এইচএসসি’র জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র

জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র অলোক কুমার মিস্ত্রী বন্যপ্রাণী গবেষক (প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের অধ্যায়ঃ ০২ প্রাণিকোষ (Animal Cell) ঃ গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ - বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৪ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। প্রতিটি প্রাণিকোষ তিনটি প্রোটোপ্লাজমীয় অংশ নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে একটি প্রাণিকোষকে আবৃত রাখে। এর গঠন বড়ই চমকপ্রদ। এর ভিতর দিয়ে সহজে বিভিন্ন কোষীয় দ্রব্যাদি চলাচল করতে সক্ষম। এর গঠনশৈলীর উপর বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে। তবে ১৯৭২ সালে প্রবর্তিত মতবাদটি বিজ্ঞানীমহলে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। (ক) কোষ (Cell) কী ? ১ (খ)প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌতভিত্তি (Physical basis of life) বলা হয় কেন ? ২ (গ) আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের মধ্যে পার্থক্য লেখ। (ঘ) কোষ পর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেলটি বর্ণনা কর। ৪ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ (ক) উত্তর ঃ কোষ (Cell) ঃ কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক, যা স্বনির্ভর ও আত্মপ্রজননশীল, বৈষম্যভেদ্য পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত। এছাড়াও পূর্বতন Cell থেকে নতুন Cell সৃষ্টি হয়। (খ) উত্তর ঃ Physical basis of life বলার কারণ ঃ Cell এর অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রোটোপ্লাজম, এমন এক প্রকার অর্ধতরল পদার্থ দিয়ে তৈরি, যা বিভিন্ন সময়ে জীবের প্রয়োজনে জীবের জীবনের সকল বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে থাকে। আর এসব কারণে কোষ বিজ্ঞানী Huxley প্রোটোপ্লাজমকে Physical basis of life বলে উল্লেখ করেন। (গ) উত্তর ঃ পার্থক্যের বিষয়বস্তু আদিকোষ (Prokaryotic cell) প্রকৃতকোষ (Eukaryotic cell) ১. গঠন অত্যন্ত সরল ও ক্ষুদ্রকৃতির। তুলনামূলক দিক দিয়ে এটি জটিল প্রকৃতির ও বেশ বড়। ২. নিউক্লিয়াস সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও সুগঠিত নয়। সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও সুগঠিত। ৩. ক্রোমোসোম ক্রোমাটিন দানারূপে এর অবস্থান। প্যাঁচানো একটি সূত্রকও বটে। ৪.সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু এতে রাইবোসোম ছাড়া অন্যকোন কোষীয় অঙ্গাণুর অস্থিত্ব দেখা যায় না। মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামসহ অন্যান্য অঙ্গাণু দেখা যায়। ৫. প্লাস্টিড সুগঠিত নয়, সাইটোপ্লাজমে বিক্ষপ্ত অবস্থায় এদের দেখা যায়। এটি উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে সুগঠিত অবস্থায় থাকে। এতে জটিল প্লাস্টিড অবস্থিত। ৬. সেল ডিভিশন অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ঘটে। মাইটোসিস ও মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ঘটে। (ঘ) উত্তর ঃ কোষ পর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেল ঃ উদ্দীপকের আলোকে কোষপর্দার গঠন সংক্রান্ত আধুনিকতম মডেল বলতে আমরা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে কোষ বিজ্ঞানী S. J. Singer এবং G.L. Nicolson কর্তৃক প্রবর্তিত প্লাজমামেমব্রেনের গঠন সংক্রান্ত ফ্লুইড মোজাইক মডেলকেই বুঝি। নিম্নে মডেলটি উপস্থাপন করা হলো ঃ বিজ্ঞানীদ্বয়ের বর্ণানা অনুসারে, প্লাজমামেমব্রেন ফসফোলিপিড ও প্রোটিন অনু নিয়ে গঠিত। আর এই ফসফোলিপিড সাধারণতঃ দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেক স্তরের ফসফোলিপিড অণুগুলো দুইপ্রান্ত বিশিষ্ট। একটি প্রান্তকে পানিগ্রাহী মস্তক ( hydrophilic head) এবং অন্যটিকে পানিবিদ্বেষী লেজ ( hydrophobic tail) বলে। ফসফোলিপিড অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টরল অণু থাকে। ফসফোলিপিড ও কোলেস্টরল অণুর মধ্যে ভাসমান থাকে স্ফীতকায় অনেক প্রোটিন অনু। আর অনুগুলো থাকে অনিয়ত বিন্যস্ত। বিন্যাসের ভিত্তিতে প্রোটিন অনু ৩ ধরনের হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ঃ প্রান্তীয় প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বহিঃ বা অন্তঃতল সংলগ্ন প্রোটিন অন্তর্নিহিত প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে এবং আন্তঃ ঝিল্লি প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিডের দুই স্তর জুড়েই থাকে। ফসফোলিপিড অণুগুলো সব সময় সচল থাকে, কাঁপে এবং পরস্পরের সঙ্গে ঠোকাঠুকি করে লাফিয়ে ওঠে। তারপর স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে। বিল্লিকে তখন তরল পদার্থের মতো মনে হয়। অন্যদিকে, ঝিল্লিকে পৃষ্টতল থেকে দেখলে পোটিন অণুগুলোকে মোজাইকের মতো দেখায়। আর এ অবস্থাকে এক কথায় বোঝানোর জন্য ঝিল্লির মডেলের নাম হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল। অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সংঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সব সময় ঝিল্লির বর্হিতলে অবস্থান করে মাত্র। অনুশীলন পাতা সম্পর্কে আপনার যেকোনো পরামর্শ জিজ্ঞাসা ও মতামত জানাতে ফোন ০১৭১৪৭০৫৭২৭ অথবা ই-মেইল anushilon.ittefaq10@gmail.com