ্যারোস্পেস এবং অন্যান্য বিশেষ বিশেষ খাতের জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে ২০১৫ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সুপার কম্পিউটার আসার সম্ভাবনা না থাকায় আগামী দুই বছর টায়ানহে-২ শীর্ষস্থান ধরে রাখবে বলেই ধারণা করছেন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, বর্তমানে শীর্ষ ৫০০ সুপার কম্পিউটারের তালিকায় ২৫২টি সুপার কম্পিউটার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে চীন (৬৬টি), জাপান (৩০টি), যুক্তরাজ্য (২৯টি), ফ্রান্স (২৩টি) ও জার্মানি (১৯টি)। দ্রুততম ১০ সুপার কম্পিউটার ১. টায়ানহে-২ (চীন) ২. টাইটান (যুক্তরাষ্ট্র) ৩. সেকুইয়া (যুক্তরাষ্ট্র) ৪. কে কম্পিউটার (জাপান) ৫. মিরা (যুক্তরাষ্ট্র) ৬. স্টামপিড (যুক্তরাষ্ট্র) ৭. জুকুইন (জার্মানি) ৮. ভালক্যান (যুক্তরাষ্ট্র) ৯. সুপারমাক (জার্মানি) ১০. টায়ানহে-১এ (চীন)