বন্ধ হয়ে যাওয়া গুগল সেবা
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৩, ২১:৩০
অনলাইন জায়ান্ট গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিনের গণ্ডি পেরিয়ে চালু করেছে নানা ধরনের সেবা আর পণ্য। এসব সেবা জনপ্রিয়ও হয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে। তবে অনেক সেবাই সাড়া ফেলতে পারেনি প্রযুক্তি বিশ্বে। ফলে এসব সেবার অনেকগুলো বন্ধ করে দেয় গুগল। আবার জনপ্রিয় অনেক সেবাও সময়ের সাথে সাথে বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। এই লেখাতে গুগল’র বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচিত কিছু সেবার পরিচিতি তুলে ধরা হলো।
আর্ডভার্ক
গুগল’র এক বিশেষ ধরনের সার্চ ইঞ্জিন ছিল আর্ডভার্ক। আর্ডভার্কের নিজস্ব ওয়েব কিংবা ইমেইল ও ইন্সট্যান্ড ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রশ্ন রাখা যেত। এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করা যেত আর্ডভার্কে। ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা আর্ডভার্ককে গুগল কিনে নেয় ২০১০ সালে, ৫০ মিলিয়ন ডলারে। পরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল বন্ধ করে দেয় এই সেবাটি।
গুগল বাজ
সোস্যাল নেটওয়ার্কের শুরুটা গুগল একরকম করে গুগল বাজের মাধ্যমেই। তবে গুগল বাজ দিয়ে খুব একটা সাড়া পায়নি গুগল। ফেসবুক এবং টুইটার যখন পুরোদমে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে চলছিল প্রযুক্তি বিশ্বে, সেই সময়ে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল বাজ চালু হয়। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং, মাইক্রোব্লগিং এবং ম্যাসেজিং টুল হিসেবে এটি সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলেই ধারণা করে গুগল। তবে তাদের এই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তাই বন্ধ করে দেওয়া হয় গুগল বাজ।
গুগল কোড সার্চ
সার্চ ইঞ্জিন গুগল’র বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত সার্চ সেবা চালু ছিল এবং রয়েছে। এরকমই একটি সেবা গুগল কোড সার্চ। ইন্টারনেটে ওপেন সোর্স কোড খোঁজার কাজেই গুগল এটি চালু করে। বিভিন্ন ফরম্যাটে এবং বিভিন্ন অপারেটর ব্যবহার করে কোড সার্চ করা যেত এটি ব্যবহার করে। ২০০৬ সালে চালু হওয়া এই সেবাটি ২০১২ সালের শুরুতে বন্ধ করার ঘোষণা দেয় গুগল। তবে চলতি বছরের মার্চে এসে বন্ধ হয়ে যায় এটি।
গুগল ডিকশনারি
এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরের জন্য গুগল’র ডিকশনারি সার্ভিসটি চালু থাকে দীর্ঘদিন। তবে পরবর্তী সময়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনেই সরাসরি ‘Define’ অপারেটর ব্যবহার করে শব্দের অর্থ খোঁজার সুযোগ চালু হওয়ায় এবং গুগল ট্রান্সলেট সেবাতে বেশি জোর দেওয়াতেই শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় গুগল ডিকশনারি। ২০১১ সালের আগস্টে গুগল ডিকশনারি বন্ধ হয়ে যায়।
আইগুগল
একটি ব্যক্তিগত ওয়েব পেজ বা ওয়েব পোর্টারের ধারণা নিয়ে আইগুগল যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালে। ২০০৭ সাল নাগাদ ৪২টি ভাষায় ৭০টি কান্ট্রি ডোমেইনে এই সেবা ছড়িয়ে দেয় গুগল। ওই বছরেই এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৭১ লাখেরও বেশি। ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী গুগল সার্চ ব্যবহারকারীর প্রায় ২০ শতাংশই ব্যবহার করে থাকে আইগুগল। তা সত্ত্বেও গত বছরের জুলাইয়ে গুগল ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে বন্ধ করে দেওয়া হবে এই সেবাটি।
পিকনিক
অনলাইন ফটো এডিটিং এবং ফটো লাইব্রেরি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে পিকনিক বেশ জনপ্রিয় ছিল। ২০০৫ সালে পিকনিক যাত্রা শুরুর পর ২০১০ সালে এসে একে কিনে নেয় গুগল। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এটি বন্ধের ঘোষণা দেয় গুগল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ওই বছরের এপ্রিলে বন্ধ হয়ে যায় পিকনিক।
গুগল রিডার
পণ্য ও সেবা বন্ধের ধারাবাহিকতায় গুগল’র সর্বশেষ সংযোজন গুগল রিডার। আরএসএস ফিড রিডার হিসেবে গুগল রিডার যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল অনলাইনে। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে এটি। সময়ের সাথে সাথে এর ব্যবহারকারী কমছিল বলে জানায় গুগল। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত একে বন্ধ করে দিয়েছে গুগল চলতি সপ্তাহেই।