এবার রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপের অপেক্ষা!

প্রায় অর্ধযুগ; বিশ্ব ফুটবল শাসন করে গেছে স্পেন। টানা দু’টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে জাভি, ইনিয়েস্তা, ভিয়া, তোরেসরা। সুযোগ ছিল ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনাল জিতে টানা চারটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করা প্রথম দল হওয়ার সুযোগ ছিল লা রোজাদের সামনে। কিন্তু বিধি বাম; মারকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা দলটি দেখলো জাদুকরী ফুটবলের পুনরুত্থান; দেখলো ব্রাজিলীয় ফুটবলের পুরনো দাপট। আর তাতেই মাটিতে ফিরে এলো শক্তিশালী স্পেন দল। সাম্বা ছন্দে ব্রাজিল জানিয়ে দিলো নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য এখন তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শুধু অপেক্ষা এখন রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে গোটা বিশ্বকে পরিষ্কার একটা বার্তা দিল তরুণ ব্রাজিলিয়ান দলটি। আর ব্রাজিলের এই ফিরে আসাকেই বড় করে দেখতে চাইছেন দলটির সাবেক কিংবদন্তী ফুটবলার রোনালদো। ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত সাবেক এই ফুটবলার দলের পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্ট, ‘শিরোপা জয়ের জন্য প্রথমেই দলকে আমি অভিনন্দন জানাতে চাই। তারা স্পেনের বিপক্ষে যা করে দেখিয়েছে এবং গোটা টুর্নামেন্টে তাদের যে অসাধারণ ফুটবল, সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’ বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির ৩৬ বছর বয়সী এই সদস্য আরও বলেন, ‘আরও একবার ব্রাজিল দলটি নিজেদের ব্রাজিল হিসেবে প্রমাণ করলো। গোটা বিশ্বের কাছে আশা করি এই বার্তা এর মধ্যেই পৌঁছে গেছে।’ ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং সফলভাবে টুনামেন্ট শেষ করতে পারার পর এবার সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করলেন রোনালদো, ‘এটা দেখে ভাল লাগছে যে সমর্থকরা ব্রাজিল দলকে সমর্থন করছে। অরাজক পরিস্থিতির (সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ) মধ্যেও তাদের এমন সমর্থন সত্যি চোখে পড়ার মতো। সঠিক সময়ে জনগণ জেগে উঠেছে, এখন তারা পরিবর্তন চায়। ব্রাজিলে আমাদের যেসব পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয় সেটা সত্যিই হতাশাজনক। তবে আমি কোনভাবেই রাজনীতি আর খেলাধুলাকে এক করে দেখার পক্ষে নই। সামনের বছরের বিশ্বকাপ আমাদের জন্য বিনিয়োগের বড় একটি দুয়ার খুলে দিচ্ছে। আশা করছি আমরা সফল একটি বিশ্বকাপ দেখতে পাবো’। একই রকম আশাবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সেপ ব্ল্যাটার। ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের সফল আয়োজনের ব্যাপারে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের আন্দোলন ও বিক্ষোভের মধ্যেও যারা এই টুর্নামেন্টটিকে সফলভাবে আয়োজন করতে সমর্থ হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। মাঠের খেলা এবং আয়োজনের সফলতা, সব মিলিয়ে আমি নিজেও আনন্দিত। কনফেডারেশন্স কাপের মতো বিশ্বকাপও একটি টুর্নামেন্ট। আশা করছি, বিশ্বকাপও ভালভাবেই আয়োজন করতে পারবে ব্রাজিল।’ ব্রাজিলে ক্রিড়া উত্সবের সূচনা ঘটলো সদ্য শেষ হওয়া কনফেডারেশন্স কাপের মধ্যদিয়ে। আগামী বছর বিশ্বকাপ ফুটবল; এর দুই বছর বাদেই অলিম্পিকের আসর। সম মিলিয়ে ক্রীড়া বিশ্বই এখন ব্রাজিলে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যের সফলভাবে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট পাড় করার পর এখন রোমাঞ্চকর এক বিশ্বকাপেরই দিন গুণছেন সমর্থকরা। ক’দিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কমিটির নির্বাহী প্রধান রিকার্ডো ট্রেড বলেছিলেন, ‘আমরা অবিস্মরণীয় এক বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট উপহার দিতে যাচ্ছি।’ ফুটবলপ্রেমীদের চাওয়াটাও এমনই!