ফাইনালে বারতোলি
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২২:১৭
মহিলা এককের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার উইম্বল্ডনের ফাইনালে পা রেখেছেন মারিয়ন বারতোলি। এদিকে গত বুধবার পুরুষ এককের কোয়ার্টার ফাইনালে অঘটন হাত বাড়াতে যাাচ্ছিল অ্যান্ডি মারের দিকেও। কিন্তু দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনে প্রথমবারের মতো উইম্বল্ডনের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা ফার্নান্দো ভার্দেস্কোকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে পা রাখেন মারেই। সেখানে আজ তার প্রতিপক্ষ পোল্যান্ডের জের্জি জ্যানোভিক্স। আজকের অন্য সেমিফাইনালে পুরুষ এককের শীর্ষ বাছাই নোভাক জোকোভিচ খেলবেন আর্জেন্টিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোর বিরুদ্ধে।
প্রথম সেমিফাইনালে ফরাসি তারকা বারতোলির প্রতিপক্ষ ছিলেন ক্রিস্টেন ফ্লিপকিন্স। তবে এই বেলজিয়ানের স্বপ্ন যাত্রা থামিয়ে দিয়ে পঞ্চদশ বাছাই বারতোলি জয় পান ৬-১, ৬-২ সেটে। ম্যাচ শেষে জয়োচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রশংসাও ঝরলো ফ্রান্সের এক নম্বর মহিলা তারকাটির কণ্ঠে, ‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। আমার আসলেই দারুণ লাগছে। ক্রিস্টেন অসাধারণ একটা টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে, তবে আমার মনে হয় সে কিছুটা চোটগ্রস্ত ছিল। তবে তার অর্জনের জন্য তাকে সম্মান জানাতেই হবে।’ ‘কালো বুধবারে’র ধাক্কায় রজার ফেদেরার, মারিয়া শারাপোভাদের হারায় বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টটি। এরপর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে বিদায় নেন সেরেনা উইলিয়ামসও। পুরুষ এককের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের শুরুটাও আভাস দিচ্ছিল আরেকটি অঘটনের।
বর্ষীয়ান স্প্যানিশ তারকা ভার্দেস্কো দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জিতে নেন প্রথম দুটি সেট। তবে শেষ তিনটি সেট জিতে নিয়ে শেষ হাসি হাসেন ব্রিটিশদের ৭৬ বছরের গ্র্যান্ড স্ল্যাম বন্ধ্যাত্ব ঘোচানো মারে। ম্যাচের ফল ছিল ৪-৬, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪, ৭-৫।
ম্যাচ শেষে মারের প্রতিক্রিয়া শুনেই অনুমান করা যাচ্ছিল বিদায়ের শঙ্কা জাগছিল তার মনেও, ‘কঠিন এক ম্যাচ ছিল এটি। ম্যাচের ফল যে কোন দিকেই যেতে পারতো।’
শট নির্বাচন নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও নিজের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টিই ঝরলো মারের কণ্ঠে। ইউএস ওপেনের শিরোপাধারী তারকাটি বলেন, ‘বেশ কিছু বাজে ভুল করেছি, আমার সিদ্ধান্তেও ভুল ছিল। তবে তার পরে আমি দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরেছি।’ এদিকে শেষ চারে মারের প্রতিপক্ষ জ্যানোভিক্স ‘অল পোলিশ’ ম্যাচে ৭-৫, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ে ১৩০ নম্বর অবস্থানে থাকা লুকাস কুবটকে। এই ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডবুকেও নাম উঠে গেছে জ্যানোভিক্সের। প্রথম পোলিশ খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠলেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের উচ্ছ্বাস লুকাতে পারছিলেন না এই ২২ বছর বয়সী, ‘আমি আসলেই খুব খুব খুশী। আমি আসলে আশাই করতে পারিনি আমি কোন গ্র্যান্ড স্ল্যামে এত দূর আসতে পারবো। এই মুহূর্তে আমিই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী লোক।’
এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ ছিলেন টুর্নামেন্টের সপ্তম বাছাই টমাস বার্ডিচ। ৭-৬ (৭-৫), ৬-৪, ৬-৩ গেমে বার্ডিচকে হারিয়েছেন এই সার্বিয়ান। অন্যদিকে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দীর্ঘদেহী দেল পোত্রো ৬-২, ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫) গেমে হারিয়েছেন ফ্রেঞ্চ ওপেন রানার আপ ডেভিড ফেরারকে।