তিরিশ দিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ!
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৯
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নতুন নির্বাচিত কমিটি কাজ চালানোর কথা ছিল। কিন্তু গঠনতন্ত্র বিষয়ক মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় এবং পুরোনো গঠনতন্ত্রে আইসিসি আপত্তি জানিয়ে রাখায় নির্বাচন নিয়ে জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। তবে এসব জটিলতাই দ্রুততম সময়ে শেষ করে আগামী একমাসের মধ্যে নির্বাচনে যেতে চায় বিসিবির এডহক কমিটি। গতকালকের বৈঠক শেষে তেমনটাই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হল। বিসিবির এডহক কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বললেন, ‘আগামী একমাসের মধ্যে যাতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় সেজন্য আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অনুরোধ করব।’
গত বছরের ২৬ নভেম্বর দায়িত্ব বুঝে নেয়ার তিনমাসের মাথায় নির্বাচন দেওয়াই ছিল এই এডহক কমিটির দায়িত্ব। কিন্তু ঝামেলা শুরু হয় কোন গঠনতন্ত্রে নির্বাচন হবে। ২০০৮ সালের গঠনতন্ত্রে সভাপতি নির্বাচনের বিধান ছিল না। তাই সেটা আইসিসি খারিজ করে দেয়। কারণ তাদের নীতি অনুযায়ী প্রতিটি বোর্ডকে পুরোপুরি নির্বাচিত হতে হবে।
এরপর ২০১২ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় যে গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয় সেটিতে আবার কিছু সংযোজন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এই সংযোজনের উল্লেখযোগ্য ছিল খেলোয়াড়দের কাউন্সিলরশিপ ফেরানো এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের প্রতিটি ক্লাবের দুটি করে কাউন্সিলরশিপ থাকবে। আর এতেই আপত্তি করে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জোট (ফোরাম) ও সাবেক বিসিবি পরিচালক মামলা ঠুকে দেন। তাদের বক্তব্য ছিল এনএসসির এই সংশোধন অবৈধ।
উচ্চ আদালতে এই সংশোধিত ২০১২ সালের গঠনতন্ত্র অবৈধ বলেই রায় আসে। পরে আবার এনএসসি ও বিসিবি এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। সেই আপিলের বিচার এখনো চলছে।
এ অবস্থায় এনএসসি ঠিক কোন গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে সেটাই প্রশ্ন। কিন্তু বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুস সোজা বলটা এনএসসির কোর্টেই পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, ‘গঠনতন্ত্র নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করিনি। এটা এনএসসি দেখবে। আমরা তাদের অনুরোধ করবো একমাসের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য।’
এই অনুরোধ কার্যকর হওয়া নিয়ে কিছু সন্দেহ তো থেকেই যায়। প্রথমত গঠনতন্ত্র নিয়ে কিভাবে আইসিসি, বিসিবি, এনএসসি ও ফোরাম একমত হবে এটা বলা মুশকিল। আর বিসিবির অন্য একটি সিদ্ধান্ত বলছে, তারা নিজেরাও এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ আশা হয়তো করছে না।
যে আকরাম খান নির্বাচন করতে চান, তাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে রেখে দেয়া হয়েছে। একমাসের মধ্যে যদি তারিখই ঘোষণা হবে; তাহলে আকরামের এই মেয়াদ বৃদ্ধি তখন তো অর্থহীন হয়ে যাবে!