প্রজন্মের একজন
টেনশন ফ্রি ধাওয়ান
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ১৯:৪১
ক্রিকেট খেলায় টেনশন তো থাকবেই। কিন্তু সেই টেনশন উপভোগ করে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন এমন কয়জন আছেন। খেলাটাকে সবার জন্য উপভোগ্য করে তোলার ক্ষমতা রাখেন এমন এক ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান। ইন্ডিয়ান এই ক্রিকেটার শুধু মাঠের পাশাপাশি গ্যালারিতেও আলোড়ন তুলেছেন খুব অল্প বয়সেই। তার গল্পটি জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
গত তিন দশক ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রকৃতিগতভাবেই কিছু আক্রমণাত্মক ওপেনিং ব্যাটসম্যান পেয়ে আসছে। আশির দশকে কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত যদি শুরু করে থাকেন তা হলে শূন্য দশকে সে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বীরেন্দার শেভাগ। আর এখন সে জীয়নকাঠি শিখর ধাওয়ানের হাতে। শেবাগের সঙ্গে তুলনা করার আগে ধাওয়ানের অবশ্য এখনও বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করতে হবে। তবে তিনি যে এ পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তা অস্বীকার করা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টির পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর পর দু’ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন। আর প্রতিটি সেঞ্চুরিতেই রানের চেয়ে বল খেলেছেন কম। বিষয়টা এমন নয় যে, বিনা কারণেই ঝুঁকি নিচ্ছেন তিনি। গত দশকে শেবাগ যেটা করেছেন, ধাওয়ান সেটা সুন্দরভাবেই করে চলেছেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে মিডল অর্ডারে চাপটা কম পড়ছে এবং যে কারণে দিনেশ কার্তিক এবং বিরাট কোহলি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন বা হাত খুলে খেলতে পারছেন। ধাওয়ানের আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে তার টেম্পারমেন্ট। একবার যদি তিনি তার টেম্পারমেন্ট ফিরে পান, তবে তার লক্ষ্য থাকে ইনিংস শেষ করে প্যাভিলিয়নে ফেরা এবং এটাই ভারতীয় দলের জন্য সহায়ক হচ্ছে।
তরুণ দাওয়ান সম্পর্কে কিছু কথা
শিখর ধাওয়ান দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এ বছরের ১৪ মার্চ মোহালির পিসিএ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে অভিষিক্ত হন। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি অভিষেক টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।
২০০৪ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন ধাওয়ান। ৭টি খেলায় অংশগ্রহণ করে ৩টি সেঞ্চুরিসহ ৮৪.১৬ রান গড়ে ৫০৫ রান করে ওই প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন।
ধাওয়ানের অসাধারণ উন্নতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ধাওয়ানের সবচেয়ে ভালো দিক সে নির্ভীক। শেবাগের ব্যাটিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার নির্ভীকতা এবং এটা দেখতে খুবই ভালো লাগছে যে, সে তার দিল্লির সতীর্থ খেলোয়াড়ের গুণাবলি পেয়েছে।’
টেস্ট অভিষেকের সময়ে ওপেনিং ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো চাপ অনুভব করছেন না এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ফর্মটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে চান।
ধাওয়ান বলেছিলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে সত্যিকারার্থেই আমি ভালো করেছি এবং আমি কোনো চাপ অনুভব করছি না। অবশ্যই কিছুটা নার্ভাসনেস আছে। তবে এটা সকলের বেলায়ই থাকে।’
ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া প্রথম অধিনায়ক কপিল দেব তো রীতিমতো ভক্ত বনে গেছেন ধাওয়ানের, ‘এ ছেলেটা অসাধারণ এক ব্যাটসম্যান। আমি নিশ্চিত সে এখানে (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে) থাকতেই এসেছে।’ সবচেয়ে বড় প্রশংসাটা এরপরই করলেন কপিল দেব, ‘ইংল্যান্ডে এখন আর কেউ অতীত নিয়ে কথা বলছে না। এখন পর্যন্ত কেউ শচীন, শেবাগ কিংবা গম্ভীরের কথা জানতে চায়নি। সবাই শুধু শিখর ধাওয়ান ও তার ব্যাটিং নিয়ে কথা বলছে।’ ধাওয়ানের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য নতুন দিনের বার্তারও সন্ধান পাচ্ছেন কপিল, ‘এটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য শুভ লক্ষণ। অনেক তরুণ খেলোয়াড় ইতোমধ্যে সিনিয়রদের জায়গা দখল করে নিয়েছে। পরিবর্তনটা মসৃণ গতিতেই হচ্ছে।’
কিছু টুকরো তথ্য
অক্টোবর, ২০১০ সালে বিশাখাপত্মমে অস্ট্রেলিযার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। কিন্তু দুই বল খেলে ক্লিন্ট ম্যাককের বলে বোল্ড হন।
জুন, ২০১১ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুরেশ রায়নার অধিনায়কত্বে কুইন্স পার্ক ওভালে টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। অভিষিক্ত পার্থিব প্যাটেলের সাথে জুটি গড়লেও তিনি মাত্র ৫ রান করেন।
১৪ মার্চ, ২০১৩ তারিখে সচিন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে টুপি নিয়ে বিরেন্দর শেওয়াগের পরিবর্তে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন ধাওয়ান। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত খেলার তৃতীয় দিনে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন মাত্র ৮৫ বলে। এরফলে তিনি গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের কানপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৬৯ সালে গড়া ১৩৭ রানের দীর্ঘদিনের অক্ষুণ্ন রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেন।