কলড্রপ ও সেবার মান লইয়া প্রশ্ন

টেলিযোগাযোগ খাতে ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ নীতিমালার অনুমোদন হইয়াছে। বলা হইয়াছে যে, গ্রাহকসেবার অসন্তুষ্টি দূর করিতে মানসম্মত সেবা তথা কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা ভূমিকা রাখিবে। কিন্তু বিস্তর অভিযোগ রহিয়াই যাইতেছে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে। কলড্রপ হইতেছে অহরহ। ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, ইন্টারনেটের ধীরগতির সমস্যা থাকিয়াই যাইতেছে। কিউওএস নীতিমালায় বলা হইয়াছে, ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি হইতে হইবে ৭ এমবিপিএস (মেগা বাইটস পার সেকেন্ড) এবং থ্রিজি ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২ এমবিপিএস। অন্যদিকে মোবাইল ফোনে কথা বলিবার (ভয়েস কল) সময় কলড্রপের হার হইতে পারিবে ২ শতাংশের কম। ইহার চাইতে বেশি হইলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করিতে পারিবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

যেহেতু মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা সবচাইতে বেশি ভয়েস কল সার্ভিস গ্রহণ করিয়া থাকেন, সেই কারণে কলড্রপের সমস্যাটি তাহাদের সবচাইতে বেশি মাথাব্যথার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। কিছুদিন পূর্বে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হইতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর অবধি কলড্রপের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাহাতে জানা যায়, এই সময়ে কলড্রপের সংখ্যা ছিল ২২২ কোটি। ২০১৬ সালের জুনে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মোবাইল সংযোগ হইতে দিনে একের বেশি কলড্রপ হইলে এক মিনিট টকটাইম গ্রাহককে ফিরাইয়া দিতে হইবে এবং তাহা এসএমএসের মাধ্যমে জানাইতে হইবে। কিন্তু মুশকিল হইল, অপারেটররা নানা রকম কারসাজির মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বীকারই করিতে চাহে না যে, কলড্রপ হইতেছে। ফলে অপারেটরদের পক্ষ হইতে এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে দেখা যায় না। একটি মাত্র অপারেটর গত বত্সরের শেষ দিকে তাহাদের ৬০ লক্ষ মিনিট কলড্রপের হিসাব বিটিআরসিতে জমা দিয়াছিল। বাকি তিনটি অপারেটর কোনো হিসাবই নাকি জমা দেয় নাই! অথচ তাহারা বলিতেছেন যে, কলড্রপের ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেওয়া হইতেছে। এইক্ষেত্রে অভিযোগ রহিয়াছে যে, অপারেটররা কলড্রপ হইতে কয়েক শত কোটি টাকা হাতাইয়া লইয়াছে। ওই টাকার কোনো রাজস্বও সরকার পাইতেছে না। নিয়মানুযায়ী প্রতি মাসের কলড্রপের হিসাব বিটিআরসিতে জমা দেওয়ার কথা থাকিলেও অভিযোগ রহিয়াছে যে, কোনো অপারেটরই কলড্রপের হিসাব জমা দিতেছে না। সার্বিকভাবে বিটিআরসির কোয়ালিটি অব সার্ভিস বিষয়ে মনিটর করিবার কথা রহিয়াছে। কিন্তু তাহাও ঠিকমতো করা হইতেছে কিনা—এই ব্যাপারে প্রশ্ন রহিয়াছে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মনে।

ইতোমধ্যে নম্বর না বদলাইয়া অপারেটর পরিবর্তন তথা এমএনপি সেবা চালু হইয়াছে। দেরিতে চালু হইলেও ইহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। কারণ যেই অপারেটরের সেবার মান খারাপ হইবে সেই অপারেটর হইতে গ্রাহকরা তাহার বিদ্যমান নম্বরটি না বদলাইয়াই অন্য অপারেটরে চলিয়া যাইতে পারিবেন। আমরা আশা করিব, মোবাইল অপারেটররা প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিবার স্বার্থেই তাহাদের সেবার মান উন্নত করিবে। বিটিআরসিও তত্পর হইবে তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে।