দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র প্রস্তুতি

অধ্যায়-১ : উদ্ভিদের বিভিন্নতা পরিচ্ছেদ-৪ :কিংডম: প্রোটকটিস্টা প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য রয়েছে জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের ১ নম্বর অধ্যায়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর। * জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কিছু স্থায়ী নমুনা পর্যবেক্ষণ করলো। কনক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটি শৈবাল পর্যবেক্ষণ করলো, যা এককোষী এবং কোষপ্রাচীর দুটি ভাল্ভযুক্ত। অন্যদিকে পলাশ আর একটি শৈবাল লক্ষ্য করলো, যার স্টাইপ প্রাথমিক শাখা, সেকেন্ডারি শাখা ও টারসিয়ারি শাখা নিয়ে গঠিত। প্রশ্ন:ক. সংশ্লেষ কাকে বলে? প্রশ্ন:খ. পার্শ্বীয় কনজুগেশন বলতে কী বুঝায়? প্রশ্ন:গ. কনকের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটির গঠন বর্ণনা কর। প্রশ্ন:ঘ. কনক ও পলাশের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবাল দুটি কী একটি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত? উত্তরের সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও। উত্তর:ক. যে যৌন জনন পদ্ধতিতে পাশাপাশি দুটি কোষের (পৃথক ফিলামেন্ট বা একই ফিলামেন্ট) মধ্যে কনজুগেশন টিউব তৈরি হয় এবং পুংগ্যামেট ঐ টিউবের মধ্য দিয়ে চালিত হয়ে স্ত্রীগ্যামেটের সাথে মিলিত হয় তাকে কনজুগেশন বা সংশ্লেষ বলে। উত্তর:খ. একই ফিলামেন্টে পাশাপাশি কোষে পুংগ্যামেট এবং স্ত্রীগ্যামেট সৃষ্টি হলে এবং পুংগ্যামেট পার্শ্বীয় নালী বা ছিদ্রের মাধ্যমে নিশ্চল স্ত্রীগ্যামেটের সাথে মিলিত হলে তাকে পার্শ্বীয় কনজুগেশন বলে। এ ধরনের সংশ্লেষে সব সময় একটি ফিলামেন্ট অংশগ্রহণ করে থাকে। পার্শ্বীয় সংশ্লেষে কনজুগেশন টিউব তৈরি হলে একই ফিলামেন্টের পাশাপাশি দুটি কোষ হতে উত্পন্ন হয়। উত্তর:গ. কনকের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটি Navicula। নিম্নে এটির গঠন বর্ণনা করা হলো: Navicula একটি আণুবীক্ষণিক ডায়াটম। এরা এককোষী এবং ডিপ্লয়েড। Navicula-এর কোষপ্রাচীর দুটি ভাল্ভ্ অর্থাত্ দুটি কপাটিকা দিয়ে গঠিত। বাইরের কপাটিকাকে এপিথিকা বলে। এটি অপেক্ষাকৃত বড়। ভেতরের কপাটিকাকে হাইপোথিকা বলে। এটি অপেক্ষাকৃত ছোট। বড় কপাটিকাটি ছোটটিকে আবৃত করে রাখে। এপিথিকা ও হাইপোথিকা পরস্পর একটি ব্যান্ড দিয়ে যুক্ত থাকে। এই ব্যান্ডকে গার্ডল বলে। Naviculaকে এর যে কোন প্রান্ত থেকে দেখলে গার্ডল এবং জোড়ামুখ দেখা যায়। এ দৃশ্যকে গার্ডল ভিউ বলে। এর যেদিক থেকে দেখলে ভাল্ভ্ বা কপাটিকা দেখা যায় সেই দৃশ্যকে ভাল্ভ্ ভিউ বলে। ভাল্ভ্ ভিউতে কপাটিকার জোড়ামুখ দেখা যায় না। একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়াটম কোষকে ফ্রুস্টিউল বলে। Navicula শৈবালের কোষপ্রাচীরে সিলিকা জমা হয়ে রেখাঙ্কিত অলংকরণ সৃষ্টি হয়। কপাটিকার উপর এ রেখা দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম। কপাটিকার লম্বালম্বিভাবে মাঝ বরাবর রেখাটিকে র্যাফি বলে। র্যাফিতে তিনটি উঁচু স্থান আছে, যাকে নডিউল বলে। র্যাফির দুই প্রান্তের নডিউলকে বলা হয় পোলার নডিউল এবং মধ্যভাগের নডিউলকে বলা হয় কেন্দ্রীয় নডিউল। Navicula কোষের অভ্যন্তরে একটি বড় গহ্বর আছে এবং গহ্বরকে পরিবেষ্টিত করে আছে ঘন সাইটোপ্লাজমের পুরু স্তর। ক্রোমাটোফোরে ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিন ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফিউকোজ্যান্থিক আছে। এছাড়াও আছে ডায়াটোমিন। কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে রয়েছে প্রচুর চর্বি ও ভলিউটিন। উত্তর:ঘ. কনকের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটি Navicula। আর পলাশের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটি Sargassum। Navicula শৈবালের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. Navicula এককোষী আণুবীক্ষণিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন। ২. এর সম্মুখদৃশ্য চারকোণাকৃতির এবং পার্শ্বদৃশ্য লম্বা নৌকার মতো। ৩. কোষপ্রাচীর সিলিকাযুক্ত এবং দুটি অসম কপাটিকা দিয়ে গঠিত। ৪. কোষপ্রাচীরে র্যাফি নামক একটি লম্বা রেখা বিদ্যমান। ৫. ক্রোমাটোফোরে ফিউকোজ্যান্থিন ও ডায়াটোমিন নামক বর্ণকণিকা থাকে। ৬. সঞ্চিত খাদ্য ভলিউটিন ও চর্বি। ৭. এদের একটি গ্রুপ মিঠা পানিতে, অন্য গ্রুপ সমুদ্রের লোনা পানিতে বাস করে। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে Navicula শৈবাল Bacillariophyta বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। Sargassum-এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. Sargassum একটি সামুদ্রিক বাদামি শৈবাল। ২. এর দেহ হোল্ডফাস্ট, স্টাইপ ও শাখা-প্রশাখা দিয়ে গঠিত। ৩. স্টাইপ প্রাথমিক শাখা, সেকেন্ডারি শাখা, টারসিয়ারি শাখা দিয়ে গঠিত। ৪. এরা বহুকোষী। ৫. অঙ্গজ ও যৌন জনন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে থাকে। ৬. সঞ্চিত খাদ্য ম্যানিটল, চর্বি ও ল্যামিনারিন। ৭. সেকেন্ডারি শাখায় বায়ুকুঠুরি বিদ্যমান। এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে Sargassumকে Phaeophyta বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, কনকের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবাল Navicula এবং পলাশের পর্যবেক্ষণকৃত শৈবাল Sargassum একই বিভাগের অন্তর্গত নয়।