শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৩, ১৮:৩৬
ছাত্র রাজনীতি বরাবরই ছাত্রদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য কাজ করে। ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করাই ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য। লন্ডনের অন্যতম বৃহত্ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচে ২০১১ সালে বাংলাদেশি ছাত্র কাজী মুসিব ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, সেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে তিনি ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশি এই তরুণের সাফল্যের গল্প নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
লন্ডনের অন্যতম বৃহত্ ইউনিভার্সিটি হলো ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ, যার ৩টি ক্যাম্পাসের ক্যাম্পা বেইজ স্টুডেন্ট হলো প্রায় ৩০ হাজার আর অন্যান্য এফিলিয়েটেড কলেজ মিলিয়ে এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও আছে ইউরোপের অন্যান্য দেশ ইউএসএ, আফ্রিকা এবং এশিয়ান ছাত্রছাত্রী। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের সবসময় একটু বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় ছাত্রদের তুলনায়। পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো যখন ছাত্রাবস্থায় ব্রিটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন ব্রিটিশ ছাত্র রাজনীতির মূল ধারায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের সম্পৃক্ততা দিয়েছিল এক নতুন মাত্র। পরবর্তীতে এই পথে হেঁটে ছিলেন বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিত ও ব্রিটিশ সোশ্যালিস্ট মুভমেন্টের অন্যতম অর্গানাইজার তারেক আলীসহ আরও কয়েকজন। আর বাংলাদেশি ছাত্র কাজী মুসিব যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তখন ফরেন স্টুডেন্টদের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি পালক। প্রথমবার ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়ে মোট ভোটের ৬৩% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন মুসিব। ২০১২ সালে তিনি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট। এ সংসদের বাত্সরিক বাজেট হলো প্রায় ২ মিলিয়ন পাউন্ড।
সংক্ষিপ্তভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী মুসিব বলেন, ‘ছাত্র সংসদ যেহেতু স্বাধীন একটি সংগঠন তাই এর পরিচালনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতা নিয়ে। আর বাত্সরিক উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ২ মিলিয়ন পাউন্ড বিশ্ববিদ্যালয় সরবরাহ করে।’ বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইলে কাজী মুসিব বলেন, ‘যেহেতু আমি বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত নই তাই আমার মতামত অনধিকার চর্চার মতো। কিন্তু বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি ছাত্ররা রাজনীতি করবে তাদের নিজেদের ইস্যু ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হয়ে তাদের ছাত্র রাজনীতি করা উচিত নয়। এই দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টেন্ডারবাজি, মাস্তানি ও চাঁদাবাজি এ ধরনের অপকর্মের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয়টা কিন্তু বিতর্কিত হয়ে যায়।
ছাত্রছাত্রীরা যদি শিক্ষা ও অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে তাহলে দেশের শিক্ষার মান অনেক উন্নত হবে। আজ ব্রিটিশ ডিগ্রির যে সুনাম সারা পৃথিবীতে তার মূলে কিন্তু রয়েছে গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতি এবং সে দেশের সরকারের সহযোগিতা। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি ২০১০ এবং ২০১২ সালে আমরা দুই বার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ঘেরাও করেছি প্রায় ২৫০০০ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে।
যাতে ব্রিটিশ সরকারের আমাদের সহযোগিতা করেছে। এদেশে কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এমনটা দেখা যায় না।’ দেশের জন্য তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জন্মভূমির প্রতি একটা জন্মগত ঋণ আছে। যা কিনা একটা সময় পরিশোধ করা উচিত। আমার অবস্থান থেকে আমি সবসময় চেষ্টা করব মাতৃভূমির ঋণ শোধ করতে। সেটা যেভাবেই হোক।’