কে হচ্ছেন উইম্বলডনের নতুন রানী?

দুজনের কেউই এখনো পর্যন্ত জিততে পারেননি কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা। একজনের সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০০৭ উইম্বলডনের ফাইনাল। অন্যজনের জন্য এটিই প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপার লড়াই। টেনিসের ওপেন যুগের ৪৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় বারের মতো আজ কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম ফাইনালে কোর্টে নামছেন এমন দুজন যাদের কারোরই নেই কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা। এমনই এক পরিবেশে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে আজ শিরোপা যুদ্ধে নামছেন মারিয়ন বারতোলি এবং স্যাবাইন লিসিকি। দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নেন মহিলা এককের দুই ফেভারিট মারিয়া শারাপোভা এবং ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। আর শেষ ষোলোতে বাদ পড়েন শিরোপাধারী সেরেনা উইলিয়ামস। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে কোর্টে নামেন এমন চারজন খেলোয়াড় যাদের কারোরই কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের অভিজ্ঞতা নেই। অর্থাত্ উইম্বল্ডন যে এবার আনকোরা কোন চ্যাম্পিয়নকেই পাচ্ছে সেটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তখনই। শেষ ষোলোতে সেরেনাকে হারানোটা যে মোটেই কোন অঘটন ছিল না পরের দুটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেটাই প্রমাণ করেন লিসিকি। সেমির লড়াইয়ে গত বুধবার চতুর্থ বাছাই অগনেইস্কা রাদওয়ানস্কাকে ৬-৪, ২-৬, ৯-৭ গেমে হারান লিসিকি। প্রথম দুটি সেট দুজন ভাগাভাগি করার পর শেষ সেটটি হয়ে ওঠে ভাগ্য নির্ধারণী। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাদওয়ানস্কাকে হারানোর পর ২৩ বছর বয়সী এ জার্মান বলেন, আমি শুধু আমার সর্বস্ব দিয়ে লড়তে চেয়েছি। আমি ভাবছিলাম, সে যতটাই এগিয়ে থাকুক না কেন আমার তারপরও জেতার সুযোগ আছে। সেরেনার বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর সেই জয়ই তাকে এমন আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে জানিয়ে লিসিকি আরো বলেন, আমি ভাবছিলাম যে বিষয়টি আমি সেরেনার বিরুদ্ধে করতে পেরেছি সেটি আমি আজকেও করতে পারবো। শুধু আমাকে ম্যাচে টিকে থাকতে হবে। ঐ ব্যাপারটা আমাকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং আমি খুব খুশি যে কাজটা ঠিকভাবে করতে পেরেছি। টেনিসের সবচে মর্যাদার আসরে এটাই এ জার্মানের সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে এ টুর্নামেন্টের ’১১ আসরে তাকে বিদায় নিতে হয় সেমিফাইনাল থেকে। তবে আজকের ম্যাচের আগে সেই পরাজয়ের কথা ভেবে মোটেই ভীত নন লিসিকি। বরং এ ম্যাচটিকে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন তিনি। লিসিকি বলেন, এটা নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। আর আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে অভিজ্ঞতার দিক থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছেন ফ্রান্সের এক নম্বর মহিলা তারকা বারতোলি। কারণ এর আগে ২০০৭ আসরের ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেবে আবার লিসিকির দিকেই পাল্লা ভারী। কারণ টুর্নামেন্টের ২৩ নম্বর বাছাই লিসিকির বিরুদ্ধে চারবার লড়াইয়ে নেমে তিনবারই হারতে হয়েছে তাকে। যার মধ্যে আছে উইম্বল্ডনের ২০১১ আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল হারও। তবে সেমিফাইনালে ক্রিস্টেন ফ্লিপকিন্সকে হারানো র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম অবস্থানে থাকা বারতোলির বিশ্বাস আজকের ফলটা অন্যরকমই হবে। কোর্ট এবং কোর্টের বাইরে নানা চড়াই-উত্রাই পেরোতে হলেও টেনিসের প্রতি তার ভালোবাসাই তাকে আজকের ফাইনালে নিয়ে এসেছে জানিয়ে বারতোলি বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে মানতে হবে আপনি সবসময়ই ভাল ফল করতে পারবেন না। আমারও তেমন কঠিন কিছু সময় গেছে। তবে আমার মনে হয় প্রতিদিন একই মানসিকতা নিয়ে অনুশীলন করা, জিমে ঘাম ঝরানো—এসবই আমাকে এখনো ফিট রেখেছে। এ জন্যই আমি আজকের ফাইনালে আসতে পেরেছি। আমার মনে হয় এগুলো আমার প্রতিদিনের পরিশ্রম, আমার বিশ্বাসের চিহ্ন বহন করে।