ফিটনেস অনুশীলনে সন্তুষ্ট ক্রুইফ
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২২:১৮
‘সুপার কাপে আমরা পাঁচদিনে নয়টি ম্যাচ দেখি যা আমাদেরকে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে এবং তাদের মান নিয়ে একটা ভাল ধারণা দেয়। সেটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেপালে যাওয়ার সময় আমাদের কাছে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না।’
জাতীয় দলের কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ মনে করেন আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে হলে খেলোয়াড়দের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই প্রস্তুত থাকা উচিত। সে লক্ষ্যে ফিটনেস ট্রেইনারের মাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে যে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে তিনি তাতে সন্তুষ্ট। তিনি অচিরেই প্রাথমিক দলটিকে ২৩ জনে নামিয়ে এনে চূড়ান্ত অনুশীলন শুরু করবেন বলেও জানান।
লুডভিক ডি ক্রুইফ গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এসে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ডাকা জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে এ কথা জানান। সেপ্টেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কেও বলেন তিনি। এদিন অবশ্য শুধু খেলোয়াড়দের ফিটনেস পর্যবেক্ষণ ছাড়া অন্য কিছু করেননি।
ডাচ এই কোচ জানান এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাই পর্বের খেলার সময় তিনি নেপালে যে দলটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেসময় খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সমস্যা ছিল। সেজন্যই তিনি দলের সাথে একজন ফিটনেস ট্রেইনারের প্রয়োজন বোধ করেন। ইয়াম আলী এ লক্ষ্যেই ইতোমধ্যে তার সহকারী রেনে কস্তাকে নিয়ে পাঁচদিন কাজ করছেন এবং দুজনেই করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন খেলোয়াড়দের।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমরা টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করবো। ৩৫ জনের দল থেকে ইতোমধ্যে একজন (অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আনন্দ রহমান) চলে গিয়েছে। এছাড়া তিনজনের ইনজুরি রয়েছে। তবে লিংকন রবিবার ফিরবে। এরপর ২৩ জনকে নিয়ে আমরা থাইল্যান্ডে অনুশীলন ক্যাম্প করবো এবং আশা রাখি সেখানে দুটি অনুশীলন ম্যাচও খেলতে পারবো। এরপর ফিরে এসে অনুশীলন চালিয়ে যাবো।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে জাতীয় দলকে নিয়ে আগেভাগে নেপালে পৌঁছানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন ক্রুইফ। তিনি বলেন,‘আমি আশা করি ২৭ কিংবা ২৮ আগস্ট আমরা নেপাল যাবো। সেখানে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সেটপিস ও শুটিং নিয়ে কাজ করবো।’
খেলোয়াড়দের সাথে তার কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে ক্রুইফ বলেন,‘আমি কোন নেতিবাচক কিংবা দুর্বল দিক নিয়ে কথা বলবো না। আমি চাই ইতিবাচকভাবেই খেলোয়াড়দের সাথে আমার যোগাযোগ থাকুক। কেননা আমাদের সামনে অনেক কাজ এবং আমাদের অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। আর সেটাই আমাদের কাজ। আজ আমি তাদের ব্যক্তিগত খোঁজ খবর নিয়েছি। তারা কিরকম অনুভব করছে, সুপার কাপের অভিজ্ঞতা কেমন হয়েছে এসব। তাদের আমি কোন নির্দেশনা দেইনি। আমি তাদের সে ফ একটা ভাল ধারণা দিয়েছি।’
তিনি এদিন সুপার কাপ দেখে দল গড়া এবং এ বছরের শুরুতে নেপালে দল নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
ক্রুইফ বলেন, ‘সুপার কাপে আমরা পাঁচদিনে নয়টি ম্যাচ দেখি যা আমাদেরকে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে এবং তাদের মান নিয়ে একটা ভাল ধারণা দেয়। সেটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেপালে যাওয়ার সময় আমাদের কাছে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। সেবার আমরা তাদের কেবল দুদিন দেখেই নেপালে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন খেলোয়াড়দের সম্পর্কে মাঠের বাস্তবতায় আমাদের খুবই ভাল একটা ধারণা আছে। আমরা ৯০/৯৫ জন খেলোয়াড়কে দেখে সুপার কাপে ভাল করাদের নির্বাচিত করেছি।’
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ ফুটবল টুর্নামেন্টটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের বিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ফিক্সচার চূড়ান্ত হবে এবং এরপরই কেবল প্রতিপক্ষদের নিয়ে পুরো মনোযোগী হয়ে কাজ করবেন বলে জানান ক্রুইফ। প্রসঙ্গক্রমে তিনি এও জানান যে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে বলে নেপালের কন্ডিশন কঠিন। সেজন্য এবার তারা কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়াতে আগেভাগেই দল নিয়ে সেখানে যাবেন। আর আগামী সপ্তাহে দলটিকে ছেঁটে ২৩ জনে নামিয়ে আনলেও একটা রিজার্ভ তালিকা থাকবে।