ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল আজ
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৭
নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যাওয়া হল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ফাইনালে নাম লিখিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার আপ শ্রীলংকা। পোর্ট অব স্পেনে আজ অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটির ফাইনাল। গত মঙ্গলবার রাতে টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে টিম ইন্ডিয়া ৮১ রানে হারায় লংকাকে। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দু’দল হয়ে ফাইনালের টিকিট পায় ভারত ও শ্রীলংকা। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে কিছু হিসেব-নিকেশ নিয়ে খেলতে নামে ভারত ও শ্রীলংকা। ম্যাচ না থাকলেও সেই হিসাবে প্রখড়ভাবে জড়িয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজও। কারণ ভারত এ ম্যাচে হেরে গেলেই শ্রীলংকাকে নিয়ে ফাইনালে উঠে যাবে ক্যারিবীরা। আর যদি ভারত জিতে যায় তবে ফাইনালে শ্রীলংকার প্রতিপক্ষ হবে তারাই। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে দিয়ে ফাইনালে নাম লেখালো ভারত ও শ্রীলংকা।
পোর্ট অব স্পেনে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলংকা। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো করলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি টিম ইন্ডিয়ার দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। রোহিতের সাথে ৩৮ বলে ২৭ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেন ধাওয়ান। নিজে করেন ১৬ বলে ১৫ রান। ধাওয়ানের বিদায়ের পর ইনিংসটাকে ভালোভাবেই সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিত ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি। জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি ছোঁয়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দলীয় ৭৬ রানে কোহলির উইকেট উপড়ে ফেলে শ্রীলংকাকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। ৫২ বলে ৩১ রান করে আউট হন আগের ম্যাচের সেরা কোহলি। এরপর রোহিতের সাথে ২২ গজে জুটি বাঁধেন দিনেশ কার্তিক। নিজের ইনিংসের শুরুটা আক্রমণাত্মকই করেন কার্তিক। প্রথম বলে কোন রান নিতে না পারলেও, দ্বিতীয় বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান কার্তিক। তবে ইনিংসটাকে খুব বেশি টানতে পারেননি তিনি। কোহলির উইকেট উপড়ে ফেলা হেরাথই ইতি টানের কার্তিকের ইনিংসের। ভারতের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে ১২ রান করেন কার্তিক।
ভারতের তৃতীয় উইকেট পতনের ফলে উইকেট আসেন সুরেশ রায়না। তবে বেশিক্ষণ ক্রিজে সময় পার করা সম্ভব হয়নি তার ও অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে অপরাজিত থাকা রোহিতের। কারণ এরপরই বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এসময় ভারতের স্কোর ছিল ২৯ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৯ রান। তবে ওখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। কারণ বৃষ্টির কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় টিম ইন্ডিয়ার ইনিংসের ইতি ঘটে। এসময় রোহিত ৪৮ ও রায়না ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর বৃষ্টি কমলে বৃষ্টি আইনে ম্যাচ জয়ের জন্য ২৬ ওভারে ১৭৮ রানের টার্গেট পায় শ্রীলংকা। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে মারমুখী ব্যাটই চালায় শ্রীলংকা। ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বরের করা প্রথম ওভার থেকে মাত্র ১ রান তুলতে পারলেও, উমেশ যাদবের করা দ্বিতীয় ওভার থেকে ১৩ রান তুলে নেন লংকান দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। তবে নিজেদের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মারমুখী ভাবটা ধরে রাখতে পারেননি তারা।
ওই ওভারে শ্রীলংকা ইনিংসে জোড়া আঘাত হানেন ভুবনেশ্বর কুমার। পরপর দু’বলে থারাঙ্গা ও ইনফর্ম কুমার সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন ভুবনেশ্বর। এখানেই নিজের কারিশমা বন্ধ রাখেননি তিনি। কিছুক্ষণ পর শ্রীলংকার আরও দু’উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ম্যাচ জয়ের পথ তৈরি করে ফেলেন ভুবনেশ্বর। এবার ঐ তরুণ পেসারের শিকার হন জয়াবর্ধনে ও থিরিমানে। ৩১ রানে ৪ উইকেট হারানো শ্রীলংকাকে এরপর ট্রাকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন দিনেশ চান্ডিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ১০ রান করা ম্যাথুসকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা।
ম্যাথুসের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলংকা। ফলে নির্ধারিত ওভারের ৮ বল বাকী থাকতেই ৯৬ রানে অলআউট হয় তারা। লংকানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন চান্ডিমাল। ভারতের পক্ষে ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন ভুবনেশ্বর। এই ম্যাচ থেকে বোনাস পয়েন্ট পাওয়ায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠলো ভারত। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সমান ৯ পয়েন্ট সংগ্রহে থাকলেও রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনালে নাম লেখালো শ্রীলংকা। -বাসস