প্রিয়জনের জন্য উপহার

উপহার! এই শব্দটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা আর অনেক ভালোলাগা। প্রিয় মানুষদের কথা মনে রেখে, কোনো বিশেষ দিনে বা নেহাতই অকারণে উপহার দিতে পারলে কার না ভালো লাগে! উপহার পেয়ে প্রিয়জনের মুখে হাসি! এ থেকে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই। নতুন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য হোক কিংবা পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে উপহারের কোনো বিকল্প হয় না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, উপহারের মাধ্যমেই প্রকাশ পায় ব্যক্তির প্রতি, সম্পর্কের প্রতি আপনার মনোভাব, আপনার মানসিকতা। কার জন্য উপহার দেবেন, কোনো অনুষ্ঠানে দেবেন—এসব মাথায় রেখেই আপনার কাছের মানুষদের জন্য বেছে নিন মনের মতো উপহার। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক ভালোবাসার অনুভূতিই তো সবচেয়ে বড়। তবে এর প্রকাশটাও থাকা চাই। বিশেষ দিনে প্রিয়জনকে ছোট্ট একটি উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড আর ফুল দিয়ে নতুন করে যদি একবার বলি ‘তোমায় বড় ভালোবাসি’ তবে মন্দ কী? ভালোবাসার মানুষ হতে পারে বিশেষ একজন বা পরিবারের কেউ অথবা বন্ধুরা। প্রিয়জনের জন্য মনের মতো উপহার কিনতে পারার আনন্দই অন্য রকম। চলুন জেনে নিই, কী ধরনের উপহার আপনি দিতে পারেন আপনার প্রিয়জনকে। মা-বাবা :প্রিয় মা-বাবার হাতে তুলে দিন তাদেরই প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন তাদেরই পছন্দের রং, ব্র্যান্ড ও উপাদান। উপহার দিতে পারেন চশমা, ঘড়ি, কিংবা মেডিসিন বক্স বেডকভার, কুশন বা ওয়ালম্যাটও দিতে পারেন। দিতে পারেন মগ কিংবা টি-সেট। বাজেট একটু বেশি থাকলে কিনে ফেলুন একটি ইজি চেয়ার। বাবার যদি দাবা খেলার শখ থাকে, কিনে ফেলতে পারেন একটি দাবার কোর্ট কিংবা মায়ের জন্য রান্নার বই। মা-বাবা উভয়ের জন্য কিনে ফেলতে পারেন তাদের পছন্দের বিষয় বা লেখকের বই। এ ছাড়াও শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া তো উপহারের তালিকায় রয়েছেই। তবে খেয়াল রাখবেন, উপহারটি যেন অবশ্যই রুচিসম্মত হয়। বন্ধু বন্ধুর জন্য উপহার কিনুন একটু বাছাই করে। এমন কিছু উপহার দিন, যা আপনাদের সম্পর্কটাকে প্রকাশ করে। বন্ধুর জন্য কিনে ফেলতে পারেন কার্ড, চকলেট, সুগন্ধি, নানা রকম শোপিস, বই, ডোরবেল। মেয়েদের জন্য কানের দুল, খোঁপার কাঁটা, জুয়েলারি বক্স আবার ছেলেদের জন্য শেভিং কিট, বডি স্প্রেও কিনে দিতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে পোশাক ছাড়াও অনেক মজার মজার উপহারও দিতে পারেন বন্ধুকে। যেগুলো নানা রকম গিফট কর্নারে পেয়ে যাবেন। তা ছাড়া লাইটার, সানগ্লাস, ছোট পার্টস, ওয়ালেট বা ব্রেসলেটও উপহারের তালিকায় রাখতে পারেন। আত্মীয়স্বজন আত্মীয়স্বজনের জন্য উপহার কেনার সময় একটু খেয়ালি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রিয়জনের বয়স, ব্যক্তিত্ব, রুচির দিকে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। প্রিয়জনকে পোশাকের পাশাপাশি জুয়েলারি উপহার দিতে পারেন। ছেলেদের ক্ষেত্রে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া দেওয়া যেতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে শাড়ি, থ্রিপিস দিতে পারেন। ইচ্ছে হলে নিজের হাতে তৈরি করা পোশাকও দিতে পারেন প্রিয়জনদের। দিতে পারেন মগ, ছবির ফ্রেম, ওয়ালম্যাট, বিভিন্ন রকম ক্রোকারিজ, অ্যাশ-ট্রে, পারফিউম, বডি স্প্রে, মোবাইল ক্রেডিট কার্ড ও গিফট কুপন। উপহার দেওয়ার নতুন উপায় উপহার নানা রকমের হলেও প্যাকিংটা অনেক সময় এক ঘরে হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে নতুন কায়দায় গিফট প্যাকিং করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিন। হ্যান্ডমেড পেপার ব্যবহার করে নিজেই বানিয়ে ফেলুন এই ধরনের গিফট র্যাপার। উপরে অ্যাক্রিলিক কালার দিয়ে এঁকে ফেলুন নানা ধরনের ডিজাইন। এতে করে আপনার গিফটি পেয়ে যাবে একটা পার্সোনাল টাচ। জুয়েলারি, কসমেটিক্স বা আকারে ছোট্ট কোনো জিনিস গিফট করার সময় প্যাকেটে না দিয়ে যেকোনো বাহারি কাচ বসানো বটুয়ায় দিতে পারেন। দেখতে চমত্কার লাগবে। ট্র্যান্সপারেন্ট বাক্সও ব্যবহার করতে পারেন। সদ্যজাত শিশুকে টয়লেট্রিজের সেট, জামা-কাপড়, বিছানা বা যাই উপহার দিন না কেন, একটা প্যাস্টেল কালারের নরম তোয়ালে দিয়ে মুড়ে দিন। উপহার কেনার জন্য বাজেট যদি কম থাকে, তা হলে অনেকগুলো ছোট ছোট উপহার কিনুন। বাহারি হেয়ার ক্লিপ, গ্লিটারি লিপ কালার, পেন্ডেন্ট। ছোট পারফিউমের বটল, ড্রাই ফ্রুটসের প্যাকেট, সুগন্ধি মোমবাতি দিয়ে ভর্তি করে দিন একটি বাস্কেট। একটা সুন্দর ভেলভেটের রুমাল দিয়ে ঢেকে দিন। একসঙ্গে অনেক গিফট পেতে ছোটরা ভীষণ ভালোবাসে। উপহার দেওয়ার আগে কয়েকটি নিয়ম উপহার দেওয়ার আগে প্রাইজ ট্যাগ অবশ্যই কেটে দেবেন। প্যাকেটের গায়ে দাম লেখা থাকলে অবশ্যই তা মুছে দেবেন। নিজে হাতে উপহার দেওয়ার চেষ্টা করুন সবসময়। কেউ যদি দূরে থাকে, তা হলে উপহার কুরিয়ারে বা পোস্ট করে দিতে পারেন। উপহার ঠিক সময় মতো পৌঁছাল কি না, অবশ্যই সেটা ফোন করে জেনে নিন। উপহার হিসেবে ডায়েরি যেকোনো উপলক্ষে ডায়েরি উপহার দেওয়ার প্রথা পুরোনো হলেও কিছুটা অপ্রচলিত। তবে, প্রিয়জন বা বন্ধুকে উপহার দেওয়ার আগে আপনি রুচিশীল উপহার তালিকায় ডায়েরিকেও যুক্ত করতে পারেন। উপহার হিসেবে ডায়েরি শুধু যাকে উপহার দেবেন, তার রুচির পরিচায়কই নয়; আপনার রুচির পরিচয়ও বটে। ডায়েরি উপহারের পূর্বে ডায়েরির রকমারি জগত্টাকে জেনে নিন। সবকিছু জেনে নিয়ে ঠিক করতে পারেন, কাকে কেমন ডায়েরি আপনি উপহার দেবেন। বিভিন্ন কাজের ডায়েরির ব্যবহার এখনও হারিয়ে যায়নি। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ফোন নম্বর, ঠিকানা, জীবনী ইত্যাদি সংরক্ষণে ডায়েরির জুরি মেলা ভার। যদিও ইলেক্ট্রোনিক পর্দায় অর্থাত্ সবই এখন কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়, তবুও ডায়েরির স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা এখনও অটুট। একই কথা বলা যায় প্যাড ও ছোট নোট প্যাডের বেলায়ও। আর তাই ডায়েরিকে উপহার হিসেবে বেছে নিতে পারেন অনায়াসে। এখানে ডায়েরি বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। কোয়ালিটিভেদে ডায়েরির দাম ৮০-১৫০ আবার বেশি মানসম্পন্ন ও নামকরা প্রোডাক্ট চাইলে ৩২০-তদুর্ধ্ব পর্যন্ত দাম হবে। এখানে নরমাল চামড়ার মলাটযুক্ত, কাপড়ের মলাট বা র্যাক্সিনের মলাটের ভেতর ফোম দেওয়া ডায়েরিগুলো মোটামুটি ৮০-২০০ টাকার মধ্যে। ছবিওয়ালা, বাহারি রং করা, ফোন ইনডেক্স কার্ড আছে—এমন ডায়েরির দাম কিছু বেশি। প্যাড বা নোট প্যাডগুলোর আকার ও মানভেদে ৩০-১৫০ টাকার মধ্যে পাবেন। হলমার্কের দোকানগুলোতেও বাত্সরিক ডায়েরি রয়েছে। এখানে ডায়েরির দাম পড়বে ৩২০ টাকার মতো। এ ছাড়া হ্যান্ডমেড পেপারের ডায়েরিগুলোতে পাটের জরি, পুঁতি, জরির সুতা ইত্যাদি দিয়ে বোনা বৈচিত্র্যপূর্ণ মলাট পাবেন। মডেল এলভিন ও ন্যাস