ফিরে আসছে ফিটনেস

শুরুর সংকেত পেতেই বিদ্যুতের গতিতে শুরু হল দৌড়। মাঝপথ পেরোনোর আগেই উসাইন বোল্টের মতো করে চিত্কার করে উল্লাস শুরু করে দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাকিরা তখনও বুলেটের মতো ছুটে চলেছেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকে পুরো দৃশ্যটা দেখে অ্যাথলেটিক্স ট্রেনিং সেন্টার বলে ভুল হতে পারে! মনে হতে পারে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বুঝি অলিম্পিক স্প্রিন্টে নাম লেখাতে যাচ্ছে। আর মাশরাফিকে বুঝি বোল্ট বানানোর তালিম চলছে! না, মাশরাফিও বোল্ট হচ্ছেন না; ক্রিকেটাররাও হচ্ছেন না অ্যাথলেট। তবে একেবারেই নিচের দিকে চলে যাওয়া খেলোয়াড়দের ফিটনেসটা জায়গামতো পৌঁছানোর জন্য এই কন্ডিশনিং ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম যে ক্রিকেটারদের করতে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। মাঠ ছেড়ে বের হওয়ার সময় প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড় এই পরিশ্রমের সাক্ষী হিসাবে দুটো শব্দ বলে গেলেন—খুব ক্লান্ত। ক্লান্তি দূর করার জন্য কঠোর এই কন্ডিশনিং ক্যাম্পে আজকের দিনটায় ছুটি দেয়া হয়েছে। এরপর আগামী দিন আবার ফিটনেস ট্রেনিং করার পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টানা ছয়দিন ছুটি পাবে। এই ছুটি মূলত ক্লান্তি দূর করে আবার সতেজ হয়ে ক্যাম্পে যোগ দেয়ার একটা সুযোগ। আর ট্রেনারদের জন্য, কোচদের জন্য সুযোগ এই তিন সপ্তাহের নিবিড় ফিটনেস ক্যাম্পের উন্নতিটা মূল্যায়ন করার। কোচরা সেই মূল্যায়নে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন, সেটা এখনই বলা কঠিন। তবে খেলোয়াড়রা অন্তত অনুভব করছেন, ফিটনেসে এই সময়ে বৈপ্লবিক উন্নতি হয়েছে। এই ‘বৈপ্লবিক উন্নতিটা’ই চাচ্ছিলেন কোচ শেন জার্গুনসেন ও নতুন যোগ দেয়া ফিটনেস ট্রেনার স্টুয়ার্ট কার্পিনেন। কার্পিনেন প্রথম দিনই কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ক্রিকেটারদের দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। জিম্বাবুয়ে সফরের পর থেকে খেলার বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা এই সময়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলেছিলেন অনেকটা; ক্রিকেটের তুলনায় বেঢপ আকারই পেয়েছিল তাদের শরীর। এই তিন সপ্তাহ শেষে অন্তত ক্রিকেটাররা নিজেরাই টের পাচ্ছেন, শরীর কথা বলতে শুরু করেছে। পেসার রুবেল হোসেন যেমন বলছিলেন, ‘মারাত্মক ক্লান্ত লাগছে। সত্যি বলি, এমন কঠিন কন্ডিশনিং ক্যাম্প খুব একটা পাইনি আমরা। তবে এখন উপকারিতাটাও টের পাচ্ছি। শরীর পুরো ঝরঝরে হয়ে গেছে।’ রুবেল হোসেনের জন্য এটা বাড়তি একটা ব্যাপার। হঠাত্ করে চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে সেই জিম্বাবুয়েতেই ক্রিকেটের বাইরে চলে যাওয়া এই পেসার বাকিদের চেয়েও একটু বেশিদিন খেলার বাইরে ছিলেন। তাই ফিটনেসটা ফিরে পেয়ে খুবই খুশি তিনি, ‘ফিটনেসটা তো খুব জরুরি, তাই না? আজকের দিনের ক্রিকেটে ফুল ফিটনেস ছাড়া টেকাই কঠিন। আর যতটা ফিট থাকব; ইনজুরির সম্ভাবনা ততো কমবে।’ এটাকেই এবারের ফিটনেস ক্যাম্পের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সমপ্রতি যে ইনজুরির মিছিলে নেমেছিলেন, তার অন্যতম কারণ মনে করা হয় ফিটনেসের অভাব। আর এই অভাব কাটাতে এরকম ক্যাম্পের বিকল্প নেই বলে মনে করেন শাহরিয়ার নাফীস। শাহরিয়ার এই ক্যাম্পের শুরুতে ‘আনফিট’-এর উদাহরণ ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে অন্তত নিজের আগের ঝরঝরে দেহটা ফিরে পেয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে তার। ফলে এই ধরনের ক্যাম্পের সুযোগ পাওয়াটা বেশ ভালো ব্যাপার বলে মনে করছেন তিনি, ‘এরকম ক্যাম্পের সুযোগ তো প্রতি বছর মেলে না। এতোদিন ক্রিকেট ছাড়া সময় পাওয়া যায় না। ফলে এবার পুরো সময়টা খুব কাজে লাগছে এবং আরও কাজে লাগবে।’ ক্যাম্পটা পুরোপুরি কাজে লাগলে অন্তত একটা চিন্তামুক্ত হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটও।