এবার হজ্বে যাবেন ১২৭১৯৮ জন বাংলাদেশি

এবারে হজ্বযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পর তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার সময় দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতি ৪৫ জন হজ্বযাত্রীর জন্য একজন করে গাইড থাকবে। এবার হজ্বযাত্রীর সংখ্যা হবে সোয়া লাখের বেশি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উত্থাপন করা প্রশ্নোত্তরপর্বে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া সংসদকে একথা জানান। মোহাম্মদ শাহ আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছর হজ্ব কার্যক্রমে অনিয়ম করার অভিযোগে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকার ৯৫টি হজ্ব এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। হজ্ব চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ্ব পালনে সৌদি আরবে যাবেন। এদিকে ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৯০১টি ট্রাভেল এজেন্সিকে হজ্ব লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। মুহাম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পর ২০ দিনের মধ্যে (২০ শাওয়াল) সৌদি আরবে হজ্ব এজেন্সিগুলোকে সৌদি আরবে বাড়ি ও হোটেল ভাড়ার কাজ সম্পন্ন করার সময় দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় প্রতি ৪৫ জন হজ্বযাত্রীর জন্য একজন করে গাইড থাকবে। এছাড়া হজ্বক্যাম্প প্রস্তুত করা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, হজ্বযাত্রীদের টিকা প্রদান এবং সর্বোপরি হজ্বযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। অনুদানের টাকা ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওমরাহ ও হজ্বের নামে সৌদি আরবে মানব পাচারের অভিযোগে ২০০৯ থেকে গত বছর পর্যন্ত ৩০টি এজেন্সির হজ্ব লাইসেন্স বাতিলসহ পৃথক অংকের অর্থদণ্ড এবং ইমিগ্রেশন আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩৭টি ভাষায় কথা বলে ১.১৮ জন সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ জানান, দেশে ৩৮টি ভাষা রয়েছে। এর মধ্যে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলে শতকরা ৯৮ দশমিক ৮২ ভাগ মানুষ। অবশিষ্ট এক দশমিক ১৮ ভাগ মানুষ ৩৭টি ভাষায় কথা বলে। এসব ভাষা হচ্ছে:বড়াইক, নাগরি, বম, চাক, চাকমা (সাংমা), ডালু, গারো (আচিক), হাজং, খাসি, খুমি, হিওবে (থিয়াং), কোচ, কোডা, লুসাই, কুমালী, পাহাড়ি, মালপাহাড়ি, সাদির, মান্দি, মণিপুর (বিষ্ণুপুরিয়া), মার্মা, ম্রো, মান্দারাই, রাখাইন, সান্তুতাল, তঞ্চঙ্গা, ককবোরোক, ফারসি, উসাই, তেলেগু, উর্দু, মাড়ওয়ারী, কুরুক, ওড়িয়া, পাংখোয়া, ভোজপুরী ও কামতাপুরী।