পুরোনো তামিম নতুন তামিম
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২২:১৪
অ্যান্ডারসন, ব্রেসনান, টিনো বেস্টরা কেউ গতকাল মিরপুরে বেড়াতে এলে হতভম্ব হয়ে যেতেন। বিস্ময়ের সঙ্গে তারা আবিষ্কার করতেন—একটার পর একটা বল এখন ডিফেন্স করে চলেছেন তামিম ইকবাল খান! নেটে তামিমের এই বিপরীত রূপ দেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মী হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করেছে তো; তাই তামিম ভাই ডিফেন্স করছে।’
পৌনে এক ঘন্টা ধরে নেটে প্রবল পরিশ্রম করে বেরিয়ে এসেই কথাটা শুনে হো হো করে হেসে একেবারে ছক্কা মারার মতো করে উড়িয়ে দিলেন কথাটা, ‘আরেহ নাহ। তেমন কোনো পরিবর্তন আমি তো টের পাই না। আমার জীবন সেই আগের মতোই আছে। আমি তো আগের মতোই আছি। তেমন কোনো পরিবর্তন টের পাই না। আমি আগের তামিম ইকবালই আছি।’
হ্যা, তামিম ইকবালকে এখন বলে বোঝাতে হচ্ছে যে, তিনি সেই ‘আগের’ তামিম আছেন। কারণ একটাই তামিম এখন আর সেই ‘ব্যাচেলর’ নেই; এখন তামিম ‘বিবাহিত’ হয়ে গেছেন।
বিয়ের আগে আর সবার মতো তামিমও এই বিবাহিত জীবন সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছেন। গল্প শুনেছেন, না বলে বলা উচিত ভয়ের কথা শুনেছেন। বড় ভাইয়েরা নাকি প্রায়ই তাকে ভয় দেখাতেন—বিয়ে করলে টের পাবি, বিপদটা কাকে বলে! কথাটা বলতে বলতে হেসে চুরমার তামিম, ‘বিয়ের আগে কতো ভয় দেখিয়েছে লোকজন! বিবাহিতরা অনেক বলেছে, বিয়ে করলেই জীবন বদলে যাবে। অনেক গল্প শুনেছি... সেরকম কিছু এখনও টের পাচ্ছি না। বরং ওর (স্ত্রীর) মনে হয় কাজ বেড়েছে।’
এমনকি তামিমকে নাকি সাংসারিক কোনো চাপও নিতে হচ্ছে না। যদিও তামিম এ কথা বলতে গিয়ে চোখেমুখে কৃত্রিম একটা ভয়ের ভাব ফুটিয়ে বললেন, সামনে চাপটা আসবে কি না; ঠিক নিশ্চিত নন তিনি! তবে এই মুহূর্তে চাপ যেটুকু, তা স্ত্রী আয়েশাই সামলে দিচ্ছেন, ‘টুকটাক যে কাজ, সেগুলোর চাপ বরং ওই সামলাচ্ছে। আমাকে তেমন কিছু করতে বলে না। তবে মাত্র তো এই ক’দিন হল; ভবিষ্যতে কী হবে কে জানে!’
তবে হ্যা, একটা ‘ঝামেলা’ তামিমকে এখনই পোহাতে হচ্ছে। অবশ্য ঝামেলা শব্দটা শুনলে তামিম রাগ করতে পারেন। তিনি বরং কাজটাকে উপভোগ করছেন বলেই মনে হচ্ছে—ফুচকা খাওয়ানো। হাসতে হাসতে বললেন, ‘ বাড়তি বলতে প্রায় ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। এটা বরং উপভোগই করি।’
এ পর্যন্ত কথাবার্তা শুনেই আসলে বুঝে ফেলার কথা ‘হানিমুক পিরিয়ড’ বলতে যা বোঝায়, তামিমের জীবনে শতভাগ এখন সেই মধুচন্দ্রিমাপর্ব কাটছে। এটা তাত্ত্বিকভাবে মধুচন্দ্রিমাপর্ব বলা যায়। তবে আসলেই তামিমের সামনে মধুচন্দ্রিমা আসছে। একেবারে ক্যারিবিয় সাগরের উপকূলে তামিম দম্পতি কাটাবেন জীবনের রঙ্গীনতম এই সময়টা।
অবশ্য এটাকে একই সঙ্গে ‘রথ দেখা ও কলা বেচা’ কর্মসূচিও বলা চলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে তামিম যাবেন সেন্ট লুসিয়ার হয়ে ক্যারিবিয় প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। ১৮ জুলাই রওনা হবেন তিনি প্রায় এক মাসের এই সফরে। বিয়ের মাস খানেকের মাথায় ক্যারিবিয় সমুদ্রবুকের এই ভ্রমণে কে আর জীবনসঙ্গিনীকে রেখে যেতে চায়! তামিমও রেখে যেতে চান না। তবে এসব মধুচন্দ্রিমা-টন্দ্রিমার প্রসঙ্গের মধ্যে বারবার ঘুরে এলো সেই জীবন বদলে যাওয়ার ব্যাপারটা। তামিমকে একটা পক্ষ নাকি কিছুতেই আগের মতো করে মেনে নিতে চাচ্ছে না। কারা তারা? ‘আমার বন্ধুরা। বন্ধুরা বিবাহিত বলে আলাদা দলে ঠেলে দিতে চায়। আমি এটা নিয়ে ওদের বলি, কেন আমি তো আগের মতোই আছি। আমি সবসময় আগের তামিমই থাকতে চাই’—বন্ধুদের নিয়ে এই সমস্যাটাও কষ্টের বদলে যেন আনন্দ দিচ্ছে, এমন হাসলেন তামিম।
তাহলে বদল বলে কিছুই টের পাচ্ছেন না তামিম? পাচ্ছেন, পাচ্ছেন। একটা বদল খুব টের পাচ্ছেন। একেবারে ড্রেসিংরুমে ঢোকার মুহূর্তে মুচকি হেসে বললেন, ‘এখন দেখাসাক্ষাত্ করতে তো আর আগের মতো সমস্যা হচ্ছে না। এটাই আমার জীবনের এখন বড় পরিবর্তন।’