কৃত্রিম চোখে আশার আলো...

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। কী করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে। কৃত্রিম চোখের বেশ কিছু মডেল এর আগেই তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবারে দৃষ্টিহীনদের জন্য নতুন এক কৃত্রিম চোখের মডেল তৈরি করেছেন স্ট্যানফোর্ড এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ‘ফটোভোল্টায়িক বায়োনিক আই’ নিয়ে এই গবেষক দলও অনেকদিন থেকেই কাজ করে আসছেন। এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় এবারে তারা এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, যা করে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় যুগান্তকারী এক মাইলফলক বলেই স্বীকৃতি পাচ্ছে। ওয়্যারলেস প্রযুক্তির এই নতুন ‘বায়োনিক আই’ উদ্ভাবন সম্পর্কিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘ন্যাচার’ জার্নালে। এই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন একটি মাইক্রোচিপ যা রেটিনাতে এমবেডেড আকারে স্থাপন করা হবে। আর সেটি তারহীনভাবেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে একগুচ্ছ ভিডিও আইগ্লাসের সাথে। ভিডিও গ্লাস থেকে যেসব ছবি ধারণ করা হবে, সেগুলোকে ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালে রূপান্তর করা হবে। এই সিগন্যালগুলো এমনভাবে তৈরি হয়, যাতে করে এগুলো চোখের নিউরন সরাসরি পড়তে পারে এবং সেগুলোকে ছবি হিসেবেই চিহ্নিত করতে পারে। ফলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ একে চোখের বিকল্প হিসেবেই দেখার সুযোগ পাবে। এর আগে এই গবেষকদল একই ধরনের চিপ উদ্ভাবন করলেও সেটার জন্য তারের সংযোগ প্রয়োজন ছিল। তবে এবারে আর তারের সংযোগ প্রয়োজন নেই। শুধু তাই নয়, এই চিপ পরিচালনা করার জন্য শক্তির উত্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সৌরবিদ্যুত্। আবার আগের চিপগুলো কেবল রেটিনার তলেই স্থাপন করা যেত। নতুন এই চিপ চোখের সাব-রেটিনার লেয়ারেও যুক্ত করা যাবে। ফলে চোখের সার্জারিতে জটিলতা আগের চাইতেও কমে যাবে। আবার সরাসরি চোখের সাব-রেটিনাল লেয়ারে একে যুক্ত করায় চোখের স্বাভাবিক নড়াচড়ার সাথে সাথে ভিডিও আইগ্লাসগুলো নড়াচড়া করতে পারবে। এতে করে স্বাভাবিক দৃষ্টির মতোই কাজ করবে নতুন এই চিপ, যা একটি বড় সাফল্য। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা এই বায়োনিক চোখ ইতোমধ্যেই ইদুরের উপর পরীক্ষা করা হয়েছে সফলভাবেই। আর খুব শীঘ্রই মানবদেহে ব্যবহারের উপযোগী সংস্করণও তৈরি করা যাবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। তাদের আশাবাদ বাস্তবে পরিণত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।