আশা বাঁচিয়ে রাখলো ভারত

দুই ম্যাচ পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। গত শুক্রবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তারা বৃষ্টি আইনে ১০২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ভারত। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার পথ অনেকাংশেই কঠিন করে ফেলে ভারত। তাই ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে তৃতীয় ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প পথ খোলা ছিল না টিম ইন্ডিয়ার সামনে। তবে সেই পরীক্ষায় বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে তারা। পুরো ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপর কর্তৃত্ব বজায় রেখে বড় জয়ের স্বাদ পায় ভারত। তবে টস জয়ের হাসি হেসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজই। তাই ক্যারিবীয়দের সিদ্বান্তে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। উদ্বোধনী জুটিতে শতরানের জুটি গড়েন তারা। শেষ পর্যন্ত ২৩.১ ওভারে ১২৩ রানে থামে এই জুটি। ৬৯ রান করে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ধাওয়ান। ৭৭ বল মোকাবেলা করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজান তিনি। ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কার মার। ধাওয়ানের ফিরে যাবার কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফিরেন রোহিতও। অর্ধশতক থেকে ৪ রান দূরে থাকতে আউট হন রোহিত। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে বেকায়দায় পড়ে যায় ভারত। কারণ এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়না ও দীনেশ কার্তিককেও হারায় টিম ইন্ডিয়া। রায়না ১০ ও কার্তিক ৬ রানে ফিরেন। বড় রানের ভিত পেয়ে হঠাত্ চার উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় ভারত। কিন্তু অন্যপ্রান্তে আশার আলো হিসেবে জ্বলে ছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির অবর্তমানে দায়িত্ব পাওয়া বিরাট কোহলি। ছয় নম্বরে নামা মুরালি বিজয়কে নিয়ে আবারো ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হন। তবে এসময় মারমুখী ব্যাট চালান বিজয়। শেষ পাওয়ার প্লে-এর সুবিধাটা কাজে লাগাতেই বিধ্বংসী রূপ নেন বিজয়। সুযোগটাকে ভালোই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। পাওয়ার প্লে-এর শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আউট হবার আগে ৫টি বাউন্ডারিতে ১৮ বলে ২৭ রান করেন বিজয়। এরপর কোহলির সাথে উইকেটে যোগ দেন রবীন্দ্র জাদেজা। তবে ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে কিছু করতে পারলেন না তিনি। মাত্র ৬ রানে বিদায় নেন জাদেজা। তখন দলের স্কোর ছিল ৪১.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২২১। এমন অবস্থায় বড় গড়ার স্বপ্ন কেউ না দেখলেও ভারত ঠিকই দেখেছে। কারণ তখনও উইকেটে ছিলেন কোহলি। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে দলের স্কোরটাকে ৭ উইকেটে ৩১১ রানে নিয়ে গেছেন কোহলি। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৩ বলে ১০২ রানে আউট হন কোহলি। ষষ্ঠ উইকেটে কোহলিকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেয়া রবীচন্দ্রন অশ্বিন অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। কোহলি ও অশ্বিনের কাছ থেকে দল পায় ৯০ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৫১ রানে ২ উইকেট নিয়েছে টিনো বেষ্ট। জয়ের জন্য ৩১২ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে এ ম্যাচেও বড় ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ১৪ রানে ড্যাসিং ওপেনার ক্রিস গেইলকে হারায় ক্যারিবীয়রা। মাত্র ১০ রান করে ভারতীয় পেসার ভুবেনশ্বর কুমারের শিকার হন গেইল। এরপর তিন নম্বরে নামা ড্যারেন ব্রাভোকেও দ্রুত বিদায় করেন ভুবেনশ্বর। মাত্র ১ রান করেন ব্রাভো। ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব নেন আরেক ওপেনার জনসন চালর্স ও মারলন স্যামুয়েলস। ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তবে মাঝে বাধ সাধে বৃষ্টি। ফলে বিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে খেলা। বৃষ্টি শেষে খেলা আবার শুরু হলে নতুন টার্গেট পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য ৩৯ ওভারে ২৭৪ রান করতে হবে ক্যারিবীয়দের। আর তাতেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে তারা। ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। শেষপর্যন্ত ১৭১ রানেই অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন চালর্স। এছাড়া কেমার রোচ ৩৪ ও সুনীল নারিন করেন ২১ রান। ভারতের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ভুবেনশ্বর ও উমেশ যাদব। ম্যাচের সেরা হয়েছেন কোহলি। এই জয়ে ৩ খেলায় ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করলো ভারত। আর এক ম্যাচ কম খেলা শ্রীলংকার সংগ্রহেও আছে ৫ পয়েন্ট। ৩ খেলায় অংশ নিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। - বাসস/এএফপি