ফুটবলারদের সংবর্ধিত করলো শেখ রাসেল

শুধু ট্রেবলেই থেমে না গেলে উত্সবটা আরো জমজমাট হতে পারতো চলতি মৌসুমে বিস্ময় জাগানো দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের। অথচ সুপার কাপের শুরুতেও ক্লাবটির পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছিল মৌসুমের সবকটি ট্রফি জিতে নয়া ফুটবল ইতিহাস গড়বে তারা। কিন্তু সুপার কাপের ফাইনালে উঠে হোঁচট খাওয়ায় শেখ রাসেলের আর ইতিহাস গড়া হলো না। তারপরও এক মৌসুমে তিন শিরোপা জয় ও একটিতে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্বও বিশাল। তাইতো দলটি গতকাল বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) টাওয়ারের অডিটরিয়ামে এক জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেয়। বিজয় উত্সবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সহসভাপতি বাদল রায়, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের কর্মকর্তারা। এছাড়াও ক্লাব সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী, ডাইরেক্টর-ইন-চার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাবলু ও দলের কোচ এবং সকল খেলোয়াড় উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। দলের ভালো ফলাফলে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি সেই খেলোয়াড়রাই এদিন ছিলেন বেশি উচ্ছ্বসিত। তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের বহি:প্রকাশ, বিজয়ের ছাপ। সুপার কাপ শিরোপা হারিয়ে তারা মোটেও ব্যথিত নয়। বরং নতুন করে এগিয়ে যেতে চান তারা। মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘সুপার কাপে আমরা ভাগ্যের কাছে হেরে গেছি। ম্যাচের পুরো সময়ে সমান তালে লড়লেও টাইব্রেকারে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি। মোহামেডান ভালো খেলে শিরোপা জয় করেছে। আমরাও খারাপ খেলিনি। কিন্তু গোলের খেলা ফুটবলে আমরা সময়মত গোল করতে পারেনি। যে কারণে শিরোপা হারাতে হয়েছে। মোহামেডান গোল করতে পেরেছে বলেই শিরোপা জয় করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়তে পারিনি বলে মনে দু:খ নেই, রেকর্ডতো গড়েছি। এক মৌসুমে তিন শিরোপা জয় এবং অন্যটিতে রানার্সআপ হয়েছি।’ অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য দলের প্রশংসা করে বলেন, ‘সতীর্থরা সিরিয়াস ছিল বলেই মৌসুমটা ভালো কেটেছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম এবার সব শিরোপা ঘরে তুলে শতভাগ সফলতা দেখাবো। সে লক্ষ্যে ভালোই এগিয়ে ছিলাম। সুপার কাপের ফাইনালে গিয়ে ভাগ্যের কাছে হার মেনেছি। এখান থেকেই আমরা শিক্ষা নিয়েছি, ভবিষ্যতে আরো ভালো করার। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই আমাদেরকে পুরস্কৃত করার জন্যে। ট্রেবল জয়ের পরে তিনি আমাদের দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লক্ষ করে টাকা দিয়েছেন।’ দেশ সেরা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন,‘ খুব ভালো লাগছে ট্রিপল জয়ী দলের একজন সদস্য হতে পেরে। আমরা ভালো খেলেছি বলেই সফলতা পেয়েছি। কোচ মারুফ ভাইকে ধন্যবাদ তিনি আমাদেরকে সঠিক গাইড লাইন দিয়েছেন।’