এইচএসসি’র জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র

জীববিজ্ঞান ২য়পত্র অলোক কুমার মিস্ত্রী বন্যপ্রাণী গবেষক (প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ রিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাদ্যচক্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সবুজ উদ্ভিদ উত্পাদক (Producer)হিসেবে খাদ্য তৈরি করে এবং ঐ খাদ্য খাদকের মাধ্যমে অর্থাত্ প্রাণীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। (প্রাণিবিজ্ঞান) প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের অধ্যায় ঃ ১ অবতরণিকা (Introduction) - থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করা হলো গতকালের পর (ঘ) “পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম”- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তরঃ ১.সুস্থ পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে ঃ বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। আমরা বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে এসব কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হতে পারি। তার সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক Physical Environment দূষিত হচ্ছে সেদিকে অনেকেরই নজর থাকে না। আমরা অনেকেই জানি না যে,কুনোব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি প্রাণী এসব ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ভক্ষণ করে কীটপতঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। সৃতরাং এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে হলে অবশ্যই প্রাণিবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব আছে। ২. আবর্জনা অপসারণে ঃ ছুঁচো, কাক, মাছির লার্ভা ইত্যাদি আবর্জনাভূক প্রাণীকূল পরিবেশের আবর্জনা অপসারণ করে নির্মল পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে । এ সকল ধারণা পেতে হলে আমাদের প্রাণিবিজ্ঞান পাঠের মুখাপেক্ষি হতে হয়। ৩. খাদ্যচক্রে (Food chain) ঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাদ্যচক্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সবুজ উদ্ভিদ উত্পাদক (Producer)হিসেবে খাদ্য তৈরি করে এবং ঐ খাদ্য খাদকের মাধ্যমে অর্থাত্ প্রাণীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। আর এভাবে তৈরি হয় খাদ্যচক্র (Food chain)। এর কোন স্থানে বাঁধা পড়লে খাদ্যচক্রে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্যতা বিঘ্নিত হয়ে থাকে। সুতরাং খাদকের সম্পর্কে অর্থাত্ প্রানিদের সম্পর্কে জানার প্রয়োজনে প্রাণিবিজ্ঞান পাঠ অতীব জরুরী। ৪. বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) ঃ জীব ও জড়ের আন্তঃক্রিয়ায় গড়ে ওঠে বাস্তুতন্ত্র। বাস্তুতন্ত্রে প্রাণীদের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। জড় ও অন্যান্য জীবদের সাথে প্রাণীদের সহ-অবস্থানে পরিবেশ কীভাবে উপকৃত হবে তা প্রাণীবিজ্ঞান পাঠ না করে জানা সম্ভব নয়। ৫. প্রাণীর অভিযোজনে (Adaptation of Animal) ঃ প্রাণীভূগোল (Zoogeography) পাঠের মাধ্যমে জানা যায় কোন ধরণের প্রাণী কী ধরণের পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে সক্ষম। এছাড়া প্রাণীদের অভিযোজন সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। পরিবেশ দূষিত হলে ঐ অঞ্চলের প্রাণীদের ওপর কী ধরণের প্রভাব পড়তে পারে এবং এক্ষেত্রে কী কী করণীয় তার ধারণা পেতে প্রাণিবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ৬. সহানুতূতিশীলতায় ঃ প্রাণীবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে মানুষের মনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তথা সহানুভূতিশীলতার উদয় হয়। এর ফলে মানুষ নির্বিচারে প্রাণী হত্যা করতে পারে না। পারে না বণ্যপ্রাণী শিকারের মাধ্যমে প্রাণীকূলকে ধ্বংস করতে। এর ফলে পরিবেশের ভারসম্যতা রক্ষা হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা হতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষায় প্রাণীবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।