এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়াছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি খোলাখুলিই বলিয়াছিলেন যে, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করিয়া যাহারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করিতেছেন, তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করিয়াছিলেন তিনি। অনুরূপ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যানও। শুধু তাহাই নহে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অভিযানও চালাইয়াছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করিয়াছেন এবং আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করিয়াছেন। ভুক্তভোগী অভিভাবকগণ দুদকের এই অভিযানকে স্বাগত জানাইয়াছেন। দুদক বলিয়াছে, অভিযান অব্যাহত থাকিবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও দুদক-এর অভিযান—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করিয়া চলিতেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট হইতে যথেচ্ছ অর্থ আদায়। সর্বশেষ গত সোমবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকার জন্য কোনো রসিদও দেওয়া হইতেছে না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য হইতে ইহা স্পষ্ট যে সারাদেশের চিত্রও খুব একটা ভিন্ন নহে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ শুধু নহে, গত ৮ নভেম্বর আন্তঃশিক্ষা বোর্ডও এসএসসি পরীক্ষার ফরমপূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় না করার নির্দেশ দিয়াছিল। উক্ত নির্দেশের পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগের জন্য ফি-ও নির্ধারণ করিয়া দেওয়া হইয়াছিল সুস্পষ্টভাবে। প্রদত্ত নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হইয়াছিল যে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমপূরণ ফি’র বাহিরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাইবে না। বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার কথাও বলা হইয়াছিল উক্ত নির্দেশনায়। বিভাগভিত্তিক ফি নির্ধারণ করিয়া দেওয়া সত্ত্বেও নানা অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি ফি আদায়ের অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নহে—শিক্ষামন্ত্রী নিজেও তাহা স্বীকার করিয়াছেন প্রকারান্তরে। তিনি বলিয়াছেন, শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে যাহারা অতিরিক্ত টাকা নিয়াছেন, ওই টাকা ফেরত দিতে হইবে এবং ইহার সহিত জড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ভূমিকা ভুক্তভোগীদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। কিন্তু তাহার পরও প্রশ্ন থাকিয়া যায়। ইহা সুবিদিত যে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে অতীতের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নহে। এইবার যে ফেরত দিবে সেই নিশ্চয়তাই-বা কোথায়? সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হইল, মূলত সরকারের অর্থে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিই যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মানে তাহা হইলে জনগণ ভরসা রাখিবে কোথায়? জাতির ভবিষ্যত্ নির্মাণের গুরুদায়িত্ব যাহাদের উপর অর্পিত তাহাদের নিকট হইতে এই ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত শুধু নহে, নিন্দনীয়ও বটে। সরকার এই ব্যাপারে কঠোর হইবেন—ইহাই প্রত্যাশিত।