নির্বাচন এলেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন আকরাম
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২২:১৫
আকরাম খান আগেই তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন—বোর্ড পরিচালক হতে চান। তারপরও নির্বাচনকে সামনে রেখেও আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। আকরাম খান মনে করছেন, এ বাড়ানোটা অর্থবহ। কারণ, আগামী এক মাসে বেশ কিছু কাজ আছে নির্বাচক কমিটির সামনে। তবে তিনি পরিষ্কার আবারো বলে দিয়েছেন, বাড়তি এ মেয়াদ চলাকালীনও বোর্ড নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে তিনি প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।
দায়িত্ব বাড়ানোতে তাদের ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, সে জন্য অন্তত খুশি আকরাম খান। এ জন্য বিসিবিকে তিনি ধন্যবাদও দিয়েছেন। সঙ্গে নিজের ইচ্ছাটার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি প্রথমেই বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আবারো আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য। কিন্তু আমার মেয়াদ শেষের আগেই আমি বোর্ডকে জানিয়েছি, আমার পরিকল্পনা আছে বোর্ড পরিচালক হিসেবে ক্রিকেটের জন্য কাজ করার। ছয় বছর নির্বাচক ছিলাম। এ সময়ে আরো অনেক কিছু করতে ইচ্ছে হয়েছে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সীমাদ্ধতার কারণে নির্বাচকের পদে থেকে অনেক কিছু করতে পারিনি। সেই কাজগুলো পরিচালক হিসেবে ইনশাল্লাহ করতে পারবো। তাই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে এ পদটা আমি ছেড়ে দেব। সেটা সেপ্টেম্বরের আগে হলেও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ছেড়ে দেব।’
তবে স্বল্প সময়ের এ দায়িত্বকেও অর্থহীন মনে করছেন না আকরাম। এ সময়ে জাতীয় দলের কোনো কাজ না থাকলেও বয়সভিত্তিক ও ‘এ’ দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে বলে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন তিনি। ‘জাতীয় দল ছাড়াও আমাদের আরো অনেকগুলো দলকে সামলাতে হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অ্যাসাইনমেন্ট আছে এর মধ্যে। অনুর্ধ্ব-২৩ দলের ট্যুর আছে; সিঙ্গাপুরে ওদের বড় টুর্নামেন্ট। এছাড়া ‘এ’ দলের ট্যুর আছে। এ মাসেই আসলে কয়েকটা বড় দল নির্বাচনের ব্যাপার আছে। তাই ধারাবাহিকতাটা রাখতে হয়তো আমাকে চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ফলে এ সময় বৃদ্ধিটাকে অকার্যকর বলা যাবে না।’
এ সময়টা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়ে যেতে চান। সেই সঙ্গে আকরাম খানের চোখ আসলে এখন বোর্ড পরিচালকের চেয়ারে। সেখানে বসে অনেক নতুন নতুন কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্নগুলো সম্পর্কেও একটু বললেন কাল , ‘আমি মূলত ক্রিকেট নিয়েই কাজ করতে চাই। অনেক সুযোগ আছে পরিচালক হিসেবে এলে। স্কুল ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। সুযোগ পেলে সেগুলো কাজে লাগাতে চাই। আমি ক্রিকেটার হিসেবে দায়িত্ব যা পেয়েছি, পালন করেছি। এরপর অধিনায়ক হিসেবে, নির্বাচক হিসেবে, প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্বে কখনো অবহেলা করিনি। পরিচালক হতে পারলে সেখানেও আমার সেরাটা দিতে চাই। একটা ব্যাপার বলতে পারি, আমি গ্রুপিংয়ে নেই, রাজনীতিতে নেই; আমাকে এখনো ক্রিকেটার হিসেবেই সবাই ভালোবাসে। ক্রিকেটের জন্য কোথাও গেলে কেউ ‘না’ বলবে না। এ ব্যাপারটা কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে চাই।’
তবে পরিচালক হওয়ার ইচ্ছায় নির্বাচক কমিটিকে ভুলে যাচ্ছেন না আকরাম। বললেন, পরের নির্বাচক কমিটি বা প্রধান নির্বাচক চাইলেই তাকে পাশে পাবেন; তা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন। আর ভবিষ্যতের জন্য এই দরজা খুলে রাখার পাশাপাশি নিজের বর্তমান ও গত দুই বছরের সতীর্থদের ভাসালেন প্রশংসার বন্যায়। বললেন, এদের ছাড়া তিনি কিছুই করতে পারতেন না, ‘আমি আগেই বলেছি, খেলোয়াড়রা ভালো না করলে আমরা সফল হতে পারতাম না। এরপরও আমাদের কমিটির সফলতা বলে যদি কিছু থেকে থাকে তার বড় কৃতিত্ব নান্নু ভাই আর সুমনের। নান্নু ভাই নিজে অনেক বড় খেলোয়াড় ছিলেন, কোচ ছিলেন। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমাদের অনেক তথ্য দিয়ে কাজ সহজ করে দিয়েছেন। সুমন নিজে ক্যাপ্টেন ছিল। এই জাতীয় দলের অনেকের সঙ্গে খেলেছে। ফলে ও খুব আপডেটেড তথ্য দিতে পেরেছে। আবারো বলি, এ দুজন না থাকলে আমি সম্ভবত কিছুই করতে পারতাম না।’