তরুণদের গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী পেলগ্রিনি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২২:০৬
ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ ম্যানুয়েল পেলগ্রিনি জানিয়েছেন, ক্লাবের কোচ হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব হবে তরুণ প্রতিভাবানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। এ মৌসুমেই মালাগা থেকে সিটিতে যোগ দেয়া পেলগ্রিনি আরো বলেন, এ কাজটা সঠিকভাবে করতে পারলে ভবিষ্যতে দল বদলের বাজারে সিটিকে এখনকার মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে না।
শেখ মানসুরের আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ২০০৮ সালে সিটি কিনে নেয়ার পর থেকে, গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে দলবদলের বাজারে তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করে আসছে। কিন্তু ক্লাবগুলোর মধ্যে আর্থিক সমতা আনয়নের জন্য প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ নতুন নীতি চালু করায় সিটি আর এখন আগের মতো দেদার অর্থ খরচ করতে পারছে না। তাই হয়তো তারকা খেলোয়াড় কেনার চাইতে তারকা তৈরির ব্যাপারেই বেশি মনোযোগী হচ্ছে সিটি। রবার্তো মানচিনির জায়গায় আসার পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পেলগ্রিনি তাই সেরকম কিছুরই ইঙ্গিত দিলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। আমি বলতে চাচ্ছি আগামী কয়েক বছরে আমাদের অবশ্যই ভিন্ন কিছু করতে হবে।’
নিজের পরিকল্পনাটা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যাও করেছেন এই চিলিয়ান কোচ। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর তিন-চারজন দামি খেলোয়াড় কেনাটা আসলে অসম্ভব একটা ব্যাপার। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এমন একটা দল দরকার যারা কিনা একই সাথে মূল দল এবং অনূর্ধ্ব ২১ দল হিসেবে কাজ করতে পারবে। আমাদের এখনো উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। রবার্তো মানচিনি এবং অন্যান্য কোচেরা যেটা করে গেছেন আমরা সেগুলোই চালিয়ে যেতে চাই। একই সাথে যোগ করতে চাই নতুন নতুন কিছু বিষয়।’
গত ২০১১-১২ মৌসুমেই দলকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানোর পরও গত মৌসুমের ব্যর্থতা কোচের পদ থেকে ছিটকে দিয়েছে মানচিনিকে। তাই নতুন কোচের কাছ থেকে সিটি কর্তৃপক্ষ যে বেশি বেশি শিরোপা দাবি করবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। আর নিজের মূল কাজ অর্থাত্ দলকে আরো বেশি ট্রফি এনে দেয়ার এই দায়িত্বের বিষয়েও পূর্ণ ওয়াকিবহাল আছেন পেলগ্রিনি। ৫৯ বছর বয়সী এই কোচের আশাবাদ, তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে সাফল্যও ধরা দেবে সহজেই। তিনি বলেন, ‘নতুন কোচের কাছ থেকে আপনি অবশ্যই তাত্ক্ষণিক সাফল্য আশা করবেন। আমরা যেভাবে তরুণদের নিয়ে কাজ করছি এবং করে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি, তাতে যদি দলের সাফল্য আসে সেটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে। (তবে মনে রাখতে হবে) আমি এখানে শুধু ট্রফি জিততে আসিনি, তরুণদের নিয়ে কাজ করাটাও এখানে আসার বড় একটা কারণ।’