এক ডিভডিতেই পেটাবাইট!

তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের সবাইকেই ভাবতে হয়। যে পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য এখন আমাদের প্রতিনিয়ত ধারণ করতে হয়, তাতে করে এখন টেরাবাইট পর্যায়কেও অনেকের কাছে কম বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে তা হচ্ছেও অনেকের কাছে। কিন্তু তথ্য সংরক্ষণে আমাদের কি যথেষ্ট ভালো বিকল্প রয়েছে? তথ্য সংরক্ষণে আমরা ভালো মানের ডিভিডি ব্যবহার করে থাকি অনেকেই। তবে একটি ডিভিডিতে মাত্র ৪.৭ গিগাবাইট তথ্য ধারণ করা যায়। ডাবল-লেয়ারের ডিভিডি’র জন্য এই পরিমাণ ৭.৫ গিগাবাইট। ডিভিডি’র পরে অবশ্য আগমন ঘটেছে ব্লুরে ডিস্কের। একটি সিঙ্গেল লেয়ার ব্লুরে ডিস্কে ২৫ গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্য রাখা যায়। সেই হিসেবে সর্বোচ্চ চার লেয়ারের ব্লুরে ডিস্কে সর্বোচ্চ ১০০ গিগাবাইট তথ্য ধারণ করা সম্ভব। তথ্য সংরক্ষণে স্টোরেজের এই অপর্যাপ্ততা দূর করতে এমন এক ধরনের ডিভিডি ডিস্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক, যেই ডিস্কে ১ পেটাবাইট তথ্য ধারণ করা যাবে। যারা ১ পেটাবাইট দেখে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলে রাখি, এটি সত্যিই ১ পেটাবাইট বা ১ হাজার টেরাবাইট তথ্য ধারণে সক্ষম! ডিস্কে কোনো পরিবর্তন না এনেই কেবল লেজার ব্যবহারের ধরন বদলেই এই বিশাল স্টোরেজ তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন তারা। সাধারণভাবে একটি ডিস্কে লেজার ০ এবং ১ কে ‘ডট’ আকারে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমেই তথ্য সংরক্ষিত হয়। ডিস্কের আকার এবং ডটের আকারের উপর নির্ভর করেই ডিস্কের স্টোরেজ নির্ধারিত হয়। এই গবেষক দল এমনভাবে ডটের আকার নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন যাতে প্রচলিত ডিস্কেই বর্তমানের সংখ্যার চাইতে প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি ডট স্থাপন করা যায়। ফলে প্রচলিত ডিস্কেই এখনকার চাইতে হাজারগুণ বেশি তথ্য ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাত্ একটি ডিভিডিতেই রাইট করা যাবে ১ পেটাবাইট তথ্য। কবে নাগাদ এই প্রযুক্তি বাজারে আসবে, সেটা অবশ্য নিশ্চিত করে বলেননি উদ্ভাবকরা। তবে তারা আশাবাদ জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই প্রযুক্তি আলোর মুখ দেখবে। সেক্ষেত্রে তথ্য ধারণ নিয়ে আর দুশ্চিন্তায় থাকবেন না।