পড়ার বিষয় স্যোসাল বিজনেস

সম্প্রতি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে সোস্যাল বিজনেস একাডেমিয়া-২০১৩ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটির ৬৬ গ্রিনরোড ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে প্রধান অতিথি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক ব্যবসার উদ্ভাবক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমাজের শোষণ ও দারিদ্রতায় জর্জরিত জনগোষ্ঠীকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক ব্যবসার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করে সাময়িকভাবে গরিবদের বাঁচিয়ে রাখা গেলেও টেকসই সমাধানের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শুধু দেশ থেকে নয়, বিশ্ব থেকে দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব।’ বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মুনাফা ভিত্তিক, সমস্যা সমাধান ভিত্তিক নয়। সামাজিক ব্যবসা মূলত সমস্যা সমাধানভিত্তিক এবং এর দ্বারা দরিদ্র দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব। জার্মান গ্রামীণ ল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হ্যান্স রিটস্ বলেন যে, জার্মানিতে তারা সোস্যাল বিজনেস নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন এবং ধারণাটি বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ৩৮টি দেশে তাদের গবেষণা কার্যক্রম চালু করেছেন। জাপানের কিইউসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাহারু ওকাডা বলেন, ‘জাপানে সোস্যাল বিজনেজ ধারণাটি শুধুমাত্র শিল্পভিত্তিক না হয়ে ভোক্তাভিত্তিক উন্নয়ন ধারণায় রূপ নিতে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একশ্রেণীর উদ্যোক্তা যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) ফয়সাল মেমিপিক আলী বলেন, ‘আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সোস্যাল বিজনেস দরিদ্র জনগণের সাথে আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা বিশ্বায়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্যানেল ডিসকাশনে সামাজিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত সম্ভবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী ভাষণে ব্যারিস্টার পাটোয়ারী বলেন, ‘মনুষ্য সৃষ্ট প্রকৃতি মানুষের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত করছে। ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মতো ধারণার দ্বারা এ ধরনের বাধা পরিহার করা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান ডা. এস কাদির পাটোয়ারী বলেন, ‘নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লবের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। তার ক্ষুদ্র ঋণের পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার ধারণাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র লোকদের অবস্থার উন্নয়নে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে ইউনূস সেন্টারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইউনিভার্সিটিতে সোস্যাল বিজনেস একাডেমিক সেল গঠনের পাশাপাশি সোস্যাল বিজনেস শর্ট সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া ইন্ট্রিগ্রেটেড মার্কেটিং কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপক ডোরেন লু, গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ল্যাবের মাইকেল ব্রোহম, ডোমেনিক ভি ডাস্টার এবং চীনের ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক জ্যাং গং, অত্র ইউনিভার্সিটির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কে. এম মোহসীন, আইন অনুষদের ডিন ড. উত্তম কুমার দাস প্রমুখ।