পড়া মনে রাখার টিপস
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ১৭:১৩
ছাত্র-ছাত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সব সময় অভিযোগ করে যে, তাদের পড়া মনে রাখতে কষ্ট হয়। অনেক পড়াশোনা করার পরেও পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়। অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও স্মরণশক্তি দুর্বলতার জন্য সেসব প্রশ্নের উত্তর সুন্দরভাবে দেয়া হয় না। মানুষের মস্তিষ্কের দুই ভাগ। এক ভাগ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম, অপরভাগ পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম। সেন্টাল নার্ভাস সিস্টেমের আবার অনেকগুলো ভাগ রয়েছে, এর সাথে রয়েছে নানা রকম কাজ। তার একটি মেমোরি বা স্মরণশক্তি। পৃথিবীতে বেশি আইকিউ নিয়ে জন্মগ্রহণ কেউ করে না, তাদের ব্যবহারিক আচরণের ওপর নির্ভর করে বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ। যত চর্চা করা যাবে তত আইকিউ বেড়ে যাবে। তবে সাধারণ আইকিউ ৯০ থেকে ১১০। ৯০-এর নিচে যাদের আইকিউ থাকে তারা সাধারণ অর্থে চলনসই বুদ্ধিমান। বেশির ভাগ লোকজনের আইকিউ ৯০-১১০। আবার কারো কারো আইকিউ ১১০-এর ওপরে। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আইকিউ ১১০-এর উপরে ছিল।
বেশি আইকিউ থাকা আমরা আবার ঠাট্টা করে পাগল বলে থাকি। আমরা আমাদের মস্তিষ্কের ন্যূনতম ১০ ভাগ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। এটা এই নয় যে, ইচ্ছা করলে ১২ ভাগ ব্যবহার করতে পারব, নির্ভর করে সম্পূর্ণ নানা রকম চর্চার ওপরে। একেক পেশায় এই চর্চা একেক রকম। কেউ ডাক্তারি পেশায় আইকিউ ভালো থাকে, ব্যবহারিক চর্চার জন্য সে বিখ্যাত ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ হয়, কেউ বিজ্ঞান পেশায় ভালো থাকে ব্যবহারিক চর্চার জন্য সে হয় ভালো বিজ্ঞানী। তেমনি চর্চার ফলেই একজন ছাত্র সাধারণ মান থেকে মেধাবী ছাত্রে উন্নীত হতে পারে। আমাদের দেশে মাত্র কিছুদিন হলো সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছে। পূর্বে এটি গতানুগতিক ধরনের ছিল। সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছাত্র-ছাত্রীর একটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা থাকা দরকার এবং এর ফলেই সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় এবং ছাত্র-ছাত্রীকে আমরা মেধাবী বলি।মুখস্থগত বিদ্যা আজকালকের দিনে মেধাবী চর্চায় কম গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা ছাড়াও নানা রকম জিনিস আমাদের মনে রাখতে হয় আমাদের জীবনযাত্রায়। এবার কিছু মনে রাখার কৌশল জানানো হলো-
১. আত্মবিশ্বাস
আত্মবিশ্বাস যেকোনো কাজে সফল হওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত। মনকে বোঝাতে হবে পড়াশোনা অনেক সহজ বিষয়-আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। তাহলে অনেক কঠিন পড়াটাও সহজ মনে হবে। আত্মবিশ্বাসের মাত্রা আবার কোনো রকমেই বেশি হওয়া চলবে না। অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবের সাথে নিজেকে তুলনা করে চলনসই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোনো বিষয় পড়তে যাওয়া ভালো। একবার পড়েই মনে রাখা কঠিন। তাই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পড়ে এর সম্বন্ধে একটি ধারণা লাভ করার পরেই মনে রাখা সহজ হয়। আবার কোনো বিষয়ে ভয় ঢুকে গেলে সেটা মনে রাখা বেশ কঠিন। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত অঙ্ক ও ইংরেজিকে বেশি কঠিন মনে করে। তাদের উচিত হবে বইয়ের প্রথম থেকে পড়া বুঝে বুঝে পড়া এবং পড়ার পাশাপাশি লেখার অভ্যাস করা। লেখাপড়া মনে রাখার একটি বড় পদক্ষেপ। এই জন্যই বলা হয় লেখাপড়া। আর পড়ালেখা করার উত্তম সময় একেকজনের জন্য একেক রকম। যারা সাধারণত হোস্টেলে থাকে তাদের ক্ষেত্রে রাত জেগে পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। অনেকের কাছে আবার বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে, কেউ কেউ আবার সকালে পড়তে ভালোবাসেন। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে যেহেতু ঘুমের পরে মন ও মনন পরিষকার থাকে সেহেতু ভোর হচ্ছে পড়াশোনার জন্য ভালো সময়।
২. কনসেপ্ট ট্রি বা ধারণার গাছ
পড়া মনে রাখার এটি একটি কৌশল। কোনো বিষয়ে পড়া মনে রাখার জন্য সম্পূর্ণ পড়াটি পড়ে নেয়ার পর সাতটি ভাগে ভাগ করতে হয়। এবং প্রতিটি ভাগের জন্য এক লাইন করে সারমর্ম লিখতে হয়। ফলে পড়ার বিষয়টি সাতটি লাইনে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রতিটি লাইন একটি পাতায় লিখে অধ্যায় অনুযায়ী একটি গাছ তৈরি করে গাছের নিচ থেকে ধারাবাহিকভাবে পাতার মতো করে সাজাতে হবে। যাতে এক দৃষ্টিতেই পড়ার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মনে পড়ে যায়। এই পাতাগুলোতে চোখ বোলালে লেখাটি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে। বাংলা, ভূগোল ও সমাজশাস্ত্রের জন্য এই কৌশলটি অধিক কার্যকর।
৩. কি ওয়ার্ড মূল শব্দ
যেকোনো বিষয়ের কঠিন অংশগুলো ছন্দের আকারে খুব সহজে মনে রাখা যায়। যেমন-রঙধনুর সাত রঙ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘বেনীআসহকলা’ শব্দটি মনে রাখা। প্রতিটি রঙের প্রথম অক্ষর রয়েছে শব্দটিতে। এমনিভাবে ত্রিকোণমিতির সূত্র মনে রাখতে ‘সাগরে লবণ আছে, কবরে ভূত আছে, ট্যারা লম্বা ভূত’ ছড়াটি মনে রাখা যেতে পারে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সাইন=লম্ব/অতিভুজ (সাগরে লবণ আছে), কস=ভূমি/অতিভুজ (কবরে ভূত আছে), ট্যান=লম্ব/ভূমি (ট্যারা লম্বা ভূত)। মেডিকেলে আমরা ভেগাসনার্ভের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা মনে রাখতে একটি পদ্য লাইনের সাহায্য নিতাম। তা হলো ঃ ‘মেরিনা আমার প্রাণের বেদনা শুনিয়া রাগিয়া কাঁদিয়া কাঁটিয়া ওযে পালায়ে চলে গেল হায়’। এতে ভেগাসনার্ভের সবগুলো শাখাকে মনে রাখা যায়। যেমন ঃ মেরিনাতে- মেনিনজিয়াল, আমার-অরিকুলার, প্রাণের- ফেরিনজিয়াল এভাবে সবগুলোর শাখা আমরা ছড়ার মাধ্যমে মনে রাখতে পারি। মেধাবী ছাত্ররা নিজেই নিজের মতো করে নানা রকম ছড়া তৈরি করে নেবে।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল